PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন যুগ ) অধ্যায় ৩-প্লেটো এর অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরPDF সহ শিক্ষমূলক সকল বিষয় পাবে এখান থেকে: পর্ব:- ১ (প্রাচীন যুগ ) অধ্যায় ৩-প্লেটো এর অতিসংক্ষিপ্ত, প্রশ্নোত্তর,সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

ও রচনামূলক প্রশ্নোত্তর, সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

বাকী প্রশ্নোত্তর এখানে

বাকী প্রশ্নোত্তর এখানে

  • অনার্স প্রথম বর্ষ
  • বিষয়ঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা
  • পর্ব – ১ ( প্রাচীন যুগ )
  • অধ্যায় ৩ – প্লেটো
  • বিষয় কোডঃ ২১১৯০৩

– বিভাগঃ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

০৭. প্লেটো কর্তৃক দার্শনিক রাজার শাসন সমর্থনের কারণ আলোচনা কর ।

অথবা, প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রে দার্শনিক রাজার শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন কেন?

উত্তর : ভূমিকা : গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তার ন্যায়বিচার ও আদর্শ রাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, শাসনের ক্ষমতা একমাত্র দার্শনিকের হাতে ন্যস্ত থাকবে।

প্লেটো বলেন, যে পর্যন্ত দার্শনিকেরা তাদের দেশের শাসক না হচ্ছে অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার সাথে দর্শনের মিলন না হচ্ছে ততক্ষণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে মুক্তির কোনো আশা নেই। তাই প্লেটো আদর্শ রাষ্ট্রে দার্শনিক রাজার শাসনকে কামনা করেছেন।

প্লেটো কর্তৃক দার্শনিক রাজার শাসন সমর্থনের কারণ : প্লেটো দার্শনিক রাজার শাসনের জন্য বেশকিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো-

১. আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা : প্লেটোর স্বপ্ন ছিল আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দার্শনিক রাজা ব্যতীত অন্য কারো ওপর নির্ভর করতে পারেননি। কারণ প্লেটোর দার্শনিক রাজাই ছিল আদর্শ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। তাই তিনি শাসনের ক্ষেত্রে দার্শনিক রাজাকে প্রয়োগ করতে চেয়েছেন।

২. প্রকৃত ও জ্ঞানী শাসক : প্লেটোর মতে, দার্শনিক রাজাকে জ্ঞানী হতে হবে। তিনি রাষ্ট্রে প্রকৃত শাসক হবেন। দার্শনিক শাসক হচ্ছে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র ধারণার জন্য অনুসিদ্ধান্ত। প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রে জ্ঞানী শাসকের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, জ্ঞানীরা উত্তম ও প্রকৃত শাসনের জন্য যোগ্য । এজন্য তিনি দার্শনিক রাজার শাসনকে কামনা করেছেন ।

৩. ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রে দার্শনিক রাজার নিজস্ব কোনো সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না। তিনি ব্যাক্তিগত জীবনে সব ধরনের সুখ শান্তি বিসর্জন দিবেন। রাষ্ট্র ও নাগরিকের সেবায় তিনি আত্মনিয়োগ করবেন। তাই প্লেটো দার্শনিক রাজার শাসনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

৪. অভিজাতকেন্দ্রিক মনোভাব : প্লেটো অভিজাত পরিবারের সন্তান ছিলেন । তাই তার ধ্যানধারণা সম্পূর্ণ অভিজাতদের শাসনব্যবস্থার পক্ষে রায় দিয়েছে। দার্শনিকরা অনেকাংশে অভিজাত হওয়ায় তিনি শাসনব্যবস্থায় দার্শনিকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

৫. সদগুণ ও নম্রতার প্রতীক : দার্শনিক প্লেটোর মতে, দার্শনিক রাজা হবেন সদগুণে গুণান্বিত ও নম্রতার প্রতীক। যেহেতু প্রজ্ঞা, গুণ একজন দার্শনিক রাজার মধ্যে বিদ্যমান তাই দার্শনিক রাজাই সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করার যোগ্য। তাই প্লেটো দার্শনিক রাজার শাসনকে কামনা করেছেন।

৬. আইনের অপ্রয়োজনীয়তা : প্লেটোর দার্শনিক রাজা ন্যায় ও যুক্তির দ্বারা পরিচালিত। দার্শনিক রাজা নিজ জ্ঞানে ন্যায়বিচার সম্পন্ন করবেন। অতএব এখানে আইনের কোনো দরকার নেই। দার্শনিক রাজার এ ন্যায়সংগত কারণে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য দার্শনিক রাজার শাসনকে কামনা করেছেন।

৭. স্বনিয়ন্ত্রিত শক্তি : দার্শনিক প্লেটোর মতে দার্শনিক রাজা হবেন যুক্তিবোধ বা প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তি। প্রজ্ঞা একটি স্বনিয়ন্ত্রিত শক্তি হওয়ায় একে বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের দরকার হয় না। দার্শনিক রাজার এ স্বনিয়ন্ত্রিত শক্তি রয়েছে বলেই প্লেটো দার্শনিক রাজাকে শাসনের জন্য যোগ্য মনে করেছেন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, প্লেটো প্রদত্ত আদর্শ রাষ্ট্রে দার্শনিক রাজাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। প্লেটোর মতে, দার্শনিক রাজাই পরিপূর্ণ ও উত্তম জ্ঞানের অধিকারী।

সুতরাং জ্ঞানই যদি পুণ্য হয় তবে যিনি পুণ্যবান তিনি হলেন জ্ঞানের অধিকারী দার্শনিক বা বৈজ্ঞানিক। তাই রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি তার ওপর ন্যস্ত থাকবে। আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা একমাত্র দার্শনিক রাজার পক্ষে সম্ভব। আর একারণে প্লেটোর দার্শনিক রাজার তথ্যটি তৎকালে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

০৮. প্লেটো বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্রের শাসকগণ কীভাবে দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জন করবে?

অথবা, প্লেটো বর্ণিত দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জনের উপায় সংক্ষেপে আলোচনা কর ।

উত্তর : ভূমিকা : প্লেটোর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Republic’ এ দার্শনিক রাজা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। প্লেটোর মতে, যিনি সর্বোত্তম জ্ঞানের অধিকারী এবং যিনি বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে তার যুক্তি ও জ্ঞানকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম তিনি হচ্ছেন দার্শনিক।

প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের শাসনভার এই দার্শনিক রাজার হাতেই অর্পণ করেন। তার মতে, অত্যধিক জ্ঞানী, বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন এবং শাসন করার অধিকারী দার্শনিকই হবেন আদর্শ রাষ্ট্রের কর্ণধার বা জনক।

প্লেটো বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্রের শাসকগণের দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জনের উপায় : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের শাসকের দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জনের জন্য শিক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেন। বস্তুত শিক্ষাই হলো প্লেটো বর্ণিত দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জনের একমাত্র হাতিয়ার।

নিম্নে প্লেটো বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্রের শাসকগণ যেভাবে দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জন করেন তা আলোচনা করা হলো,

১. শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরে আরোহণ : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের কর্ণধার দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জনের জন্য শিক্ষার ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করেন। তিনি তার শিক্ষাব্যবস্থায় একজন মানুষকে শৈশব থেকে শুরু করে আঠারো বছর পর্যন্ত কবিতাসমূহের পাঠ, সংগীত শিক্ষা, কাব্যসমূহের পাঠ এবং এদের যথার্থ ব্যাখ্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রাথমিক শিক্ষার দ্বিতীয় স্তরে ১৮-২০ বছর বয়স পর্যন্ত প্লেটো ব্যক্তিকে শরীরচর্চা ও সামরিক শিক্ষার কলাকৌশল আয়ত্ত করার কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা পরবর্তী একটি বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষায় যারা সফলতার সাথে উন্নীত হবে তারা উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে এবং তারাই পরবর্তী শিক্ষার স্তরে উন্নীত হবে।

অতঃপর এসব শিক্ষার্থীকে ২০-৩০ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতর গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিদ্যা, তর্কশাস্ত্র, দর্শন ও অধিবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এরপর আবার একটি নির্বাচনি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এতে উত্তীর্ণ ব্যক্তিবর্গ পরবর্তী ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতর দর্শন অধ্যয়ন করবে। উল্লিখিত ধাপসমূহ অতিক্রম করে শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরে আরোহণ করে একজন সাধারণ ব্যক্তি দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জন করবে।

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

২. বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন : প্লেটো তার শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দার্শনিক রাজা নির্বাচনের জন্য ৩৫-৫০ বছর বয়স নির্ধারণের কথা বলেন।

এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত হবে এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। বস্তুত এ পর্যায়ে, ব্যক্তি তার সামগ্রিক জীবনে অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি দক্ষতার সাথে সম্পাদনের মাধ্যমে দার্শনিক রাজার প্রকৃত গুণাবলি অর্জন করবে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে যারা যথার্থ জ্ঞানলাভ করবে তাদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য যোগ্য ব্যক্তি মনোনীত করা হবে।

উক্ত শাসক তার অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞাতার মাধ্যমে রাষ্ট্রে সুশাসন কায়েম করবে। বস্তুত দার্শনিক রাজা জ্ঞানের সাধক, সত্যের দিশারি, ন্যায়ের অবতার। তারা লোভ লালসা থেকে মুক্ত এবং রাষ্ট্রের কল্যাণে সর্বাত্মক আত্মনিয়োগ করবে।

০৯. প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা কি কাল্পনিক? সংক্ষেপে লেখ।

অথবা, প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণাকে তুমি কি কাল্পনিক মনে কর?

উত্তর : ভূমিকা : প্লেটো তার কালজয়ী সৃষ্টি ‘The Republic’ গ্রন্থে আদর্শ রাষ্ট্রের রূপরেখা অঙ্কন করেন। প্লেটো তৎকালীন গ্রিক নগররাষ্ট্রের সামাজিক অবস্থার পরিমার্জিত, পরিকল্পিত, সংযত ও সমন্বিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তার আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা উপস্থাপন করেন।

তিনি মূলত, মানুষদেরকে ন্যায়বিচারে উদ্বুদ্ধ করতেই তার আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা উপস্থান করেন। প্লেটোর উন্নত জীবনই হচ্ছে আদর্শ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা কাল্পনিক কি না : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা বিশ্লেষণ করলে এটিকে বর্তমান কালের প্রেক্ষাপটে অনেকটাই অবাস্তব বা কাল্পনিক হিসেবে অভিহিত করা হয় । নিম্নে কাল্পনিক হিসেবে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের সংক্ষি বর্ণনা দেওয়া হলো-

১. মানবপ্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রে অভিভাবক শ্রেণির জন্য পরিকল্পিত সাম্যবাদের কথা বলেন যা মানবপ্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ করে। তাই অনেকে একে বাস্তবের সাথে সম্পর্কহীন ও কাল্পনিক ধারণা হিসেবে মনে করেন।

২. সংবিধানের অনুপস্থিতি : প্লেটো বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কোনো সংবিধান ছিল না। এখানে দার্শনিক রাজার অনুশাসনকেই আইন হিসেবে মনে করা হয়। অথচ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাস সংবিধান ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই পরিচালিত হতে পারে না। এজন্যই প্লেটোর এ ধারণাকে কাল্পনিক বলে মনে করা হয়।

৩. পারিবারিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক উচ্ছেদ : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের অভিভাবক শ্রেণির ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও বৈবাহিক সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করেছেন কিন্তু আধুনিককালে ব্যক্তিগত সম্পত্তির উচ্ছেদকে অনৈতিক ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থি হিসেবে মনে করা হয়।

৪. কল্পনাবিলাস : অনেকে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের কাঠামো কল্পনাবিলাসী হিসেবে মনে করেন। অধ্যাপক জেনেটের মতে, প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়ন বর্তমান বিশ্বে অসম্ভব।

৫. বাস্তবের সাথে সম্পর্কহীন : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপান্তর করা অসম্ভব। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গেলে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। ডব্লিউ. এ. ডানিং এই আদর্শ রাষ্ট্রকে নিছক রোমাঞ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

৬. অভিজ্ঞতাতান্ত্রিক প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অভিজ্ঞদের পক্ষপাতিত্ব করেছেন। তিনি তার আদর্শ রাষ্ট্রের সাধারণ লোকের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ দেননি। তাই গ্লুকন এটিকে ‘শূকরের রাষ্ট্র’ (City of the pigs) বলে বিদ্রুপ করেছেন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, প্লেটো তার ‘দ্যা রিপাবলিক’ গ্রন্থে আদর্শ রাষ্ট্রের যে গঠন কাঠামো ও কার্য পরিধির বর্ণনা করেছেন তা বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ কি না তা বিবেচ্য বিষয় অর্থাৎ আদর্শ রাষ্ট্র কীরূপ হওয়া উচিত, প্লেটো সেই চিন্তাই করেছেন।

কেননা প্লেটো নিজেই বলেছেন, তার বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্র একমাত্র স্বর্গেই সম্ভব, পার্থিব জগতে নয়। তাই আমরা বলতে পারি, প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের কাঠামো একটি কাল্পনিক ধারণা

১০. প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার স্তরগুলো কী কী?

অথবা, প্লেটো বর্ণিত শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন কারিকুলাম উল্লেখ কর।

উত্তর : ভূমিকা : প্লেটো কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের মূলভিত্তি হলো শিক্ষাব্যবস্থা। প্লেটো তার কালজয়ী সৃষ্টি ‘The Republic’ গ্রন্থে প্রজ্ঞাবান দার্শনিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক মহান ও যুগান্তকারী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। মানবপ্রকৃতি গঠন এবং সুসংবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের সহায়ক হিসেবে বিশ্বনন্দিত এই দার্শনিক শিক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেন।

প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার স্তরসমূহ : মানবজীবনের বয়সের স্তরভেদে প্লেটো শিক্ষাব্যবস্থাকে ২ ভাগে বিভক্ত করেন। যথা : ক. প্রথমিক শিক্ষা এবং খ. উচ্চতর শিক্ষা।

ক. প্রাথমিক শিক্ষা : প্লেটো প্রাথমিক শিক্ষাকে আবার ২টি ভাগে ভাগ করেছেন । যথা :

১. প্রথম ভাগ : প্লেটোর মতে, প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ভাগ হলো শৈশব থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত। এ সময়ে শিশুর মানসিক বৃত্তিগুলো সুষ্ঠু বিকাশ এবং নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করে। এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষার এ স্তরে শিশুকে গণিত, সংগীত ও সাহিত্য শিক্ষা দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে জনসাধারণ আত্মসংযম, শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করতে সক্ষম হয় ।

২. দ্বিতীয় ভাগ : প্লেটো ১৮-২০ এই দু’বছর শরীর ও সামরিক শিক্ষায় নিয়োজিত থাকার পরামর্শ প্রদান করেন। তার মতে, এ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো দেহকে সুস্থ সবল ও সুসংগঠিত করে গড়ে তোলা ।

খ. উচ্চতর শিক্ষা : উচ্চশিক্ষার বিস্তৃতি হলো ২০ থেকে ৫০ বছর। প্লেটো উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থাকে ৩ স্তরে বিভক্ত করেন । যথা :

১. প্রথম স্তর (২০-৩০ বছর) : উচ্চশিক্ষার প্রথম স্তরে (২০–৩০ বছর) শিক্ষার্থীকে উচ্চতর গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং সংগীত শিক্ষা প্রদান করা হয়। অতঃপর ৩০ বছর বয়সে একটা নির্বাচনি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং কৃতকার্যরা পরবর্তী শিক্ষার সুযোগ পাবে।

২. দ্বিতীয় স্তর (৩০-৩৫ বছর) : এ স্তরে শিক্ষার্থীকে উচ্চতর দর্শন, অধিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা শেখানো হবে। প্লেটোর মতে, এখানেই মূলত পুঁথিগত বিদ্যার সমাপ্তি ঘটে এবং এদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করা হয় ।

৩. তৃতীয় স্তর (৩৫-৫০ বছর) ৩৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যবর্তী এই সময়ে শিক্ষার্থীগণ ব্যবহারিক ও বাস্তব শিক্ষা গ্রহণ করবে। এ সময়ে শিক্ষার্থী সরকারি বিভিন্ন কাজের সাথে সংযুক্ত হয়ে অভিজ্ঞতা প্রসূত ও বাস্তব শিক্ষা অর্জন করবে। অতপর, দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হবে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা তত্ত্বটি তার কালজয়ী সৃষ্টি। বয়সের স্তরভেদে তার এ শিক্ষাতত্ত্বটি মানব প্রকৃতি গঠনে বেশ ফলপ্রসু ভূমিকা রাখে। তাছাড়া প্লেটো অভিভাবক শ্রেণির জন্য সমগ্র জীবনব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

সুতরাং বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে যারা পরম জ্ঞানলাভ করবে তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য উত্তম ব্যক্তি মনোনীত হবেন। যিনি তার অর্জিত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দ্বারা রাষ্ট্রের সুশাসন কায়েম করবেন।

০৬. প্লেটোর দার্শনিক রাজার গুণাবলি উল্লেখ কর।

অথবা, প্লেটোর দার্শনিক রাজার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।

অথবা, প্লেটোর দার্শনিক রাজার গুণাবলি বর্ণনা কর ।

উত্তর : ভূমিকা : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের রূপরেখা প্রণয়ন করে তার শাসনভার কার ওপর ন্যস্ত করবেন সে ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করেন। এক্ষেত্রে তিনি তার আদর্শ রাষ্ট্রের শাসনভার দার্শনিক রাজার ওপর ন্যস্ত করেন।

তার মতে, যিনি সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী এবং যিনি বৈজ্ঞানিক প্রমাণসাপেক্ষ তার যুক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম তিনিই দার্শনিক রাজা। যার ফলে দার্শনিক রাজাই পারেন সৎ ও মহৎ নাগরিক গড়ে তোলার মাধ্যমে আদর্শ রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করতে।

প্লেটোর দার্শনিক রাজার গুণাবলি : নিম্নে প্লেটো বর্ণিত দার্শনিক রাজার অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো,

১. প্রজ্ঞাবান : প্লেটো বর্ণিত দার্শনিক রাজা হলেন সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী এবং প্রজ্ঞাবান তিনি হবেন সত্যের উপাসক, সুন্দরের পূজারি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সদাসর্বদা প্রস্তুত থাকবেন । যা দার্শনিক রাজার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।

২. পরিবার বর্জিত : প্লেটোর দার্শনিক রাজার বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পরিবার বর্জিত দার্শনিক রাজা। দার্শনিক রাজা কখনও পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারে না। কেননা পারিবারিক মায়ামমতা তথা স্ত্রী সন্তানদের প্রতি মায়া দার্শনিক রাজাকে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারে।

৩. যুক্তিবাদিতা : দার্শনিক রাজার অন্যতম আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো যুক্তিবাদী চিন্তাচেতনা। প্লেটোর মতে, দার্শনিক শুধুমাত্র জ্ঞানের অধিকারীই নন তিনি বৈজ্ঞানিক প্রমাণে তার জ্ঞানকে যৌক্তিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করেন।

৪. তীক্ষ্ণ মেধাশক্তিসম্পন্ন : প্লেটোর মতে, দার্শনিক রাজা শুধুমাত্র প্রজ্ঞাবান ও যুক্তিবাদীই নন তিনি তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তাই রাষ্ট্রীয় যেকোনো সংকটাপন্ন মুহূর্তে সে সমস্যার সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

৫. কুসংস্কারমুক্ত : দার্শনিক রাজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি হলেন সকল প্রকার কুসংস্কার থেকে মুক্ত। কারণ দার্শনিকরা হলেন প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে তাদের মধ্যে কোনো প্রকার কুসংস্কার থাকতে পারে না।

৬. পার্থিব লোভলালসা মুক্ত : প্লেটো তার দার্শনিক রাজাকে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। যার ফলে তারা সকল প্রকার লোভলালসা থেকে মুক্ত থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনায় সচেষ্ট থাকেন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, প্লেটো বর্ণিত দার্শনিক রাজার উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান। দার্শনিক রাজার মধ্যে উত্তম শাসকের সকল প্রকার গুণাবলি বিদ্যমান থাকায় প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের শাসনভার দার্শনিক রাজার হাতে অর্পণ করেছেন। এজন্য তিনি যথার্থই বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত দার্শনিকরা রাজা না হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রগুলো অন্যায় থেকে পরিত্রাণ পাবে না।”

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Check Also

অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরPDF

অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরPDF

অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরPDF ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন যুগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *