(PDFফ্রি) রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি:রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

(PDFফ্রি) রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি:রচনামূলক প্রশ্নোত্তর: ২য় অধ্যায় পরিচিতি:রচনামূলক প্রশ্নোত্তর, সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

(PDFফ্রি) রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি:রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

অনার্স প্রথম বর্ষ
বিষয়ঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি
অধ্যায় ২ – রাষ্ট্র(State)
বিষয় কোডঃ ২১১৯০৯

গ-বিভাগঃ রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

০৪. রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
অথবা, রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে বৈসাদৃশ্য আলোচনা কর

উত্তরঃ ভূমিকা : বর্তমান বিশ্বে ‘রাষ্ট্র’ ও ‘সরকার’ এমনভাবে সম্পর্কযুক্ত যে, এদের একটির অবর্তমানে অন্যটি অচল। প্রাচীনকালে রাষ্ট্র ও সরকারকে অভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হতো। আসলে রাষ্ট্র ও সরকার দুটি ভিন্ন প্রত্যয়। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সরকার একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও উভয়ের মধ্যে রয়েছে বিরাট পার্থক্য । রাষ্ট্র ও সরকারের পার্থক্য জানার আগে এ দুটি প্রত্যয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য : নিম্নে রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে পার্থক্যসমূহ আলোচনা করা হলো—

১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য : যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সুসংগঠিত সরকার সার্বভৌম আধিপত্য এবং স্থায়ীভাবে বসবাসকারী জনসমষ্টি রয়েছে তাকে রাষ্ট্র বলে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত শাসন, আইন ও বিচার বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমষ্টিকে সরকার বলে ।

২. রাষ্ট্র জীবদেহ, সরকার তার মস্তিষ্ক রাষ্ট্র অনেকটা জীবদেহের মতো আর সরকার হচ্ছে মস্তিষ্কের মতো। মস্তিষ্ক ও জীবদেহ যেমন এক ও অভিন্ন নয়, রাষ্ট্র ও সরকার তেমনি এক ও অভিন্ন নয়। জীবদেহের মতো মস্তিষ্কের নির্দেশে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় ।

৩. রাষ্ট্র সমগ্র কিন্তু সরকার তার অংশ : রাষ্ট্র গঠিত হয় জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌমত্বের সমন্বয়ে। কিন্তু সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান। রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ একটি সার্বভৌম সংস্থা এবং সরকার তার অংশ।

৪. রাষ্ট্র সংগঠিত প্রতিষ্ঠান, সরকার তার মুখপাত্র : রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকার তার মুখপাত্র সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ইচ্ছা সংগঠিত হয়, প্রকাশিত হয় এবং কার্যকরী হয়। রাষ্ট্রকে কোনো সংস্থা মনে করলে সরকারকে সে সংস্থার পরিচালক মনে করতে হবে।

৫. সকল রাষ্ট্র এক প্রকার কিন্তু সরকার বিভিন্ন : রাষ্ট্রের উপাদান জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমিকতা সব রাষ্ট্রে একই। কিন্তু সরকার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন— গণতান্ত্রিক বা একনায়কতান্ত্রিক, রাষ্ট্রপতি বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত, এককেন্দ্রিক বা যুক্তরাষ্ট্রীয়, ধনতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক সরকার ইত্যাদি।

৬. রাষ্ট্রের আওতা বৃহত্তর : রাষ্ট্র গঠিত হয় ভূখণ্ডের সকল জনসমষ্টির সমন্বয়ে, কিন্তু সরকার গঠিত হয় শুধু তাদের নিয়ে যারা শাসনকার্য পরিচালনা করে। রাষ্ট্র গঠিত হয় শাসক ও শাসিতদের সহযোগে, কিন্তু সরকার গঠিত হয় শুধু শাসকবৃন্দ নিয়ে ।

৭. রাষ্ট্র স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, সরকার সদা পরিবর্তনশীল : যেকোনো সময় সরকারের পরিবর্তন ঘটতে পারে কিন্তু এতে রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের কোনো বিঘ্ন ঘটে না। যুদ্ধে, জয়-পরাজয় এবং প্রাকৃতিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণে রাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত পরিবর্তন এমনকি বিলুপ্তিও হতে পারে।

৮. রাষ্ট্র অমূর্ত ধারণা, সরকার বাস্তব প্রতিষ্ঠান : রাষ্ট্রকে দেখা যায় না কিন্তু অনুধাবন করা যায় মাত্র। রাষ্ট্র ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। কিন্তু সরকার ধরা ছোঁয়ার বাইরে নয়। যে জনসমষ্টি নিয়ে সরকার গঠিত হয় তাদের দেখা যায় এবং জানাও যায়। সুতরাং রাষ্ট্র অমূর্ত ধারণা, কিন্তু সরকার মূর্ত ধারণা।

৯. রাষ্ট্র সকল নাগরিক অধিকারের উৎস, কিন্তু সরকার নয় : নাগরিক অধিকারের ওপর সরকারি কিংবা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ঘটলে শুধু সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়ন করা যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আনয়ন করা যায় না। সুতরাং রাষ্ট্র সব ধরনের আইন ও অধিকারের উৎস, কিন্তু সরকার এর রক্ষক মাত্র।

১০. রাষ্ট্র একটি সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান, সরকার নয় রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এবং অসীম ক্ষমতাশীল। কিন্তু সরকার রাষ্ট্র প্রদত্ত সীমিত ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রের ক্ষমতা সরকারের দ্বারা পরিচালিত হয় মাত্র।

১১. রাষ্ট্র ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান, সরকার নয় রাষ্ট্রের সাথে ভূখণ্ডের সীমানার সম্পর্ক বিদ্যমান, কিন্তু সরকারের সাথে ভূখণ্ডের সীমানার সম্পর্ক নেই। রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড থাকতে হয়। কিন্তু সরকারে আইন, আদেশ ও নির্দেশ রাষ্ট্রীয় সীমানায় বলবৎযোগ্য হলেও তার কার্যসীমা ও প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

১২. সীমানাগত পার্থক্য : সীমানাগত দিক বিচেনা করলে রাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট সীমানা আছে। অন্যদিকে, সরকারের নির্দিষ্ট কোনো সীমানা নেই।

১৩. বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রেরই প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য একই রকম। সবদিক দিয়েই রাষ্ট্রগুলো অভিন্ন থাকে। কিন্তু সকল সরকারের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য এক নয় ।

১৪. রাষ্ট্র মৌলিক প্রতিষ্ঠান, সরকার তার সংগঠন সংজ্ঞানুসারে ও প্রকৃতিগতভাবে রাষ্ট্রকে একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে সরকার কখনই মৌলিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি একটি সংগঠন যা রাষ্ট্রের আওতাধীন।

১৫. সমালোচনামূলক পার্থক্য : রাষ্ট্র হচ্ছে চরম ক্ষমতার প্রতিষ্ঠান। এর কখনই সমালোচনা করা যায় না। অন্যদিকে সরকার হচ্ছে একটি কৃত্রিম সংগঠন। এর চরম সার্বভৌমত্ব নেই। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা যায়।

১৬. অভিযোগ আনয়নের ক্ষেত্রে পার্থক্য রাষ্ট্রের চরম সার্বভৌমত্বের দরুন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়ন করা যায় না। কিন্তু সরকারের বিরদ্ধে সহসাই অভিযোগ আনয়ন করা যায়।

১৭. সরকারের সদস্য রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত : রাষ্ট্র গঠনে জনসমষ্টির প্রত্যেকেই অংশীদার। সরকারের সদস্য থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সকলেই রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। শাসক ও শাসিত সকলেই রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে তেমনি উভয়ের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও রয়েছে। রাষ্ট্র ছাড়া যেমন সরকার কল্পনা করা যায় না তেমনি সরকার ছাড়াও রাষ্ট্র চলতে পারে না। সুতরাং রাষ্ট্র ও সরকার উভয়েই অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কযুক্ত। রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করেই সরকার এবং সরকারকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্র।

০৫ বর্তমানে সকল রাষ্ট্রের আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে– আলোচনা কর।
অথবা, সাম্প্রতিককালে আইনসভার ক্ষমতা হ্রাসের কারণগুলো বিশ্লেষণ কর।

উত্তর : ভূমিকা : গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করে। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম। কিন্তু বিংশ শতকে রাজনৈতিক আলোচনায় শাসন বিভাগের প্রাধান্যের অপ্রতিহত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস পায়। বর্তমানে আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস এবং শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

আইনসভার ক্ষমতা হ্রাসের কারণ যেসব কারণে আইনসভার ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. জনকল্যাণমূলক কাজ বৃদ্ধি : রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক কাজ বেড়ে গিয়েছে। জনগণ এখন আইনসভা অপেক্ষা শাসন বিভাগের দিকে বেশি তাকিয়ে থাকে। যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিগণ এখন আইন বিভাগ অপেক্ষা শাসন বিভাগের দায়িত্ব পালনে অধিক আগ্রহী । ফলে আইন বিভাগের প্রাধান্যের পরিবর্তে শাসন বিভাগের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

২. আইনসভার গুণগতমান : জাতীয় জীবনের বৃহত্তর স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে আইনসভা কার্যত শাসন বিভাগের এ প্রাধান্যমূলক কার্যকে মেনে নিতে বাধ্য হয়। জ্ঞানী গুণি ব্যক্তি নির্বাচনে যেতে চায় না সে কারণে সংসদে সাধারণ ব্যক্তির সমাগম ঘটে। ফলে জনগণের আস্থা আইনসভার গুণগত মান থাকে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তা আইন বিভাগের প্রাধান্যের পরিবর্তে শাসন বিভাগের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩. অর্থনীতিসংক্রান্ত রাষ্ট্রের বহুবিধ অর্থনৈতিক সংকট ও সমস্যা মোকাবিলায় শাসন বিভাগই গুরু দায়িত্ব পালন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট ‘নিউ ডিল’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। সর্বোপরি জাতীয় সংকট ও জরুরি অবস্থায় আইনসভা প্রয়োজনমতো দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। ফলে শাসন বিভাগের ক্ষমতার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায় ।

৪. আইন প্রণয়নের জটিলতা : আইন প্রণয়নের জটিলতা বৃদ্ধি আইনসভার ক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ। আইনের খুঁটিনাটি সূক্ষ্ম বিষয় ও জটিলতা সম্পর্কে আইনসভা অধিকাংশ সমস্যা ঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারে না। কিন্তু শাসন বিভাগ এ সমস্যা ঠিকভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম ফলে শাসন বিভাগের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায় ।

৫. সরকার ও জনগণের সংযোগ : সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ সাধনের মাধ্যম হিসেবে আইনসভার ভূমিকা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে এবং শাসন বিভাগের ভূমিকা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সময়ে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ও সংগঠন জনগণের স্বার্থ ও সমস্যাবলি সম্পর্কে সরকারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে । ফলে আইনসভার প্রধান্য হ্রাস পায়।

৬. আইনের বিবর্তন : আইন প্রণয়নের জটিলতা বৃদ্ধি আইনসভার ক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ। বর্তমানে আইনের চরিত্র অনেকাংশেই পাল্টে গেছে। এসব কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন। আর শাসন বিভাগ এ নেতৃত্বদানে দক্ষ । তাই শাসন বিভাগের প্রাধান্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৭. সমালোচনায় অক্ষমতা : শাসন বিভাগের কাজকর্ম সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য আইনসভার হাতে নেই। তাই আইনসভা কার্যকরভাবে শাসন বিভাগের সমালোচনা করতে পারছে না। ফলে শাসন বিভাগের সাথে জনগণের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, আইন বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস পায় ।

৮. সংসদীয় ব্যবস্থা ব্যর্থ : অনুন্নত ও উন্নয়নশীল অধিকাংশ দেশে প্রবর্তিত সংসদীয় ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক দুর্বলতা, দলীয় কোন্দল, রাজনৈতিক দলের অক্ষমতা প্রভৃতি কারণে সংসদীয় সরকারের ব্যর্থতা সূচিত হয়। এ প্রসঙ্গে র‍্যামজে ম্যূর (জধসংধু গঁরৎ) এর অভিমত হলো যে, “শাসন বিভাগের ক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ক্যাবিনেটে নায়কতন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছে।”

৯. শাসন বিভাগের দায়িত্ব প্রতিস্থাপন : আইন প্রণয়ন, প্রশাসন পরিচালনা, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, বিভিন্ন আর্থসামাজিক বিষয় সর্বক্ষেত্রেই শাসন বিভাগকেই দায়িত্ব পালন করতে হয়। আইনসভা শাসন বিভাগের নেতৃত্বে শামিল হয়ে পড়েছে। আইনসভার পরিষদের সদস্যদের তুলনায় শাসন বিভাগের সদস্যরা অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। ফলে শাসন বিভাগের প্রতি জনগণ অধিক আস্থাশীল হয় ফলে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ।

১০. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন : বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার অভাবনীয় উন্নতির ফলে আইনসভা পূর্বের মতো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে শাসন বিভাগকে নানাবিধ কার্য সম্পাদন করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ কারণে আইনসভার মর্যাদা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।

১১. শাসন বিভাগের সার্বভৌমত্ব : আধুনিক সরকারের জটিল সমস্যার সমাধান ও অন্যান্য দায়িত্ব সম্পাদনের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় শাসন বিভাগ অধিকতর যোগ্য নেতৃত্ব প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে। আইন সভার সদস্যদের তুলনায় শাসন বিভাগ অধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এর সক্ষম নেতৃত্বে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে ।

১২. অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা : শাসন বিভাগের হাতে অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা ও জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা থাকায় আইন বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস পায়। অনেক সময় আইসভায় মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেও শাসন বিভাগ আইন সভাকে ভেঙে দেয় ।

শাসন বিভাগ অনেক সময় তাদের সৈরাচারী ক্ষমতা বহাল রাখার জন্য সাংবিধানিক ক্ষমতা স্থগিত রেখে আইনসভার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ফলে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

১৩. জাতীয় সংকট জাতীয় সংকট মোকাবিলা ও জরুরি প্রয়োজনে আইসভা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। এ সমস্ত ক্ষেত্রে আইনসভার সদস্যরা তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে না। ফলে শাসন বিভাগের ওপর জনগণের নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার একটি অন্যতম কারণ এটি।

১৪. তথ্যের অপর্যাপ্ততা আধুনিক কালে সরকারি কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি আইনসভার কাছে নেই । আইন বিভাগ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাবে অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না ।

ফলে শাসন বিভাগের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে। প্রয়োজনীয় তথ্যাদি না থাকায় বিপুল দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে আইনসভা এই ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব পালন করতে পারে না। তাই আইনসভার গুরুত্ব ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।

১৫. কূটনীতি কূটনীতির মারপ্যাচ ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব শাসন বিভাগকে বহন করতে হয়। সামরিক ও প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে গোপনীয়তা রক্ষা করা দরকার। আইনসভার খোলামেলা আলোচনায় তা সম্ভব হয় না। সর্বোপরি যুদ্ধ ও জাতীয় সংকটে আইনসভা প্রয়োজনমত দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না ।

১৬. শাসন বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা : জনগণ এখন আইনবিভাগ অপেক্ষা শাসন বিভাগের দিকে বেশি তাকিয়ে থাকে। জনকল্যাণের জন্য সরকারকে বহুবিধ কার্য করতে হয়। যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিগণ এখন আইন বিভাগ অপেক্ষা শাসন বিভাগের দায়িত্ব পালনে অধিক আগ্রহী। এরূপে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

১৭. শাসন বিভাগের দক্ষতা : আইন পরিষদের সদস্যদের তুলনায় শাসন বিভাগের সদস্যরা বেশি সম্মানের অধিকারী । শাসন বিভাগ জনগণের নানাবিধ প্রয়োজনের সাথে পরিচিত হয়। ফলে শাসন বিভাগের সাথে জনগণের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় । এর ফলে আইন বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আইনসভা প্রত্যেক দেশের উন্নতিকল্পে গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদনে করে থাকে। তবে বর্তমানে আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শাসন বিভাগের এ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস সংশ্লিষ্ট সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। তবে শাসন বিভাগের ক্ষমতা যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, আইনসভার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই ।

০৬. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কীভাবে রক্ষা করা যায়?
অথবা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণের উপায় আলোচনা কর

উত্তর : ভূমিকা : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার মাধ্যমে জনগণকে শাসন বিভাগের স্বৈরাচার থেকে রক্ষা করা যায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্রের সুষ্ঠু প্রয়োগ কল্পনাও করা যায় না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে লর্ড ব্রাইস বলেছেন, “কোনো দেশের সরকারের কৃতিত্ব পরিমাপ করার সর্বোত্তম মাপকাঠি হচ্ছে বিচার বিভাগের দক্ষতা ও যোগ্যতা। নানাবিধ উপায়ে বিচার বিভাগের এই স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেভাবে রক্ষা করা যায় নিম্নে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার উপায় আলোচনা করা হলো—

১. শাসন বিভাগের স্বৈরাচারিতা রোধ : রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করার ফলে অনেক সময় স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। আর শাসন বিভাগ যদি স্বৈরাচারী হয় তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই শাসন বিভাগের স্বৈরাচারীতা রোধ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়। তাই অধ্যাপক লাস্কি মন্তব্য করেছেন, “The independence of the judiciary is essential to freedom. In that sense the doctrine of separation of powers enshrines permanent truth.”

২. স্থায়িত্ব : বিচারকদের কার্যকলাপের স্থায়িত্বের ওপরও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিশেষভাবে নির্ভরশীল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচারকরা অক্ষম হয়ে না পড়লে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত পদে বহাল থাকেন। হ্যামিলটন (Hamilton)-এর মতে, বিচারকগণের পদের স্থায়িত্ব শাসনব্যবস্থায় উৎকর্ষের অন্যতম পরিচায়ক। বিচারকদের পদচ্যুতি করার ক্ষমতা কোনো অবস্থাতেই শাসন বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা উচিত নয়।

৩. নিরপেক্ষতা : বিচারপতিদের কাজের সমালোচনার ওপর বাধানিষেধ আরোপ করা দরকার। বিচারপতিদের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে নির্ভিকভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়।

৪. বিচারকদের পদচ্যুতি : বিচারকদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিচার সাধারণত আইসভায় সম্পাদিত করা যায় না। এ ব্যাপারে বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। যেমন— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিশংসন পদ্ধতিতে বিচারকের পদচ্যুত করা যায়। মার্কিন কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধি সভা অভিযোগ উত্থাপন করে এবং সিনেট অভিযোগের বিচার করে। ব্রিটেনে রাজা বা রানি পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের যৌথ আবেদনের ভিত্তিতে বিচারককে পদচ্যুত করতে পারে।

৫. উপযুক্ত বিচারপতি নিয়োগ : সুষ্ঠুভাবে বিচারকার্য সম্পাদনের জন্য ] উপযুক্ত বিচারপতি একান্তভাবে দরকার। অযোগ্য ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হলে ন্যায়বিচার পদদলিত হতে বাধ্য । তেমনি বিচারপতিদেরও কোনো রাজনৈতিক পদে নিযুক্ত করা অনুচিত। সৎ, সাহসী ও যথার্থ আইনজ্ঞ ব্যক্তিগণ বিচারপতিদের পদে আসীন হলে ন্যায় বিচারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৬. নিয়োগ পদ্ধতি : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিচারকদের নিয়োগ পদ্ধতির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিচারপতিদের সাধারণ তিনটি পদ্ধতিতে নিয়োগ করা যায়—
ক. জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নিবার্চন,
খ. আইনসভা কর্তৃক মনোয়ন এবং
গ. শাসন বিভাগ কর্তৃক নিয়োগ আইনসভার দ্বারাও বিচারপতি নিয়োগ করা যায়। বর্তমানে প্রধান নির্বাহী কর্তৃক বিচারক নিয়োগের পদ্ধতি অনুসৃত হয়ে থাকে। যোগ্যতম বিচারক নিয়োগের এটাই উত্তম পন্থা ।

৭. পদোন্নতি : যথাসময়ে পদোন্নতি না পেলে মানুষ হতাশায় ভোগে শিকার হয় এবং দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রদর্শন করে। বিচারকদের বেলায়ও এটি প্রযোজ্য। সাধারণত জ্যেষ্ঠনীতির ভিত্তিতে পদোন্নতি হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা এবং মেধাও পদোন্নতির ভিত্তি হতে পারে ।

৮. বেতন কাঠামো : স্বল্প বেতনভোগী বিচারকদের দুর্নীতিপরায়ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শ্রেষ্ঠ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বিচারক পদে আকৃষ্ট করার জন্য বিচারকের বেতন ও ভাতা পর্যাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ জরুরি অবস্থা ব্যতীত বিচারকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে তাদের বেতন, ভাতা ও সুযোগ সুবিধার পরিবর্তন করা উচিত নয়।

৯. সামাজিক অবস্থান : বিচারক নিয়োগের পূর্বে তার পারিবারিক অবস্থান, মর্যাদা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবস্থা প্রভৃতি বিষয়েও অবগত হওয়া প্রয়োজন। সামাজিক অবস্থাজনিত কারণের জন্য বিচারপতিদের মূল্যবোধ, মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত হয়ে থাকে । তাই সামাজিক ঘটনা, প্রভাব ও চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে কাজ করা বিচারকের পক্ষে সম্ভব নয়।

১০. বিচারকদের ওকালতি বন্ধকরণ : অবসর গ্রহণের পর আদালতে ওকালতি করলে বা কোনো কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করলে বিচার বিভাগের রায় ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্য পূর্বতন পরিচয় ও প্রভাবকে প্রয়োগ করতে পারেন । বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের পর কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের অধীনে তাদের ওকালতি নিষিদ্ধ করা উচিত ।

১১. নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ : সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই বিচার বিভাগ নাগরিকদের উপযুক্ত অধিকারসমূহ সংরক্ষণ করতে গিয়ে কয়েকটি বিশেষ পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করে। এ পদ্ধতিসমূহ হলো— ক. হেবিয়াস কর্পাস (Habeas corpus), খ. ম্যানডেমাস (Mandamus), গ. সার্সিওয়ারি (Certiorari) এবং ঘ. কোয়ারেন্টো (Quowarranto).

১২. বিচারকদের নিরাপত্তা : আলফ্রেড ডেনিং (অষভৎবফ উবহহরহম) এর মতে, “সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলো বিচার বিভাগ, যা জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে সে উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার রিট জারি করে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য বিচারকদের পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেক সময় বিচারকগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকাংশে কমিয়ে ফেলে।”

১৩. লিখিত সংবিধান : অধ্যাপক গার্নার (চৎড়ভ. এধৎহহবৎ) এর মতে, “বিচার বিভাগের অস্তিত্ব ব্যতিরেকে সভ্য রাষ্ট্রের কল্পনা করা যায় না।” সংবিধান হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন, যার মাধ্যমে দেশের শাসনকার্য পরিচালিত হয়। যদি বিচারকরা লিখিত সংবিধানের ধারা অনুযায়ী রায় দেয় তাহলে জনগণের মধ্যে রায় সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না। তাই লিখিত সংবিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করে ।

১৪. বিচারক নির্বাচন পদ্ধতি : জনগণের দ্বারা বিচারক নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে বিচারকগণ জনসমর্থন লাভের আশায় সতত জনসাধারণের সন্তুষ্টি বিধানে আত্মনিয়োগ করবেন। বিচারপতি পদে উপযুক্ত ব্যক্তিকে বাছাই করার জন্য প্রয়োজনীয় বিচারবুদ্ধি বা যোগ্যতা জনসাধারণের থাকে না। এই কারণে জনগণের দ্বারা নির্বাচনের মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি অধ্যাপক লাস্কি (খধংশর) এর মতানুসারে একটি নিকৃষ্ট পদ্ধতি ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বিচার বিভাগ আইনকে যেভাবে ব্যাখ্যা করবে, আইন সেভাবেই পরিচালিত হবে এবং প্রয়োগ করা হবে। আইনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিচারপতিগণের বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।

যাতে আইনের অপব্যবহার রোধ করে সুষ্ঠু প্রয়োগ করা যায়। তবে বিচার বিভাগ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হওয়ায় একে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে এর সুষ্ঠু প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব নয়।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন
গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। (PDFফ্রি) রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি:রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *