(PDF) অধ্যায়৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

(PDF) অধ্যায়৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন রচনামূলক প্রশ্নোত্তর, অধ্যায়: ৩ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

(PDF) অধ্যায়৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

অনার্স প্রথম বর্ষ

বিষয়ঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি

অধ্যায় ৩ : আমলাতন্ত্র

বিষয় কোডঃ ২১১৯০৭

গ-বিভাগঃ রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

০৭. একটি রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণের উপায়সমূহ আলোচনা কর। অথবা, আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বুঝ? কীভাবে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

উত্তর : ভূমিকা : আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে স্বীকৃত। প্রতিটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি সুদৃঢ় এবং কার্যকর অংশরূপে আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমলাতন্ত্রের কাজ যেহেতু অসীম এবং উল্লেখযোগ্য, সেহেতু একে ক্ষমতার অপব্যবহার হতে রক্ষা করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন আমলাতন্ত্রকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ : আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে স্বীকৃত। প্রতিটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি সুদৃঢ় এবং কার্যকর অংশরূপে আমলাতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আধুনিক সমাজব্যবস্থায় জটিলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকারের কাজও জটিল হয়ে উঠছে এবং সরকারের কাজ পরিচালনার জন্য সুদক্ষ কর্মচারীর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আমলাতন্ত্রই সুদক্ষ কর্মচারী গড়ে তুলতে সক্ষম।

এ কারণে আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেবল প্রশাসনিক কাজই নয় আমলাতন্ত্রকে আইনসংক্রান্ত, অর্থসংক্রান্ত, এমনকি বিচার বিভাগীয় কাজও করতে হয়।

আমলাতন্ত্রের কাজ যেহেতু অসীম এবং অশেষ সেহেতু একে ক্ষমতার অপব্যবহার হতে রক্ষা করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন আমলাতন্ত্রকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। অধ্যাপক লাস্কি (Professor Laski) বলেছেন যে, ক্ষমতা ও প্রতিপ্রত্তি আরও অধিক ক্ষমতা ও প্রতিপ্রত্তি লাভের উৎসাহ জোগায় ।

এ প্রবণতা জনগণের স্বাধীনতা নস্যাৎ করার দিকে ধাবিত হতে পারে। রিচার্ড ক্রসম্যান (Richard Crossman)- এর মতে, “অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ” (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy)। সুতরাং আমলাতন্ত্রকে যেকোনো উপায়েই হোক নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে হবে; আর তাহলেই আমলাতন্ত্র সঠিক পথে পরিচালিত হবে।

অধ্যাপক রামজে মুইর (Ramsay Muir) তার ‘How Britain is Governed’ গ্রন্থে তাই বলেছেন, “Bureaucracy, by its very nature, is liable to serious danger. It must be exposed to continuous stream of informed, alert and effective criticism; it must be kept under control, being an invaluable servant but a dangerous master.”

একটি রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণের উপায় : আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার যে কয়েকটি পদ্ধতি বা উপায় রয়েছে তন্মধ্যে নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য :

১. প্রশাসনিক আত্মনিয়ন্ত্রণ : আমলাদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক অবস্থার ওপর প্রশাসনিক আত্মনিয়ন্ত্রণ নির্ভরশীল। আমলাতন্ত্রে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টি, শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা ইত্যাদি দ্বারা প্রশাসনিক আত্মনিয়ন্ত্রণ সম্পন্ন হয়ে থাকে।

২. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ : রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হলো আমলাতন্ত্রকে বাহ্যিকভাবে নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি। রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বলতে আইনসভা, মন্ত্রিসভা, রাজনৈতিক দল ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে বুঝায়।

যদি আইন বিভাগের হাতে আমলাদের নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম ন্যস্ত থাকে তাহলে তাদেরকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। ব্রিটেন ও ভারতে আইনসভা বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে আমলাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- Select Committee, Public Accounts Committee, Comptroller and Auditor General ইত্যাদি।

