• আমাদের সম্পর্কে
  • গোপনীয় নীতি
  • বিজ্ঞাপন
  • যোগাযোগ করুন
  • শর্তাবলী
  • জাগোরিকে লিখুন
Wednesday, August 5, 2026
  • Login
Jagorik
  • একাডেমিক
    • সকল শ্রেণির বই
    • প্রথম শ্রেণী
    • দ্বিতীয় শ্রেনী
    • তৃতীয় শ্রেণী
    • চতুর্থ শ্রেণি
    • পঞ্চম শ্রেণি
    • ষষ্ঠ শ্রেণি
    • সপ্তম শ্রেণি
      • সপ্তম শ্রেণি: ইংরেজি
      • সপ্তম শ্রেণি: বাংলা ২য়
      • সপ্তম শ্রেণি: ডিজিটাল প্রযুক্তি
    • অষ্টম শ্রেণী
    • বিদেশে পড়াশোনা
      • স্কলারশিপ
      • আমেরিকা
      • ফিনল্যান্ড উচ্চ শিক্ষা
      • ভারত
      • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং
    • বিসিএস পরীক্ষা
  • এসএসসি
  • এইচএসসি
  • অনার্স
  • মাস্টার্স
  • স্কিল
    • এসইও
    • ওয়েব ডিজাইন
    • কোডিং শিখুন
    • অনলাইনে ইনকাম
    • ফ্রিল্যান্সিং শিখুন
  • স্বাস্থ্যবার্তা
    • ঔষধের নাম
    • স্বাস্থ্য
    • ত্বকের যত্ন
    • নারী স্বাস্থ্য
    • বিউটি টিপস
    • মা ও শিশু
  • আইন
  • চাকরি
  • অন্যান্য
    • আবেদন পত্র
    • জাগোরিক স্পেশাল
    • উপবৃত্তি
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • জানা-অজানা
    • সপ্তম শ্রেণি: ইংরেজি
    • তথ্য প্রযুক্তি
    • ইংরেজি শিখুন
    • লতা-পাতা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • কুইজ
    • আমার প্রতিষ্ঠান
    • গেস্ট ব্লগিং
  • দোয়া
  • শিক্ষা সংবাদ
No Result
View All Result
  • একাডেমিক
    • সকল শ্রেণির বই
    • প্রথম শ্রেণী
    • দ্বিতীয় শ্রেনী
    • তৃতীয় শ্রেণী
    • চতুর্থ শ্রেণি
    • পঞ্চম শ্রেণি
    • ষষ্ঠ শ্রেণি
    • সপ্তম শ্রেণি
      • সপ্তম শ্রেণি: ইংরেজি
      • সপ্তম শ্রেণি: বাংলা ২য়
      • সপ্তম শ্রেণি: ডিজিটাল প্রযুক্তি
    • অষ্টম শ্রেণী
    • বিদেশে পড়াশোনা
      • স্কলারশিপ
      • আমেরিকা
      • ফিনল্যান্ড উচ্চ শিক্ষা
      • ভারত
      • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং
    • বিসিএস পরীক্ষা
  • এসএসসি
  • এইচএসসি
  • অনার্স
  • মাস্টার্স
  • স্কিল
    • এসইও
    • ওয়েব ডিজাইন
    • কোডিং শিখুন
    • অনলাইনে ইনকাম
    • ফ্রিল্যান্সিং শিখুন
  • স্বাস্থ্যবার্তা
    • ঔষধের নাম
    • স্বাস্থ্য
    • ত্বকের যত্ন
    • নারী স্বাস্থ্য
    • বিউটি টিপস
    • মা ও শিশু
  • আইন
  • চাকরি
  • অন্যান্য
    • আবেদন পত্র
    • জাগোরিক স্পেশাল
    • উপবৃত্তি
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • জানা-অজানা
    • সপ্তম শ্রেণি: ইংরেজি
    • তথ্য প্রযুক্তি
    • ইংরেজি শিখুন
    • লতা-পাতা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • কুইজ
    • আমার প্রতিষ্ঠান
    • গেস্ট ব্লগিং
  • দোয়া
  • শিক্ষা সংবাদ
No Result
View All Result
Jagorik
No Result
View All Result

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF

Jagorik Editor by Jagorik Editor
in HSC বাংলা প্রথম পত্র
Reading Time: 2 mins read
A A
0
ফেসবুকে শেয়ার করুনটুইটারে টুইট করুনপিন্টারেস্টে পিন করুনলিংকডিনে শেয়ার করুন

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF : বাংলা ১ম পত্রের তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি হতে যেকোনো ধরনের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর গুলো আমাদের এই পোস্টে পাবেন ।

প্রিয় ছাত্র ছাত্রী বন্ধুরা আল্লাহর রহমতে সবাই ভালোই আছেন । এটা জেনে আপনারা খুশি হবেন যে, আপনাদের জন্য বাংলা ১ম পত্রের তাহারেই পড়ে মনেকবিতাটি হতে গুরুপূর্ণ কিছু সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি ।

সুতরাং সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আর এইচ এস সি- HSC এর যেকোন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সকল সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

অনুশীলন অংশ 

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
যারে খুব বেসেছিনু ভালো
সে মোরে ছেড়ে চলে গেল
যে ছিল মোর জীবন ছায়া
রেখে গেছে শুধু মায়া।
লাগে না ভালো অপরূপ প্রকৃতি
যতই করুক কেউ মিনতি
আমি এখন রিক্ত শূন্য
মন পড়ে রয়েছে তার জন্য
সে দিল মোরে কেমনে ফাঁকি
আমি এখন বড় একাকী।

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
খ. “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের প্রথম দুচরণে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? আলোচনা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি যেন ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবির মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে। তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

খ. “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা”উক্তিটি দ্বারা সানন্দে বসন্ত না করে তার দিকে কবির মুখ ফিরিয়ে থাকার কথা বোঝানো হয়েছে।
প্রতি বছর বসন্তের আগমন ঘটে। গাছে গাছে ফুল ফোটে, বিচিত্র রঙের ফুলে ফুলে শাখা ভরে যায়। ৎ

মাধবী কুঁড়ি সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয় চারদিকে। প্রকৃতি বিচিত্র সাজে সজ্জিত হয়ে ফুল ও তার সৌরভ উপহার দিয়ে বসন্তকে বরণ করে নেয়। কবি ভক্তের অনুযোগ, বসন্তকে কবি বরণ না করায়, বসন্তের আবেদন যেন গুরুত্ব হারিয়েছে।

কবিভক্ত বুঝতে পারছেন না, কেন কবি বসন্তের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঋতুরাজকে উপেক্ষা করে কবি যেন তাকে তীব্র ব্যথা দিয়েছেন।

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF
HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF

গ. উদ্দীপকের প্রথম দুচরণে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার বিষাদময় রিক্ততার হাহাকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে, তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ভরিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কবিমন যদি কোনো কারণে শোকাচ্ছন্ন বা বেদনা ভারাতুর থাকে তবে তা কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারবে না।

কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণœ ছবি। তাঁর মন গভীরভাবে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাঁর কণ্ঠ নীরব। শীতের করুণ বিদায়কে কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। আর তাই বসন্তও তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। প্রসঙ্গত উলে­খ্য, তাঁর প্রথম স্বামী তাঁর কাব্য সাধনার প্রেরণা-পুরুষ ছিলেন।

তাঁরই আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণœ বেদনার রিক্ততার সুর বেজে উঠেছে, তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় বিধৃত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও রয়েছে আকস্মিক বিচ্ছেদ-বেদনার করুণ হাহাকার। কেননা, কবি যাকে ভালোবেসেছিলেন। সে ছিল তাঁর জীবন-ছায়া, সে শুধু মায়াভরা স্মৃতি রেখে তাঁর জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে।

তাঁর জীবন এখন ফাঁকা, তিনি এখন একাকী। সব সৌন্দর্যবোধ, সব কিছুর গুরুত্ব এখন ম্লান হয়ে গেছে। তাই অপরূপ প্রকৃতির রূপের প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ নেই। কেননা, সমস্ত মন পড়ে আছে কেবল তাঁরই জন্য। কাজেই একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকের প্রথম দুরচণে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার বিষণœ বেদনার রিক্ততার সুর প্রকাশ পেয়েছে।

 

ঘ. “উদ্দীপকটি যেন ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে”কথাটা যথার্থ ও যৌক্তিক। কেননা উদ্দীপক এবং ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মর্মবাণী একই।

প্রিয়জন হারানোর বেদনা বড়ই মর্মান্তিক। যে প্রিয়জন কষ্ট-দুঃখে সমব্যথী, উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় উদার, প্রেম-ভালোবাসায় অতুলনীয়, বন্ধুত্বে অনুপম, সেই প্রিয়জনকে কখনো বিস্মৃত হওয়া যায় না। তাঁকে হারিয়ে জীবন হয়ে যায় রিক্ত-শূন্য-মূল্যহীন।

উদ্দীপকে এবং ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বিষণœ বেদনার রিক্ততার হাহাকার ধ্বনিত হয়েছে। এটাই এ দুটোর মর্মবাণী বা মূলসুর। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি যাকে ভালোবেসেছিলেন, সে তাঁর জীবন থেকে চলে গেছে চিরদিনের মতো।

শুধু রয়ে গেছে মায়াভরা স্মৃতি। অপরূপ প্রকৃতি সৌন্দর্য তাঁর ভালো লাগে না। রিক্ত শূন্য একাকী জীবনে তাঁর স্মৃতিটুকুই এখন সান্ত্বনা। একইভাবে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবি তাঁর স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনকে হারিয়ে রিক্ত ও শূন্য হয়ে গেছেন।

কেননা, তিনিই ছিলেন তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও প্রেরণাদাতা। এর ফলে তাঁর সাহিত্য সাধনায়ও নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণœতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার করুণ হাহাকারে।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উদ্দীকপটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে।

অতিরিক্ত অনুশীলন (সৃজনশীল) অংশ

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

আর ক’দিন পরেই পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবছরই কলেজে বৈশাখী উৎসব হয়। সকলে প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত। কিন্তু শিখা কই? শিখাকে ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা চিন্তা করা যায় না। গান, আবৃত্তি, অভিনয় সকল শাখায়ই তার এতটা দখল যে কলেজে তার দ্বিতীয়টি নেই। সকলে মিলে শিখাকে খুঁজতে লাগল। অনেক খোঁজাখুঁজি শেষে তাকে পাওয়া গেল, পুকুর পাড়ে। জলের পানে এক দৃষ্টিতে নীরবে চেয়ে আছে। সবাই গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল ওর উপর। “কীরে, তুই এখানে? আর আমরা তোকে সারা ক্যাম্পাস খুঁজে খুঁজে হয়রান!” শিখার চিন্তায় যেন বাধা পড়ল, “হ্যাঁ তোমরা? ও বৈশাখী উৎসব তাই না? থাক না এবার না হয় নাই যোগ দিই উৎসবে।” বন্ধুরা আর পীড়াপীড়ি করে না, ওরা জানে শিখা কেন এ কথা বলছে।
ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কোন ঋতুর কথা বলা হয়েছে?
খ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রকৃতির কোন রূপ চিত্রিত হয়েছে?
গ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির অনুভূতির আলোকে শিখার বৈশাখী উৎসবে যোগ না দেয়ার কারণ উদঘাটন কর।
ঘ. ‘‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতা এবং উদ্দীপকের আলোকে বাইরের আনন্দ-উৎসবের সাথে মানুষের মনের অবস্থার সম্পর্ক নির্ণয় কর।

