নামঃ শহীদ মো: ফারুক

নাগরিকত্বঃ বাংলাদেশী

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী

জেলাঃ নোয়াখালী

পেশাঃ ওয়ার্কসপ মিস্ত্রি

আন্দোলনঃ কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০২৪

তথ্যসূত্রঃ ঢাকা মেইল

ব্যক্তিগত জীবনঃ

কোটা আন্দোলন বা কোনো প্রকার সংঘাতে না জড়িয়েও চট্টগ্রামে গুলিতে নিহত ওয়ার্কসপ মিস্ত্রি ফারুকের লাশ কুমিল্লার চান্দিনায় দাফন করা হয়েছে। একজন ওয়ার্কসপ শ্রমিকের এমন নির্মম মৃত্যুতে বাকরূদ্ধ পরিবারের সদস্যরা। তার এ মৃত্যুর দায় কার? এমন প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ৮টায় চান্দিনা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

এর আগে, রাত আড়াইটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের পর পুলিশী পাহারায় লাশ নিয়ে চান্দিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন পরিবারের সদস্যরা। চট্টগ্রাম থেকে চান্দিনা পর্যন্ত পুলিশী পাহারায় লাশ বাড়ি পৌঁছে সকাল সাড়ে ৬টায়। বাড়িতে খবর পৌঁছানোর পূর্বেই কবর প্রস্তুত করে রাখায় সকাল ৮টার মধ্যে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয় নিহত শ্রমিক ফারুকের।

জানা যায়, নিহত ফারুক হোসেন পৈত্রিক নিবাস নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে। তার বাবার নাম দুলাল মিয়া। কর্মের তাগিদে চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

২০০৭ সালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের সহিদুল ইসলাম এর মেয়েকে বিবাহ করে একই ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামে জায়গা কিনে নিজে বসবাস করেন চান্দিনায়। যেহেতু চট্টগ্রামে কর্ম করেন সেহেতু স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামের ভাড়া বাসায়ই বসবাস তার।

নিহতের শ্যালক চট্টগ্রাম পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র সাইফুল ইসলাম জানান, ফারুক হোসেন যে দোকানে কাজ করতেন ওই দোকানের কাছেই আন্দোলন চলছিল। তিনি রাস্তা অতিক্রম করে একটি হোটেলে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়। তার বুকে ও পিঠে দুইটি গুলি লাগে। স্থানীয় লোকজন তাকে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর আমরা খবর পাই এবং সেখানে গিয়ে তার নিথর দেহ দেখতে পাই।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফারুক ভাই তো কোন আন্দোলন করেনি, তিনি তো কারও সাথে একাত্মতাও করে সংঘাতে জড়ায়নি। আমার ভাগিনা (ফারুকের ছেলে) সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। এ পরিবারের এখন কি হবে, কে হাল ধরবে? নিহত ফারুক হোসেনের স্ত্রী সীমা আক্তার বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আমার পরিবারে স্বামী ছাড়া আর কেউ উপার্জনক্ষম লোক নেই।

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাবের মো. সোয়াইব জানান, মূলত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই পুলিশী পাহারায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে কোনো সহযোগিতার হাত বাড়ানো হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সহযোগিতা করার কথা। আমি খোঁজ নিয়ে জেনে বিস্তারিত জানাবো।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.