৩. আইনসভার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ : আইনসভা কিছু মাধ্যম অবলম্বন করে আমলাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যথা :

ক. প্রশ্ন, অতিরিক্ত প্রশ্ন ও প্রস্তাব আনয়ন : আইনসভায় আমলাদের ব্যাপারে প্রশ্ন, অতিরিক্ত প্রশ্ন ও প্রস্তাব আনয়নের মাধ্যমে আমলাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব। সাধারণত সংসদ সদস্যরা এ কার্যাবলি সম্পাদন করেন। প্রস্তাব আনয়নের মাধ্যমে আমলাদের ক্ষমতাকে লাঘব করা যেতে পারে ।

খ. স্থগিত প্রস্তাব উত্থাপন : স্থগিত প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রে আমলাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোনো একজন সাংসদ আইনসভায় স্থগিত প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

গ. বাজেট আলোচনা : বাজেটসংক্রান্ত আলোচনা সাধারণত আইনসভাতেই হয়ে থাকে। বাজেটে আমলাতন্ত্রের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

ঘ. অনুসন্ধানকারী কমিটি : আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সংসদীয় অনুসন্ধানকারী কমিটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তারা আমলাদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখে। পরবর্তীতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ কারণে আমলারা অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন না।

ঙ. অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং সংস্থার মাধ্যমে : সংসদীয় অডিট কমিটি সরেজমিনে আমলাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিশ্লেষণ করেন। ফলে তারা অনেক নিয়ন্ত্রিত অব্যবস্থায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন ।

৪. বিচার বিভাগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ : আমলাতন্ত্রকে বিচার বিভাগের বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেমন— কোওয়ারেন্টো (Quo Warranto), হেবিয়াস কর্পাস (Heveas Corpus), ম্যানডামাস (Mandamus) ইত্যাদি ।

৫. নাগরিক নিয়ন্ত্রণ : আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের অন্যতম আরেকটি মাধ্যম হলো নাগরিক নিয়ন্ত্রণ। নাগরিক বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে আমলাদের কার্যাবলির ওপর নজরদারি করা যায়। নিম্নে নাগরিক নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো আলোচনা করা হলো—

ক. উপদেশ প্রদানকারী কমিটি : বিভিন্ন উপদেশ প্রদানকারী কমিটির মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উপদেশ প্রদানকারী কমিটিগুলোর সাথে আমলাতন্ত্রের সুসম্পর্ক একে আরও দায়বদ্ধ করে তোলে।

খ. গতিশীল নীতি ও নেতৃত্ব : আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের আরও একটি নাগরিক নিয়ন্ত্রণ হলো সমাজের গতিশীল নীতি ও নেতৃত্ব। সমাজনীতি ও সামাজিক নেতৃত্ব শক্তিশালী হলে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। উভয় অংশের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয় এবং জনগণের নিকট আমলাতন্ত্রকে দায়বদ্ধ করা হয়।

গ. বিভিন্ন বোর্ড বা কমিশন : বিভিন্ন নাগরিক বোর্ড বা কমিশনের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করতে হয়। আমলারা এসব বোর্ড বা কমিশনের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কার্যাদি সম্পাদন করেন।

ঘ. স্বার্থকামী গোষ্ঠী : স্বার্থকামী গোষ্ঠীগুলো আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের নিমিত্তে প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। ফলে প্রশাসন তাদের দাবি মানতে বাধ্য হয়। স্বার্থকামী গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্ক ভালো হয়। আর এভাবেই আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত হয়। ড. ই.এ. গ্লাডেন আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ ও তার ত্রুটি দূর করার জন্য কতিপয় সুপারিশ প্রদান করেন যথা—

>বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ : আমলাতন্ত্রকে বিভিন্ন বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ মাধ্যম দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যেমন- আইনসভার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ, বিচার বিভাগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। আমলাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হলে তারা স্বেচ্ছাচারী মনোভাব পোষণ করতে পারে না।

>সঠিক ব্যবস্থাপনা : আমলাতন্ত্রে সুষ্ঠু বা সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে আমলারা নিয়মানুবর্তিতার সাথে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

iii. যোগ্য নেতৃত্ব আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব আবশ্যক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দক্ষ ও যোগ্য হলে ঐ প্রশাসনিক বিভাগটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে।

> কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ : আমলাতন্ত্রের সকল কার্যাবলি কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকলে একে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয় ফলে পুরো আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

>দক্ষ ও যোগ্য কর্মচারী ব্যবস্থা : দক্ষ ও যোগ্য কর্মচারী ব্যবস্থার মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এরাই প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন করেন। ফলে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

>নমনীয় সাংগঠনিক নীতি : আমলাতন্ত্রের নীতিসমূহ নমনীয় হলে একে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দু’ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। পূর্বে আমলাতন্ত্র অনেক কঠোর নিয়মনীতি অনুসরণ করতো। ফলে আমলারা জনগণের প্রতি দায়িত্বহীন ও উদাসীন ছিলেন। তবে বর্তমানে আমলাতন্ত্র নমনীয় নীতি অনুসরণ করে।

vii. গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা : এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে আরও কী কী উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটি বের করা সম্ভব হবে। সরকারের উচিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের উপায় বের করা।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, একটি দেশের প্রশাসন ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্র আমলাতন্ত্রের বিকল্প নেই। সরকারনির্ধারিত নীতিসমূহ আমলারাই বাস্তবায়ন করে থাকেন।

কিন্তু আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না রাখলে এটি বিভিন্নভাবে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। আমলাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক পথে পরিচালনা করার মাধ্যমে একটি দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়।

০৮. “অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের প্রতি হুমকিস্বরূপ।” রিচার্ড ক্রসম্যানের উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।  অথবা, “অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের প্রতি হুমকিস্বরূপ।”- আলোচনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি অপরিহার্য অংশ। বর্তমানে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দিন দিন এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের জন্য কল্যাণকর ভূমিকা পালনের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে জনস্বার্থ বিঘ্নিত কাজে আমলাতন্ত্র নিজেকে সম্পৃক্ত করছে, যা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

“অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের প্রতি হুমকিস্বরূপ”— রিচার্ড ক্রসম্যানের উক্তিটির ব্যাখ্যা : রিচার্ড ক্রসম্যানের মতে, আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে। আমলাতন্ত্রের ত্রুটির কারণে গণতন্ত্রের বিকাশের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ যেভাবে বাধাগ্রস্ত হয় তার আলোকে নিম্নে উক্তিটি ব্যাখ্যা করা।

১. উদাসীনতা : আমলারা প্রায়শই জনকল্যাণের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করে থাকেন তারা জনস্বার্থকে পাশ কাটিয়ে স্বীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলা করে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় বাস্ত থাকেন। ফলে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়।

২. বিভাগীয় সংকীর্ণতা : আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি কারণ হলো এ বিভাগবাদ বা বিভাগীয় সংকীর্ণতা। আমলারা কখনোই বিভাগীয় সংকীর্ণতা দূর করে জনস্বার্থের জন্য কাজ করতে পারেন না। ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। এ কারণে জনকল্যাণ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়।

৩. বিচ্ছিন্ন অবস্থান : আমলারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কম। তারা সবসময় জনগণ থেকে দূরে অবস্থান করেন। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রাণবন্ত হয়। কিন্তু আমলারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের কথা বিবেচনা করেন না।

৪. উন্নয়নের পথে অন্তরায় আমলাতন্ত্র সনাতন প্রশাসনিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনগণের নতুন ধ্যানধারণাকে আমলারা সহজে মেনে নিতে চান না। ফলে গণতন্ত্রের অন্তরায় হিসেবে আমলাতন্ত্রকে বিবেচনা করা হয়।

৫. অভিজাত শ্রেণির আধিপত্য : অনেক ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অভিজাত শ্রেণির লোকজনের সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। ফলে গুটিকয়েক লোক শাসনব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করেন।

যেহেতু অভিজাত সম্প্রদায় আমলাতন্ত্রের মূল হিসেবে কাজ করেন, সেহেতু তারা নিজেদের স্বার্থরক্ষায় বেশি ব্যস্ত থাকেন । গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকল শ্রেণির অংশগ্রহণের বিষয়টি তখন আর বজায় থাকে না।

৬. দায়িত্বহীনতা : আমলারা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রতিনিধি নন। তারা সর্বদা প্রশাসনিক দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্বাচিত সরকারের ওপর চাপিয়ে দিতে চান। আমলারা মনে করেন, যেহেতু তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তাই জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

ফলে প্রশাসনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আমলাদের দায়িত্বহীনতার কারণে জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হুমকির সম্মুখীন করে।

৭. রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা : আমলারা অনেক ক্ষেত্রে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে বেশি সুযোগ সুবিধা প্রধান করেন। তারা রাজনীতির সাথে পরোক্ষভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত করে নিয়ে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করেন। ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণ প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

৮. ক্ষমতার প্রতি লালসা : আমলাদের ক্ষমতার প্রতি লালসা গণতন্ত্রকে হুমকির সম্মুখীন করে। এটি তাদের বিরুদ্ধে অনেক বড় একটি অভিযোগ। আইন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতাকে তারা নিজেদের আয়ত্তাধীন রাখতে চান।

তারা সাধারণ জনগণের জন্য কল্যাণজনক কাজের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে স্বৈরাচারী মনমানসিকতা পোষণ করেন। আমলাদের এ মনোভাবের কারণে সাধারণ জনগণের বেশি ক্ষতি হয়।

৯. লাল ফিতার দৌরাত্ম্য : আমলারা সাধারণত কাজের ক্ষেত্রে অতি আনুষ্ঠানিকতা ও পূর্বনজিরকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। জনগণের চাহিদার কথা তারা বিবেচনা করতে চান না।

ফলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিকে আরও দীর্ঘায়িত ও বিড়ম্বনাপূর্ণ করে। এটি শুধু সাধারণ জনগণের ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

১০. ষড়যন্ত্রকারী : আমলাতন্ত্র অনেক ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিনষ্ট করে দিতে পারে। আমলারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে।

বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এ অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। স্বাভাবিক রাজনৈতিক অবস্থাকে নস্যাৎ করে দিয়ে একনায়কতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।

১১. স্বেচ্ছাচারিতা : ‘আমলারা অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব পোষণ করেন, কেননা তারা জনপ্রতিনিধি নন। এমনকি তারা প্রশাসনিক কাজের ভালো বা মন্দ কোনো কিছুর দায়ভার গ্রহণ করেন না।

উন্নত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা থাকার কারণে আমলারা নিজেদেরকে অন্যদের তুলনায় উন্নত মনে করেন এবং জনগণের সাথে স্বেচ্ছাচারিতা প্রদর্শন করেন। এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

১২. অবৈধ হস্তক্ষেপ : আমলারা অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কার্যাদি ছাড়াও নীতি নির্ধারণ ও আইনসংক্রান্ত কার্যাবলিতে জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রীদের ওপর প্রভাব খাটাতে চান, তারা আইন ও বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা হস্তগত করেন। এমন আচরণের কারণে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়। আমলাতন্ত্রকে এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে।

১৩. স্বতন্ত্র শ্রেণিবোধ : আমলারা পেশাগত যোগ্যতা ও শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা থেকে নিজেদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র শ্রেণিবোধ তৈরি করেন। ফলে তারা নিজেদেরকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের থেকে উন্নত মনে করেন। এতে তারা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্রের জন্য সমস্যা তৈরি করেন। নিজেদের পদকে বিরাট কিছু মনে করার কারণে তারা উপরের নির্দেশ মানতে চায় না ।

১৪. অনমনীয়তা : আমলারা অতি আনুষ্ঠানিকতার ওপর ভিত্তি করে কাজের ক্ষেত্রে অনমনীয় আচরণ করেন। অথচ সমাজের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুসারে নিয়মনীতি ও কর্মকাণ্ড নমনীয় হওয়া খুবই জরুরি।

অনমনীয় আচরণের ধারাবাহিকতার কারণে আমলারা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েন। তারা উপরের নির্দেশ মানতে চান না । ফলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।

১৫. দুর্নীতি : আমলাতন্ত্রে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা। দুর্নীতির কারণে সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। দুর্নীতির কারণে সাধারণ জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা, কল্যাণ ও দেশের সর্বাত্মক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়, যা গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়।

১৬. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাথে দ্বন্দ্ব : আমলারা উচ্চশিক্ষিত ও উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের থেকে উন্নত।

ফলে তারা নিজেদেরকে উন্নত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করে ফলে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আমলাতন্ত্রকে শাসনব্যবস্থার প্রাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক কিছু ত্রুটির কারণে তা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্রের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। গণতন্ত্রের পরিপন্থি এ ত্রুটিগুলোকে সংশোধন করার মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে একটি গতিশীল ও কার্যকরী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

০৯. ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্র সম্পর্কিত মতবাদটি মূল্যায়ন কর। অথবা, ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্র আলোচনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : আমলাতন্ত্র শাসনব্যবস্থায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত একটি সর্বজনীন সংগঠন। বর্তমান সময়ে আমলাতন্ত্র ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় না।

জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রের সার্থক ধারণা প্রদান করেছেন এবং নানান ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছেন।

ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্র সম্পর্কিত মতবাদ : জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েবার আমলাতন্ত্রের সার্থক প্রবক্তা। তিনিই সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রকে একটি যুক্তিসংগত ও আইনগত মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

তিনি তার সুবিখ্যাত ‘Eassays in Sociolgy’ গ্রন্থে আমলাতন্ত্রকে সুশৃঙ্খলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি মূলত আমলাতন্ত্র প্রত্যয়টি দ্বারা নির্দিষ্ট ধরনের প্রশাসনিক সংগঠনকে বুঝিয়েছেন। তিনি মূলত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব এ দুইটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমলাতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করেছেন।

ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের ধারণাটির মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা : ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) কর্তৃক প্রদত্ত আমলাতন্ত্রের মডেলটি বর্তমানে সর্বজনস্বীকৃত। নিম্নে এ ধারণাটির আলোচনা করা হলো-

১. পদক্রম নীতি : পদক্রম নীতি অনুযায়ী ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আমলাতন্ত্রে প্রশাসনিক পদগুলোকে সুসংগঠিত করা হয়। অর্থাৎ প্রত্যেকে কমপক্ষে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। অধস্তন কর্মচারীগণ তাদের কাজের জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট দায়ী থাকেন।

২. কর্ম বিশেষীকরণ: ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, আমলারা কোনো কাজে বিশেষভাবে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং বারবার একই কাজ করার কারণে কাজটিকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসবেন।

একেই কর্ম বিশেষীকরণ বলা হয়। নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্ম বিশেষীকরণের গুরুত্ব অত্যধিক। এর ফলে কোনো কাজের পুনরাবৃত্তি বা সংঘর্ষ সহজে পরিহার করা যায়।

৩. কঠোর আইন : ম্যাক্স ওয়েবার মনে করেন যে, আমলাদের কর্মকাণ্ড ও আচার আচরণ সুকঠোর আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। আইনের অনুমোদন ছাড়া তারা কোনো প্রশাসনিক কাজ করতে পারবেন না।

অর্থাৎ যেসব কাজ সম্পাদন করতে গেলে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব কাজের ক্ষেত্রে আইনের অনুমোদন থাকতে হবে। সুতরাং, আমলাদের কর্মকাণ্ড সংসদীয় ও প্রশাসনিক আইন দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

৪. নিয়োগ ব্যবস্থা : ম্যাক্স ওয়েবার বলেন, বিশেষ যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, যেমন-লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশাসনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। এক্ষেত্রে আমলাদের চাকরি স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

৫. বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি : ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অনুযায়ী সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ করতে হবে। বেতনের সাথে সাথে বিভিন্ন উপলক্ষে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

আমলাতন্ত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের বিষয়টি সংগঠনের সফলতা বা ব্যর্থতার সাথে সম্পৃক্ত নয়। সরকারি সংগঠনে আর্থিক সংকট দেখা দিলেও সরকারি কোষাগার থেকে অবশ্যই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান করতে হবে।

৬. লিখিত নির্দেশ : ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, আমলাতন্ত্রে গৃহীত সকল প্রকার সিদ্ধান্ত, আইন ও নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। কেননা আমলাতন্ত্রে লিখিত আইনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। লিখিত নির্দেশ আমলাতন্ত্রকে সাধারণ জনগণের নিকট জবাবদিহি করে তোলে। এটি এমন একটি নির্দেশিকা, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হয়।

৭. নৈর্ব্যক্তিকতা : ম্যাক্স ওয়েবারের অভিমত অনুসারে এটি আমলাতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার ব্যক্তিগত সুযোগসুবিধার কথা বিবেচনা না করে স্বীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন। তিনি কাউকে ব্যক্তিগত স্বার্থে সমর্থন বা কারও সাথে শত্রুতা পোষণ করবেন না। প্রশাসনের সফলতার জন্য তিনি দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন ।

৮. পরিবর্তনশীলতা : ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, পরিবর্তনশীলতা আমলাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আমলাদেরকে পরিবর্তন করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হয়। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় নিয়মাবলিকে সহজ বা কঠিন করতে হয় । আমলাদেরকে এ কাজ ধৈর্যসহকারে সুচারুরূপে করতে হয়।

৯. শান্তিশৃঙ্খলা ; আমলাতান্ত্রিক সংগঠনগুলোকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে ম্যাক্স ওয়েবার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, আমলারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কার্যাবলি সম্পাদন করবেন।

তারা এমন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবেন যার মাধ্যমে অন্য সকল আমলারা ভালোভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করতে পারেন। আমলারা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে কোনো ঝামেলাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে না।

১০. শ্রমবিভাগ : অন্যসব সংগঠনের মতো আমলাতান্ত্রিক সংগঠনেরও কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে থাকে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে হলে প্রয়োজনীয় কার্যাবলিকে নির্দিষ্ট উপায়ে বণ্টন করে দিতে হবে।

আর একেই বলে শ্রমবিভাগ। এটি ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের অন্যমত একটি বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সেগুলো যোগ্যতা অনুসারে বণ্টন করা হয়। তাই শ্রমবিভাগ আমলাতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

১১. নিয়মাবলি : ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, আমলাতন্ত্র জটিল সব নিয়মাবলি সংবলিত একটি সংগঠন। এটি কতিপয় নিয়মকানুনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমলাতন্ত্রের সকল কার্যক্রম নিয়মকানুন দ্বারা পরিচালিত হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পদোন্নতির নিশ্চয়তা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা এসব নিয়মাবলির ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়।

১২. দায়িত্ব ও কর্তব্য হস্তান্তর ম্যাক্স ওয়েবার বলেন, আমলাতন্ত্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য ব্যক্তিবর্গের নিকট দায়িত্ব ও কর্তব্য হস্তান্তর করতে হবে। এজন্য কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মধ্যে যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্বগুলো বণ্টন করতে হবে। শ্রমবিভাগ দ্বারা কাজগুলো আগেই ভাগ করে দেওয়া হলে পরবর্তীতে দায়িত্ব বণ্টন করতে সুবিধা হবে।

১৩. কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা : ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, আমলাতন্ত্রে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব অনুসারে নিজ নিজ ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকার পাবেন। কেননা তার মতে কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা ছাড়া দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য।

তবে এক্ষেত্রে কোন আমলা কতটুকু ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন তা প্রশাসনিক বিধি অনুসারে নির্ধারিত হতে হবে। আমলারা এক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা প্রদর্শন করতে পারবেন না। কেননা আমলারা লাগামহীন ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পেলে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারেন।

১৪. প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা : ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অব্যবহিত পরে আমলাদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কারিগরি জ্ঞানের গুরুত্ব অত্যধিক। তাই তাদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যোগ্যতা সম্পন্ন করে তুলতে হবে ।

১৫. স্থায়িত্ব : ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের স্থায়িত্ব দীর্ঘস্থায়ী থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব থাকতে হয়, কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। সরকারি সংগঠনের কার্যাবলিকে জনকল্যাণমূলক হিসেবে ধরে নেওয়া হয় বলে জনস্বার্থের খাতিরে দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব থাকতে হয় ।

১৬. নিরপেক্ষতা : ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, আমলারা নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনোকিছু দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও তারা সাধারণ জনগণের কল্যাণে স্বীয় দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ম্যাক্স ওয়েবার কর্তৃক প্রদত্ত আমলাতন্ত্রই বর্তমান বিশ্বে সর্বত্র অনুশীলন করা হচ্ছে। যদিও কিছু সমালোচনা রয়েছে,

তবুও তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমলাতন্ত্রের একটি সহজ ও সর্বজন বোধগম্য ব্যাখ্যা প্রদানের চেষ্টা করেছেন। কাজেই বিদ্যমান ত্রুটিসমূহের সমাধান করে আমলাতন্ত্রকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে হবে ।

১০. ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রকে আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্র বলার কারণ আলোচনা কর। অথবা, “ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্র আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্র ।”- বিশ্লেষণ কর ।

উত্তর : ভূমিকা : বর্তমানে আধুনিক রাষ্ট্রসমূহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আমলাতন্ত্র । বিভিন্ন প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে আমলাতন্ত্রের জন্ম হয়েছে।

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা গবেষণার মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে পরিপূর্ণতা দান করেছেন। ম্যাক্স ওয়েবারও তেমনই একজন যার আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্রের ধারণার জন্য তাকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

ম্যাক্স ওয়েবারের আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্র : জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার হচ্ছেন আমলাতন্ত্রের সার্থক প্রবক্তা। তিনিই সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রকে একটি যুক্তিসংগত ও আইনগত কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি তার বিখ্যাত ‘Essays in Sociology’ গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রকে আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্র বলার কারণ : ম্যাক্স ওয়েবার আমলাতন্ত্রকে মূল্যবান প্রশাসনিক যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি আমলাতন্ত্রকে আইনগত দিক থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। নিম্নে তার আমলাতন্ত্রকে আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্র বলার কারণ আলোচনা করা হলো-

১. পদক্রম নীতি : পদক্রম নীতি ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতান্ত্রিক মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পদক্রম নীতি বলতে এমন একটি পরিকল্পনাকে বুঝায় যার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন ও নিম্নতর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তির উপরে একজন কর্মকর্তা থাকেন এবং উপরন্তু ব্যক্তির নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়।

২. কর্ম বিশেষীকরণ : এটি ম্যাক্স ওয়েবারের আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আমলারা কোনো কাজে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বার বার একই কাজ করতে করতে দক্ষ হয়ে ওঠেন। কোনো পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কর্ম বিশেষীকরণের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।

৩. আইনগত কাঠামো : ম্যাক্স ওয়েবারের আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো আমলাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। আইনের অনুশাসন বলতে বুঝায় যেসব প্রশাসনিক কাজের জন্য সাধারণ নাগরিকদের অধিকার বিপন্ন হয়, সেসব কাজের পিছনে আইনের অনুমোদন থাকতে হবে। আমলারা ইচ্ছা করলেই স্বেচ্ছাচারী ও খেয়ালখুশি মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না ।

৪. নিয়মকানুন : ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আমলাতন্ত্রের অন্যতম আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো সকল কর্মকাণ্ড নিয়মকানুন অনুসারে পরিচালিত হবে। নিয়মকানুনের বাইরে যেসব আমলা কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা ক্ষমতা প্রয়োগ করবে তাদেরকে প্রশাসনিক আইনের অধীনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৫. কর্ম বিভাজন : ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো উচ্চ মাত্রায় কর্ম বিভাজন। প্রাথমিক অবস্থায় সকল সরকারি কর্মকাণ্ডগুলোকে কতিপয় বৃহৎ অংশে বিভক্ত করা হয়।

অতঃপর সেগুলোকে আরও ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্ম বন্টন করা হয়। এতে সংগঠনের কাজের গতি ত্বরান্বিত হয় ।

৬. যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ : নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ম্যাক্স ওয়েবারের আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।

আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের প্রতিটি পদকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যেমন- লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে।

৭. সুষ্ঠু প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা : আমলাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করাও ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই চলবে না; বরং সুষ্ঠু প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর একজন আমলা কমপক্ষে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ সুবিধা পেয়ে থাকেন। পদোন্নতি পাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। এমনকি প্রশাসনিক কাজে কোনো আমলা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।

৮. পদোন্নতির সুযোগ : জ্যেষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পদোন্নতির সুযোগ আছে। এটি ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।

পদোন্নতি কখনও কখনও বিশেষ দক্ষতার ওপর ভিত্তি করেও হয়ে থাকে। বর্তমানে পদোন্নতির ক্ষেত্রে দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতা উভয়টি বিবেচনা করে পদোন্নতি প্রদান করা হয়।

৯. বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি : প্রশাসনে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারিশ্রমিক হিসেবে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করা ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্দিষ্ট থাকে এবং পদ অনুসারে বিভিন্ন রকম হতে পারে। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

১০. নৈর্ব্যক্তিকতা : ম্যাক্স ওয়েবার কর্তৃক প্রদত্ত আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্রে নৈর্ব্যক্তিকতা বা নৈর্ব্যত্তিক আদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রে পদের চেয়ে পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ আদেশের বলেই নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুগত্য লাভ করে থাকেন। নৈর্ব্যক্তিকতার একটা সীমরেখা আছে যেটা অতিক্রম করা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য সমীচীন নয়।

১১. নিরপেক্ষতা : ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো আমলারা নিরপেক্ষভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো দলীয় রাজনীতির প্রভাব আমলাতন্ত্রে পড়বে না। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হলেও আমলারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাবেন।

১২. স্থায়িত্ব : সরকারি আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ভোগ করবে। এটি ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নির্ভর করে সংগঠনের মুনাফা অর্জনের ওপর। কিন্তু সরকারি সংগঠনে জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ভোগ করতে হয়। তবে জনগণ চাইলে আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

১৩. পরিবর্তনশীলতা : এটি ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। আমলাদেরকে পরিবর্তনীয় মনমানসিকতার অধিকারী হতে হয়। রাষ্ট্রনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষমতাসীন দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুসারে আমলাদেরকে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হয়। সাধারণ জনগণের সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে আমলাতন্ত্রের নিয়মাবলিতে পরিবর্তন আনার মানসিকতা আমলাদের থাকতে হবে।

১৪. নিরবচ্ছিন্নতা : বার বার সরকার পরিবর্তন হলেও প্রশাসনিক কাজের নিরবচ্ছিন্নতা আমলারা বজায় রাখেন। অর্থাৎ দলীয় সরকারের প্রায়ই পরিবর্তন ঘটলেও আমলারা ঠিকই টিকে থাকেন। প্রশাসনিক কাজে নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, কালের বিবর্তনে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আমলাতন্ত্রে অনেক অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে।

কিন্তু তারপরেও আমলাতান্ত্রিক ধারণার ক্ষেত্রে ম্যাক্স ওয়েবারের বিকল্প কেউ উপাস্থাপন করতে পারেননি। তাই বর্তমানেও ওয়েবারের আমলাতন্ত্রকে আদর্শ প্রকৃতির আমলাতন্ত্র বলে বিবেচনা করা হয়।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন
গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। (PDF) অধ্যায়৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *