প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল নিয়ে যা জানালেন মহাপরিচালক >> শিক্ষা সংবাদ>> সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এলাকা। পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।
আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট
রোববার (১১ জানুয়ারি), শত শত পরীক্ষার্থী মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি:
* পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।
* ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে।
* স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বর্তমান পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে।
অধিদপ্তরের অবস্থান ও তদন্তের আশ্বাস
বিক্ষোভকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, অধিদপ্তর বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে।
তদন্ত ও সিদ্ধান্ত:
* তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা: ডিজি জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থীদের দাবি আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
* পূর্ব অভিজ্ঞতা: তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এর আগেও অনিয়মের অভিযোগে দুটি পরীক্ষা বাতিল করার নজির অধিদপ্তরের রয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁস বনাম ডিজিটাল নকল
মহাপরিচালক প্রশ্ন ফাঁস এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন:
* প্রশ্ন ফাঁস হয়নি: গোয়েন্দা সংস্থা (DGFI, NSI, DB, SB) এবং জেলা প্রশাসকদের উদ্ধার করা প্রশ্নের সাথে মূল প্রশ্নপত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তাই পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মেলেনি।
* ডিজিটাল জালিয়াতি: তিনি স্বীকার করেছেন যে প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকলের চেষ্টা হয়েছে। এটি পদ্ধতিগত ত্রুটি নয় বরং ব্যক্তিগত পর্যায়ের অপরাধ।
এ পর্যন্ত নেওয়া আইনি ব্যবস্থা
পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে:
* বহিষ্কার: জালিয়াতির অভিযোগে এ পর্যন্ত মোট ২০৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
* মামলা ও সাজা: অনেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
সারকথা: অধিদপ্তর এখনই পরীক্ষা বাতিল করছে না, তবে অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না। পরীক্ষার্থীদের শান্ত থাকার এবং তদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।












