ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স (পাশ,ফেইল,ইয়ারলস) বিস্তারিত

আজকে আমরা জানতে পারব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স (পাশ,ফেইল,ইয়ারলস) বিস্তারিত তথ্য।

এইগুলো ছোট খাটো বিষয় হলেও সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও এমন অনেকেই আছেন।

যারা ডিপ্লোমা পড়াকালীন এসব বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা রাখে না। সুতরাং তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেল।

 

আজকে আমরা জানতে পারব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এর ক্ষেত্রে কিভাবে পাশ করানো হয়?

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এর ক্ষেত্রে কিভাবে ফেইল নির্ধারণ হয়?

 

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এর ক্ষেত্রে কিভাবে ইয়ারলস বা ড্রপ নির্ণয় করা হয়? ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়।

তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের আর্টিকেলঃ

 

ডিপ্লোমায় (পাশ,ফেইল,ইয়ারলস) বিস্তারিতঃ

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চারবছর মেয়াদী (৮সেমিস্টার বিশিষ্ট) কোর্স।

প্রতি সেমিস্টারের পূর্ণ মেয়াদ হচ্ছে ৬ মাস। প্রতি ৬ মাস পর পর সেমিস্টার পরিবর্তন হয়।

 

প্রতি সেমিস্টারে একটি পর্ব মধ্য/মিডটার্ম পরীক্ষা হবে এবং একটি পর্ব সমাপনী/ফাইনাল পরীক্ষা হবে।

প্রথমত ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করার জন্য দু ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

যেমন-(১) সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (২) বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

প্রতি সেমিস্টার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণাঃ

আগেই বলেছি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চারবছর মেয়াদী, ৮সেমিস্টার বিশিষ্ট একটি কোর্স।

প্রতি বছর ২টি করে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা হবে।

 

এছাড়া আরও বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে প্রতি ৬ মাস পর পর সেমিস্টার পরিবর্তন হয়।

প্রতি সেমিস্টারে নতুন নতুন বই পড়তে হয়।

 

সাধারণত প্রতি সেমিস্টারে ৬-৭টি করে বই থাকে, তারমধ্যে ৫-৬টি করে পরীক্ষা দেওয়া লাগে।

ডিপার্টমেন্ট বেদে কম বেশি হয়ে থাকে পরীক্ষার বিষয়গুলা।

 

প্রতি সেমিস্টার শুরুর ৩য় মাসে পর্ব মধ্য পরীক্ষা হয়ে থাকে, পর্ব মধ্য পরীক্ষার সিলেবাস বই এর অর্ধেক অধ্যায় পর্যন্ত হয়ে থাকে।

 

এবং সেমিস্টার শুরুর ৫ম মাসের মাঝামাঝি সময়ে পর্ব সমাপনী পরীক্ষা হয়ে থাকে।

পর্ব সমাপনী পরীক্ষার সিলেবাস হচ্ছে সম্পূর্ণ বই।

 

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এ মার্কিং সিস্টেমঃ

পর্ব মধ্য পরীক্ষার রেজাল্ট, জব, এসাইনমেন্ট, ভাইবা এবং ক্লাসের উপস্তিতির উপর নির্ভর করে স্যাররা পর্ব সমাপনী বা

ফাইনাল পরীক্ষার প্রাক্ট্রিক্যাল মার্ক দিয়ে থাকে।

 

এবং সকল সেমিস্টারের মার্কের ভিত্তিতে ফাইনাল রেজাল্ট বের হয়। প্রত্যেক সেমিস্টারের রেজাল্ট একটি % এ অন্তর্ভূক্ত থাকে।

এবং মোট ৮ টি সেমিস্টারের ৮ রকম % এর মাধ্যমে ৮টা সেমিস্টারের পর একটা সিজিপিএ নির্ধারণ করা হয়।

 

আর এই সিজিপিএ -ই হলো ডিপ্লোমা’র মেইন রেজাল্ট।

নিচে আমরা কোন সেমিস্টারের কত মার্ক তা উল্লেখ্য করে দিয়েছি।

প্রতি সেমিস্টারের জন্য কিছু % রয়েছে।

যেমনঃ

 

১ম সেমিস্টার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সঃ

১ম পর্ব বা ১ম সেমিস্টারের রেজাল্টকে ৫% ধরা হয়।

অর্থাৎ ১ম সেমিস্টারে আপনি যত মার্ক পেয়েছেন সেই অনুস্বারে ৫% এর ভিতরেই আপনি % পাবেন।

যেমন ফুল মার্ক পেলে আপনি ৫% পাবেন, তারপর ৪.৫০% এইভাবেই ভাগ হয়।

 

২য় সেমিস্টারঃ

২য় পর্ব বা ২য় সেমিস্টারের রেজাল্টকে ৫% ধরা হয়।

অর্থাৎ ২য় সেমিস্টারে আপনি যত মার্ক পেয়েছেন সেই অনুস্বারে ৫% এর ভিতরেই আপনি % পাবেন। একেবারেই প্রথম

সেমিস্টারে মতোই একই ভাবে % ভাগ করা হয়।

 

৩য় সেমিস্টার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সঃ

৩য় পর্ব বা ৩য় সেমিস্টারের রেজাল্টকে ৫% ধরা হয়।

অর্থাৎ ৩য় সেমিস্টারে আপনি যত মার্ক পেয়েছেন সেই অনুস্বারে ৫% এর ভিতরেই আপনি % পাবেন। একেবারেই প্রথম এবং

 

দ্বিতীয় সেমিস্টারে মতোই একই ভাবে % ভাগ করা হয়।

 

৪র্থ সেমিস্টারঃ

৪র্থ পর্ব বা ৪র্থ সেমিস্টারের রেজাল্টকে ১০% ধরা হয়।

 

অর্থাৎ ৪র্থ সেমিস্টারে আপনি যত মার্ক পেয়েছেন সেই অনুস্বারে ১০% এর ভিতরেই আপনি % পাবেন। একেবারেই প্রথম

সেমিস্টারে মতোই একই ভাবে % ভাগ করা হয়।

তবে এক্ষেত্রে ফুল মার্ক পেলে ১০%, ৯%, ৮% …। এইভাবেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

 

৫ম সেমিস্টার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সঃ

৫ম পর্ব বা ৫ম সেমিস্টারের রেজাল্টকে ১৫% ধরা হয়।

অর্থাৎ ৫ম সেমিস্টারে আপনি যত মার্ক পেয়েছেন সেই অনুস্বারে ১০% এর ভিতরেই আপনি % পাবেন। একেবারেই প্রথম, ২য়,

 

৩য়, ৪র্থ সেমিস্টারে মতোই একই ভাবে % ভাগ করা হয়।

তবে এক্ষেত্রে ফুল মার্ক পেলে ১৫%, ১৪%, ১৩% …। এইভাবেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

 

৬ষ্ঠ সেমিস্টারঃ

৬ষ্ঠ পর্ব বা ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের রেজাল্টকে ১৫% ধরা হয়।

অর্থাৎ ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে আপনি যত মার্ক পেয়েছেন সেই অনুস্বারে ১০% এর ভিতরেই আপনি % পাবেন। একেবারেই প্রথম, ২য়,

 

৩য়, ৪র্থ, ৫ম সেমিস্টারে মতোই একই ভাবে % ভাগ করা হয়।

তবে এক্ষেত্রে ফুল মার্ক পেলে ২০%, ১৯%, ১৮% …। এইভাবেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

 

৭ম সেমিস্টার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সঃ

৭ম পর্ব বা ৭ম সেমিস্টারের রেজাল্টকে ২৫% ধরা হয়।

অর্থাৎ ৭ম সেমিস্টারে আপনি যত মার্ক পেয়েছেন সেই অনুস্বারে ১০% এর ভিতরেই আপনি % পাবেন। একেবারেই প্রথম, ২য়,

 

৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে মতোই একই ভাবে % ভাগ করা হয়।

তবে এক্ষেত্রে ফুল মার্ক পেলে ২৫%, ২৪%, ২৩% …। এইভাবেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

 

৮ম সেমিস্টারঃ

৮ম পর্ব বা ৮ম সেমিস্টারের রেজাল্টকে ১৫% ধরা হয়।

অর্থাৎ ৮ম সেমিস্টারে আপনি যত মার্ক পেয়েছেন সেই অনুস্বারে ১০% এর ভিতরেই আপনি % পাবেন। একেবারেই প্রথম, ২য়,

 

৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে মতোই একই ভাবে % ভাগ করা হয়।

তবে এক্ষেত্রে ফুল মার্ক পেলে ১৫%, ১৪%, ১৩% …। এইভাবেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

 

 

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স কিন্তু জিপিএ নয়। এটা সিজিপিএ হয়।

 

বুঝাই যাচ্ছে, আপনার প্রতি সেমিস্টারের মার্ক উপরের পার্সেন্ট অনুসারে ক্রমান্বয়ে সঞ্চয় হতে থাকবে।

পরবর্তীতে চারবছর পর আপনার সর্বমোট সিজিপিএ প্রদান করা হবে।।

বর্তমানে সিজিপিএ হিসাব করার জন্য প্লে-ষ্টোরে কিছু ক্যালকুলেটর এপ্স পাবেন।

 

ইয়ার লস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণাঃ

প্রথম সেমিস্টার থেকে ৩য় সেমিস্টার পর্যন্ত তিন বা তিন বিষয়ের অধিক বিষয়ে ফেইল/রেফার্ড খেলে ইয়ার ড্রপ বা ইয়ার লস

বলে গণ্য হবে।

এক বা দুই বিষয়ে ফেইল করলে রেজাল্ট পাবলিশ হবার ১মাস পর পূণরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

 

পূণরায় পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে এক বা উভয় বিষয়ে ফেইল করলে ইয়ার লস বা ড্রপ হিসাবে গণ্য হবে ঐ ছাত্র/ছাত্রী।

৪র্থ সেমিস্টার থেকে ৭ম সেমিস্টার পর্যন্ত চার বিষয় বা চার বিষয়ের অধিক বিষয়ে ফেইল করলে ইয়ার লস বা ড্রপ হিসাবে গণ্য

হবে।

এক বিষয় থেকে ৩য় বিষয় পর্যন্ত ফেইল করলে পরবর্তী সেমিস্টারে উত্তীর্ণ হতে পারবে।

 

এবং ফেইল বিষয় গুলা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার সাথে দিতে হবে।

বই সংক্রান্ত কিছু তথ্য- ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মূল বই ইংরেজি ভার্সনের।

 

তাই মূল বই দিয়ে পড়াশুনা করানো হয় না। বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনির গাইড বই পাওয়া যায় সেগুলাই পড়তে হয়।

এবং সেগুলা থেকেই প্রশ্ন ৯৯% কমন পাওয়া যায়।

 

উক্ত বিষয় সর্ম্পকে যেকোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।

আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন

গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

Check Also

পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ

পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ (ইন্টারভিউ প্রশ্নোত্তর) পর্বঃ ১

আজকে আমরা জানতে পারবো পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ সম্পর্কে এবং এর প্রশ্নোত্তর। প্রিয় পাঠক, আপনারা পিএইচপি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *