অধ্যায়৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন রচনামূলক প্রশ্নোত্তর(PDF)

অধ্যায়৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন রচনামূলক প্রশ্নোত্তর(PDF), অধ্যায়: ৩ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

অধ্যায়৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন রচনামূলক প্রশ্নোত্তর(PDF)

অনার্স প্রথম বর্ষ

বিষয়ঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি

অধ্যায় ৩ : আমলাতন্ত্র

বিষয় কোডঃ ২১১৯০৭

গ-বিভাগঃ রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

০৪. আমলাতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব আলোচনা কর। অথবা, আমলাতন্ত্র বলতে কী বুঝ? সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব পর্যলোচনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্র সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত থাকে গণতান্ত্রিক সমাজে আমলাতন্ত্র এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা ছাড়া সমাজ অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না আমলাতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে । তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা রয়েছে।

আমলাতন্ত্র : আমলারা হলেন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাজে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ যারা জনপ্রতিনিধি নন বা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নন। অন্যভাবে বলা যায়, আমলাতন্ত্র এমন একটি বৃহদাকার সংগঠন যাতে আমলারা পরস্পর যুক্ত থেকে কার্যসম্পাদন করেন। তাদেরকে নীতিনির্ধারক হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

শাব্দিক অর্থ : আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Bureaucracy। এ শব্দের উৎপত্তি ফরাসি শব্দ থেকে। ফরাসি Bureau শব্দের অর্থ ডেস্ক, টেবিল, দফতর বা অফিস। আর গ্রিক Kratia শব্দের অর্থ শাসনব্যবস্থা সরকার বা রাজনৈতিক শক্তি।

সুতরাং Bureaucracy বলতে দফতরভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে বুঝানো হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ‘জ্যাকুইস ক্ল্যদে ম্যারি ভিনসেন্ট দ্য গোউনে’ সর্বপ্রথম এ শব্দের প্রচলন করেন ।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা : জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের (Max Weber) মতে, “Bureaucracy is a system of administration characterised by expertness impartiality and the absence of humanity.” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র এমন একটি প্রশাসন ব্যবস্থা যা দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, মানবিকতার অনুপস্থিতি ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

এইচ. জে. লাস্কি (H. J. Laski) বলেন, “Bureaucracy is a system of government, the control of which is so completely in the hands of the officials that their power jeopardizes the liberties of ordinary citizens.

” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যার নিয়ন্ত্রণ সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে এমনভাবে থাকে যে তাদের ক্ষমতা সাধারণ নাগরিকদের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে ।

অধ্যাপক ফিফনার ও প্রেসথাস (Prof. Pfiffner and Presthus ) বলেন, “Bureaucracy is a systematic organization of tasks and individuals into a pattern which can effectively attain the end of a group effort.” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে কর্ম ও কর্মীদের একটি পদ্ধতিগত সংগঠন যা কার্যকরভাবে একটি দলগত প্রচেষ্টার ফলাফলকে অর্জন করতে পারে।

অধ্যাপক গার্নার (Prof. Garner) বলেন, “Bureaucracy means the civil servants, the administrative functionaries who are professionally trained for the public service and who enjoy permanency of tenure, promotion within service partly by seniority and partly by merit.

” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র মানে সরকারি বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা পেশাগতভাবে পাবলিক সার্ভিসের জন্য প্রশিক্ষিত এবং যারা কর্তব্যরত হয়ে স্থায়ী মেয়াদ ও পদোন্নতি ভোগ করে। এটি নির্ধারিত হয় আংশিকভাবে জ্যেষ্ঠতা বা যোগ্যতার ভিত্তিতে।

অধ্যাপক ফাইনার (Prof. Finer) বলেন, “Civil service / bureaucracy is a professional body official’s permanent, paid and skilld.” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি ।

অ্যালমন্ড ও পাওয়েল (Almond & Powell ) বলেছেন, “আমলাতন্ত্র হলো এমন একটি বিস্তৃত সংগঠন যার মাধ্যমে আইন প্রণয়নকারীগণ নিজেদের সিদ্ধান্তকে স্থায়ী করার চেষ্টা করেন।”

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব : সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

১. নীতিনির্ধারণ : সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নীতিনির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমলারাই করে থাকেন। সরকারি কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা আমলাদের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে আমলারাই যোগ্য কর্মচারী।

২. নীতি বাস্তবায়ন : আমলাদের প্রধান কাজ হলো সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করা। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ নীতি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত নীতিসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমলারা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সুশাসন বজায় রাখেন। জটিল সরকারি নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমলাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আবশ্যক ।

৩. আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ : আধুনিক রাষ্ট্রে বর্তমানে সকল আইন আইনসভার পক্ষে প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। তাই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমলারা আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তারাই আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন । তাই সুশাসনে আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

৪. মন্ত্রীদের পরামর্শ দান : আমলারা তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণ ও শাসনকার্য পরিচালনায় মন্ত্রীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আইনসভার অন্যান্য সদস্যদের প্রশ্নের জবাব আমলারাই মন্ত্রীদের তৈরি করে দেন। মন্ত্রীদের পরামর্শ দানের মাধ্যমে সুশাসনে আমলারা ভূমিকা রাখেন ।

৫. প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা : গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময় পরপর রাজনৈতিক সরকারের পরিবর্তন ঘটলেও আমলারা প্রশাসনে তাদের দায়িত্ব পালন করে যান। ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়। এভাবেই তারা সুশাসনে ভূমিকা রাখেন।

৬. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় : সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আমলারা সরকার ও বিভিন্ন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়সাধন করেন। তারা এসব গোষ্ঠীগুলোর পরস্পরবিরোধী দাবিসমূহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেন। এ পরিস্থিতিতে আমলারা প্রশাসনকে উত্তেজনামুক্ত রাখেন।

৭. রাজনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন : সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন আবশ্যক। আমলারা তাদের কর্মদক্ষতা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দ্বারা রাজনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সমর্থ হন। রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিশুদ্ধ করতে আমলারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ।

৮. আধুনিকায়ন : বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে আমলাদের গুরুত্ব অপরিসীম। পূর্বেকার প্রথাগত প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে এসে আমলারা আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

৯. অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন : অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব আমলাদের ওপরে অর্পিত থাকে। ঊর্ধ্বতন আমলারাই এসব অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করে থাকেন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হলে একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অনেক সহজ হয়ে যায় । তাই অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের মাধ্যমে আমলারা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১০. সিদ্ধান্ত গ্রহণ : আমলাগণ দেশের শাসনসংক্রান্ত তথ্যাদি সরবরাহ করেন, তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ সিদ্ধান্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১১. শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা : সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রে শান্তিশৃঙ্খলা ব্রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, আমলাতন্ত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে শৃঙ্খলা বিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময়ও আমলারা প্রশাসনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।

১২. যোগাযোগ স্থাপন: আমলারা বিভিন্ন বিভাগ ও কর্মকর্তার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেন। আমলারা এ অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে এবং অধস্তন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যোগাযোগ স্থাপন একটি আবশ্যকীয় বিষয়।

১৩. পররাষ্ট্রসংক্রান্ত কার্যাবলিতে অংশগ্রহণ : পররাষ্ট্রসংক্রান্ত কার্যাবলিতে আমলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক বৈঠক ও সম্মেলনের ক্ষেত্রে আমলারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এভাবেই তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৪. নৈতিক মূল্যবোধ সাধন: আমলারা নৈতিকতাবিবর্জিত কার্যাবলি থেকে নিজেদের বিরত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থকে দূরে রেখে কাজ করেন।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা একটি দেশের জন্য অপরিহার্য বিষয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়। সুশাসনের জন্য যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ আমলাতন্ত্র আবশ্যক। একটি দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের বিকল্প নেই।

০৫. আমলাতন্ত্রের ত্রুটি কী কী? আলোচনা কর । অথবা, আমলাতন্ত্রের সমালোচনা উল্লেখ কর।

উত্তর : ভূমিকা : আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। আমলাতন্ত্র হচ্ছে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র । প্রশাসন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা উদ্ভাবিত হয়নি। নগররাষ্ট্রের উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গে আমলাতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। তবে প্রাচীন মিসর, ভারত ও চীনেও আমলাতন্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

বর্তমানে আমলাতন্ত্রের অনেক সমস্যা রয়েছে। আমলাতন্ত্রের ত্রুটি আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্র একটি অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু এর ত্রুটিবিচ্যুতিও কম নয়। নিম্নে আমলাতন্ত্রের ত্রুটিগুলো আলোচনা করা হলো-

১. অতি আনুষ্ঠানিকতা আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি ত্রুটি হলো অতি আনুষ্ঠানিকতা। আমলারা জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনা না করে প্রশাসনিক কাজে বিলম্বের সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে তারা পূর্বনজির বা ঘটনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। অতি আনুষ্ঠানিকতা আমলা ও আমলাতন্ত্র উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

কেননা এতে আমলাদের সহজাত কৰ্মস্পৃহা, উৎসাহ- উদ্দীপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিচারবিবেচনার ক্ষমতা লোপ পায়, কাজকর্মের গতি কমে যায় এবং সংগঠনের লক্ষ্যে পৌঁছানো কষ্টকর হয়ে যায়।

২. লাল ফিতার দৌরাত্ম্য : আমলাতন্ত্রের ত্রুটিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ত্রুটি হলো লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। পূর্বনজিরকে অন্ধভাবে মেনে চলাই হলো লাল ফিতার দৌরাত্ম্য।

পূর্বনজিরকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করার কারণে কাজের গতি কমে যায়, জনগণ হয়রানির শিকার হয়। পূর্বনজিরের কথা বলে আমলারা কাজে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করেন।

৩. জনস্বার্থের প্রতি উদাসীনতা : সরকারি প্রশাসনে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অপরিসীম। আমলারা চাকরির ক্ষেত্রে স্থায়িত্ব ভোগ করার কারণে জনগণের স্বার্থের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করেন।

ফলে তারা প্রশাসনকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের বাহন হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। জনগণের অভিযোগ সম্পর্কে আমলারা উদাসীন থাকেন। জনগণের চাওয়া হলো গতিশীল ও কার্যকর আমলাতন্ত্র ।

৪. দায়িত্বহীনতা : দায়িত্বহীনতা আমলাতন্ত্রের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ত্রুটি বা সমস্যা। আমলারা যেহেতু চাকরির ক্ষেত্রে স্থায়িত্ব ভোগ করেন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তাই তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নন এবং নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমলারা চরম অবহেলা প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে Mr. Beway এটিকে পেশাগত মনোবিকার বলে, অর্থাৎ রুটিনবাধা কাজ, অনীহা ও ভেদ-বৈষম্য বলে অভিহিত করেছেন।

৫. অনমনীয়তা : আমলাতন্ত্রের আরেকটি ত্রুটি হলো অনমনীয়তা। পদক্রম নীতির ভিত্তিতে আদিষ্ট না হয়ে কেউ কোনো কাজ করতে চান না। সবাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশের ব্যাপারে এতটাই ভীত-সন্ত্রস্ত থাকেন যে তারা নিজ উদ্যেগে কোনো কাজ করেন না। পরিবর্তনশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণের চাহিদার প্রয়োজনে নিয়মনীতি ও কার্যাবলি সহজ করা খুবই জরুরি।

৬. জনগণের মতামতকে উপেক্ষা : আমলাতন্ত্রের আরেকটি বড় দোষ হচ্ছে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা। অনেকে আমলাতন্ত্রকে এ কারণে রোবট রূপে অভিহিত করেছেন ।

কেননা আমলারা জনগণের চাহিদাকে উপেক্ষা করে সবকিছুকে নিয়মনীতি দ্বারা বিবেচনা করেন। প্রশাসনিক কাজের সুনাম বা দুর্নামের ভাগীদার তাদের হতে হয় না। তারা জনপ্রতিনিধিদের নামে কাজ করেন। তাদের এ কারণেই জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো প্রয়োজন হয় না।

৭. দুর্বল পদক্রম নীতি : সংগঠনের মধ্যে সবাই কর্তৃপক্ষের আদেশের ব্যাপারে এত সন্ত্রস্ত থাকেন যে, তারা স্বেচ্ছায় কোনো কাজই করতে চান না। এদিক থেকে পদক্রম একটি নিষ্ক্রিয় শক্তি ও সমস্যার কারণ। এক্ষেত্রে বড় অনুপ্রেরণা হলো পূর্ব নজির। আমলাদের সৃজনশীলতা ও কর্মস্পৃহা এতে লোপ পায় ।

৮. দীর্ঘসূত্রতা : আমলারা কোনো কাজ সম্পাদন করতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সময় গ্রহণ করেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজটির প্রয়োজনীয়তা নষ্ট হয়ে যায়।

অন্যভাবে বলা যায়, কোনো বিষয় নিয়ে বোর্ড বা কমিটি গঠন, আলোচনা-সমালোচনা, সচিবদের মন্তব্য লিখন, কমিশনের মাথা ঘামানো, পরীক্ষানিরীক্ষা করে টিক চিহ্ন দেওয়া ইত্যাদি কাজে এত সময় নেওয়া হয় যে, শেষ পর্যন্ত সবই বিফলে যায়।

৯. স্বেচ্ছাচারিতা : আমলাতন্ত্রের অনেক বড় একটা ত্রুটি হলো স্বেচ্ছাচারিতা। অতিরিক্ত ক্ষমতা লাভ করে আমলারা সরকারের আইন ও বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা অনেকখানি কমিয়ে দিয়েছেন চরম স্বেচ্ছাচারী কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছামতো ক্ষমতা প্রয়োগ শুরু করেছেন ।

আমলাতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের একটি বিরূপ ধারণা রয়েছে। প্রাচীন রোম ও আধুনিক ব্রিটেনে আমলারা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার হরণ করার জন্য স্বেচ্ছাচারী মনোভাব পোষণ করতেন।

১০. ক্ষমতার প্রতি লোভ : আমলাতন্ত্রের বড় ত্রুটি ক্ষমতার প্রতি লোভ বা লালসা, নিজেদের পদ, পদোন্নতি ও সর্বত্র কর্তৃত্ব বজায় রাখতে আমলারা সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। আমলারা নিজেদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করা ছাড়াও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের থেকে অধিক শিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মনে করেন। তারা জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চান ।

১১. রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ : বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অনেক বড় ত্রুটি হলো অযোগ্য ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া। প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক বিবেচনায় সুযোগ পেলে একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে বিরত রাখতে হবে যেটি আমলাতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। সুতরাং আমলাতন্ত্রের এ ত্রুটি দূর করে একে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে হবে ।

১২. স্বজনপ্রীতি : আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান নেই। কিন্তু তারপরেও অনেক আমলারা স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করেন। স্বজনপ্রীতির কারণে আমলাতন্ত্রের উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের ব্যাঘাত ঘটে সুতরাং আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে একে স্বজনপ্রীতিমুক্ত রাখতে হবে।

১৩. উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব : আমলাদেরকে শুধু নিয়োগদানেই ক্ষান্ত থাকলে চলবে না, তাদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেলে আমলারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে উন্নত দেশ থেকে ভালো প্রশিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে।

১৪. গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান : আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমলারা অনেক সময় গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন । প্রশাসনে আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে তারা নিজেদেরকে নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার বিস্তার অনেক সময় গণতন্ত্রকে আমলাতন্ত্রে রূপান্তরিত করে।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আমলাতন্ত্রের উপরিউক্ত নানাবিধ ত্রুটি ছাড়াও এটি রক্ষণশীলতা, অন্যের ওপর দায়িত্ব চাপানো, সাংগঠনিক জটিলতা ও উদাসীনতা প্রভৃতি ত্রুটিযুক্ত।

তথাপি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক । তাই সরকারের উচিত এর ত্রুটিগুলো সমাধান করে আমলাতন্ত্রকে আরও গতিশীল ও কার্যকর হিসেবে গড়ে তোলা।

০৬. আমলাতন্ত্রের ত্রুটি দূরীকরণের উপায়। অথবা, আমলাতন্ত্রের ত্রুটি দূরীকরণের উপায় লেখ । আলোচনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : বর্তমানে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ আমলারাই করে থাকেন। প্রশাসনিক ব্যবস্থার সাথে আমলাতন্ত্র এমনভাবে সম্পৃক্ত যে এর শত সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও একে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আমলাতন্ত্রের ত্রুটিসমূহ দূরীকরণের উপায় : আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেশকিছু ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে ত্রুটিসমূহ দূর করা সম্ভব। নিম্নে আমলাতন্ত্রের ত্রুটি দূর করার উপায় আলোচনা করা হলো—

১. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ : আমলাতন্ত্রকে ত্রুটিমুক্ত ও কর্মতৎপর করতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রপ্রধান ও আইনসভা কর্তৃক এমন এক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা দরকার,

যাতে করে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সর্বদা তাদের ওপর প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকবেন ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দল কর্তৃক আমলাদের কর্মকাণ্ডের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ফলে আমলারা সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা পেতে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

২. সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা : সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমলাতন্ত্রের যাবতীয় ত্রুটি দূর করে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলা যায়। দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ আমলাতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য অর্জন করে ত্রুটিগুলো দূর করতে সক্ষম হবেন নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

৩. আমলাতন্ত্রের বিকেন্দ্রীকরণ : আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ত্রুটিসমূহ দূর করা সম্ভব। যে কর্তৃত্ব কেন্দ্রের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়, সেগুলো কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দিলে সমস্যার সমাধান হয়। কর্মচারীদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করা হলে তাদের মধ্যে কাজের গতি বেড়ে যায় নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে তারা কাজ করতে থাকে।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখনও অনেক দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ। সুতরাং এ রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে কর্মচারীরা নতুন উদ্যমে সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

৪. উপযুক্ত নেতৃত্ব : সরকারি নীতি বাস্তবায়ন নির্ভর করে আমলাতন্ত্রের নেতৃত্বের ওপর। বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা উপযুক্ত নেতৃত্ব দিতে না পারলে প্রশাসনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যেসব বিভাগ রয়েছে তাতেও উপযুক্ত নেতৃত্বের ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা তাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব প্রশাসনিক কার্যক্রমকে তৎপর করে তুলবে।

৫. পদক্রম নীতির সংশোধন : পদক্রম নীতি অনুযায়ী অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বদা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের অপেক্ষায় থাকে। এভাবেই নিম্নপদস্থ আমলারা স্বীয় কর্মদক্ষতা ও সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলেন। পদক্রম নীতিকে আরও নমনীয় করা সম্ভব হলে আমলাদের যান্ত্রিক আচরণ হ্রাস পাবে।

আমলারাও এতে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এতে তাদের কর্মদক্ষতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে । সমাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলবে।

৬. গতিশীল ও কার্যকরী সংগঠন : আমলাতন্ত্রকে গতিশীল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান রূপে গড়ে তুলতে হবে। আমলাতন্ত্র দুর্বল প্রমাণিত হলে এ থেকে মানুষের আস্থা হারিয়ে যায়। আমলাতন্ত্রকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে অনেক সময় নীতি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। ফলে আমলাদের কাজের ধারা পরিবর্তিত হয়।

৭. গবেষণাকর্ম পরিচালনা : প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রথমত গবেষণার মাধ্যমে এর ত্রুটিগুলো বের করা সহজ। গবেষণার মাধ্যমে নতুন কিছু উদ্ভাবন আমলাতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা এ কাজে নিযুক্ত হলে এ কাজ আরও সহজ ও ফলপ্রসূ হতে পারে।

আমাদের দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা অনেক ত্রুটিপূর্ণ ও নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাই এসব ত্রুটি ও সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য গবেষণা কর্ম পরিচালনা করা একান্ত জরুরি।

৮. উপযুক্ত বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি : আমলাতন্ত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পদক্রম নীতি অনুসারে উচ্চহারে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করতে হবে।

কারণ আমলাদেরকে বেশি বেতন না দেওয়া হলে তারা কর্ম সম্পাদনে উৎসাহিত হবে না। কম বেতন দেওয়া হলে তারা ঘুষের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। ফলে শাসনব্যবস্থা দুর্বল ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে। সুতরাং আমলাতন্ত্রকে কার্যকরী করতে হলে এবং আমলাদের থেকে বেশি কাজ আদায় করে নিতে হলে তাদেরকে উচ্চহারে বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করতে হবে।

৯. কার্যকালের স্থায়িত্ব আমলাতন্ত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যকাল বেশিদিন স্থায়ী হওয়া উচিত নয়। পরিবর্তিত অবস্থার মুখোমুখি হতে হলে অনেক সময় নতুন পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজনীয় হতে পারে।

প্রধান আমলাদের কাজের গতি কম। সুতরাং আমলাতন্ত্রকে আরও তৎপর করতে নতুন নতুন লোকবল নিয়োগ করতে হবে। ফলে তারা নতুন কাজে নতুন উদ্যমে মনোনিবেশ করবে এবং আমলাতন্ত্রকে আরও কর্মতৎপর করে তুলবে।

১০. রাজনৈতিক প্রভাব মুক্তি : প্রখ্যাত দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, আমলারা ও রাজনীতিবিদরা আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে কাজ করবে। আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। তাহলে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। রাজনীতিবিদদের অবৈধ হস্তক্ষেপ ঘটলেও আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

১১. দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগদান : প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই করে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে। আমলাতন্ত্রে দক্ষ ও যোগ্য লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।

১২. উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা : আমলাদেরকে নিয়োগের পরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তারা আরও ভালোভাবে কার্যসম্পাদন করতে পারবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে আরও দক্ষ ও যোগ্য হবে যা আমলাতন্ত্রের জন্য কল্যাণকর।

১৩. সততা ও দক্ষতা নিরীক্ষণ : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতা নিরীক্ষণ করা হলে আমলাতন্ত্র আরও কর্মতৎপর হয়ে উঠবে। ফলে অন্যরাও এতে উৎসাহিত হয়ে কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে দিবে।

১৪. কর্মচারীদের কাজে স্বাধীনতা প্রদান সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীরা যদি কার্যসম্পাদন করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করেন, তাহলে প্রশাসনিক কর্মতৎপরতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আমলারা চান মনের আনন্দ, নতুনত্ব, নতুন নতুন ক্ষমতা ও নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের মানসিকতা।

বছরের পর বছর একই স্থানে কর্মরত থাকার কারণে তারা মনের সজীবতা হারিয়ে ফেলেন। তাই কর্মচারীদের থেকে বেশি কাজ আদায় করতে হলে কার্যক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উপরোক্ত উপায়সমূহের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রের ত্রুটিসমূহ দূর করা সম্ভবপর হবে। কেননা আমলাতন্ত্রের যথেষ্ট ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এটি ছাড়া প্রশাসন ব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। তাই আমলাতন্ত্রের ত্রুটিসমূহ দূর করতে হলে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করতে হবে এবং একে গতিশীল ও কার্যকরী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন
গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। অধ্যায়৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন রচনামূলক প্রশ্নোত্তর(PDF)

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *