নেত্রকোনার অতি পরিচিত মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার আগেই অষ্টম ও নবম শ্রেণির দুই বিষয়ের প্রশ্নের উত্তরপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাজানি হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত হওয়া অষ্টম শ্রেণির প্রশ্নপত্র বাতিল করেছেন । এরপর নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা গ্ৰহণ করা হয়েছে। আর নবম শ্রেণির ফাঁস হওয়া উত্তরপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল না থাকায় তা। দিয়েই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ফেসবুকে প্রকাশিত হয় অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান ও নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষার বহু নির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর।
ওইদিন সকাল ১০টায় এ দুই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রুটিনে উল্লেখ ছিল। মোহনগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, আইন অমান্য করে শিক্ষকদের অনেকেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের সুবিধা দেয়ার জন্য এ স্কুলের কোনো শিক্ষকই এমন কাজ করেছেন। ফলে স্বনামধন্য বিদ্যালয়টির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।এ প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দাবি এলাকাবাসীর।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ওই দুই বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরপত্র ফেসবুকে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। লিখিত ও বহু নির্বাচনী এই দুটি ভাগে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজানি হবার পর হুবহু মিল থাকায় অষ্টম শ্রেণির ফাঁস হওয়া উত্তরপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এমনটি কোন দিন প্রত্যাশা করিনি।পরীক্ষার আগেই সকালে ফেসবুকে উত্তরপত্রগুলো ফাঁস হয়। অষ্টম শ্রেণির ফাঁস হওয়া উত্তরপত্র মূল প্রশ্নপত্রের থাকায় প্রশ্ন বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়।
‘পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান’ যা বললেন সোহেল তাজ
জানতে চাইলে এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সত্যি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের এ ঘটনায় শনাক্তের জন্য তদন্ত কমিটি হয়েছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।
এ সম্পর্কে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, দুই বিষয়ের পরীক্ষার উত্তরপত্র ফাঁস হয়েছে । এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশ্যই আইন অনুযায়ী জড়িতরা শান্তি পাবেন।
উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।