২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বসন্ত ঋতুর কথা বলা হয়েছে।

খ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বসন্তের অপরূপ রূপ চিত্রিত হয়েছে।
বসন্ত ঋতুর আগমনে প্রকৃতি জুড়ে নতুন রূপের পসরা বসেছে। পত্র-পুষ্প-মঞ্জুরিতে অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়েছে সমগ্র প্রকৃতি। বাতাসের দিক বদলে গেছে। উত্তরের হিমেল বাতাস নয়, বরং এসেছে উদাসী, মৃদু-মন্দ দখিনা বাতাস, সাথে এনেছে পৃথিবীর সমস্ত সৌরভ। ফুলের বুকে ভ্রমরের গুঞ্জন, কাননে বাতাবি লেবু ফুলের সুবাস, কুঞ্জে-কুঞ্জে আম্র মঞ্জুরির সুগন্ধ প্রকৃতিকে করে তুলেছে উন্মাতাল। নানা ফুলে শোভিত বৃক্ষরাজি, আর মাধবীর বুকে উঁকি দেয়া সদ্যজাত কুঁড়ি সগৌরবে ঘোষণা করছে বসন্তের জয়ভেরি। ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বসন্তের এমন রূপই চিত্রিত হয়েছে।

গ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রকৃতির সৌন্দর্যময় রূপ প্রকাশিত হলেও সেটা মুখ্য হয়ে ওঠে নি। বরং কবির আপনজন হারানোর ফলে তার মনোবেদনাই এখানে প্রধান হয়ে উঠেছে।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবি প্রকৃতিতে বসন্ত আসলেও তার সাথে যোগ দিতে পারেন নি। কারণ, একরাশ বেদনার মেঘ ছড়িয়ে আছে তাঁর মনের আকাশে। সেখানে প্রকৃতির এই আনন্দ উৎসবের কোনো প্রভাব নেই। কবি অত্যন্ত বেদনাক্রান্ত তাঁর হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের কথা মনে করে। এমন উৎসবের দিনে ঐ প্রিয়জন কাছে থাকলে হয়তো সবকিছু রঙিন মনে হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণই উল্টো।

কবির মতো উদ্দীপকের শিখাও বৈশাখী উৎসবে যোগ দিচ্ছে না, কারণ তার মন ভালো নেই। প্রকৃতি, প্রতিবেশ উৎসবমুখর, কিন্তু তাঁর মন উদাস। সে প্রকৃতির এই উৎসবমুখর পরিবেশের সাথে একাত্ম হতে পারছে না। কারণ, তার মনও আজ বিরহ বেদনাকাতর। এই বেদনা ও দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে আনন্দে যোগ দিলে তা সফল হয় না। তাই ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির মতো উদ্দীপকের শিখাও উৎসবে যোগ দেবে না।

ঘ. বাইরের অবস্থার সাথে মানুষের মনের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে।
প্রকৃতির সাথে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতির প্রভাব যেমন মানুষের উপর পড়ে, তেমনি মানুষের মনের প্রভাবও প্রকৃতিতে প্রতীয়মান হয়। প্রকৃতির আনন্দ মনে শিহরন জাগায়, আবার প্রকৃতির বিমর্ষতা মনকে দুঃখভারাক্রান্ত করে।
মন ভালো থাকলে সবকিছু আনন্দময় মনে হয়।

কিন্তু মন যখন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভারাক্রান্ত, তখন প্রকৃতির অনেক কিছুই মনকে আর স্পর্শ করে না। বরং তা থেকে কেবল প্রকৃতির এই সুন্দর মুহূর্তে প্রিয়জন সান্নিধ্যে থাকতে পারলে কী আনন্দময় হয়ে উঠত মুহূর্তগুলো, সে ভাবনায় মন উদাস হয়। সুতরাং, বাইরের আনন্দ-উৎসব মানুষের মনকে প্রভাবিত করলেও মন দুঃখভারাক্রান্ত থাকলে সবকিছু বিষাদময় মনে হয়।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায়ও বাইরের আনন্দ উৎসবের সাথে মনের এমন সম্পর্কের ছবিই ফুটে ওঠেছে। এখানে দেখা যায়, কবির মন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় আক্রান্ত বলে তিনি বসন্তের উৎসবে যোগ দিতে পারছেন না। বরং তা থেকে তার মনে দুঃখের বিলাপ। একই অবস্থা প্রকাশিত হয়েছে উদ্দীপকের শিখার মাধ্যমে।

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

অনিতা মাঝে মাঝে কবিতা লেখে। বিশেষ বিশেষ দিবসকে সামনে রেখে কবিতা লেখা তার নৈমিত্তিক কর্ম। কলেজের ম্যাগাজিনের প্রতি সংখ্যায় তার কবিতা থাকা চাই-ই-চাই। এবার বসন্ত উপলক্ষে সংখ্যা বের হবে, তাকে কবিতা লিখতে বলা হলো। কিন্তু কই, সেতো সেরকম আনন্দের কবিতা লিখতে পারছে না। অনিতা আনন্দের কবিতা, বসন্ত বরণের কবিতা লিখতে চাইছে, কিন্তু তার কলম দিয়ে বেরিয়ে আসছে দুঃখঝরা বাণী। মনের কোণে ব্যথা টনটনিয়ে ওঠে। দুঃখভারাক্রান্ত মনে চেয়ে রয় আকাশপানে। হয়তো প্রিয়জনের স্মৃতি বার বার ডাকছে তাকে।
ক. ‘মিনতি’ শব্দটির অর্থ ও বুৎপত্তি নির্দেশ কর।
খ. বসন্তের আগমনেও কবির পুষ্পসাজ নেই কেন?
গ. অনিতা কেন আনন্দের কবিতা লিখতে পারছে না? ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির অবস্থার সাপেক্ষে আলোচনা কর।
ঘ. “অলখের পাথার বাহিয়া তরী তার এসেছে কী? বেজেছে কি আগমনী গান?” ব্যাখ্যা কর।

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF
HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF

৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘মিনতি’ শব্দের অর্থ অনুরোধ। ‘মিনতি’ শব্দটি সংস্কৃত বিনতি এবং আরবি মিনত শব্দযোগে তৈরি হয়েছে।

খ. বসন্তের আগমনে সাধারণত মানুষের মন প্রফুল­ থাকে। কিন্তু বসন্তের আগমনে কবি সুফিয়া কামালের মন বিষণœ। তাই বসন্তের আগমনে তার পুষ্পসাজ নেই।
বসন্তে আগমনে কবির বর্ণাঢ্য সজ্জা থাকার কথা। কিন্তু নির্বিকার কবির সে রকম কোনো সজ্জা চোখে পড়ছে না।

বরং কবির মনে রিক্ত, বিমর্ষ, পুষ্পহীন বিগত শীতের অবস্থান স্থায়ী হয়ে আছে। বসন্ত তো কবির একক বন্দনার অপেক্ষা করে নাই। সকলেই তার উৎসবে মুখরিত। কবি বরং উৎসবহীন শীতের প্রতিই ধ্যানমগ্ন থাকতে চান।

বর্ণহীন, পুষ্পহীন, নিরাসক্ত শীত প্রকৃতপক্ষে কবির প্রয়াত স্বামীর প্রতি কবির অনুভূতির প্রতীক। স্বামী নেই, তাই প্রকৃতির সব সজ্জা কবির কাছে অর্থহীন মনে হয়। সুতরাং, বলা যায়, প্রয়াত স্বামীর স্মৃতি-কাতরতার জন্যেই কবির পুষ্পসাজ নেই।

 

গ. স্বজন বিয়োগে কোনো কালই মানুষের মনে আনন্দ দিতে পারে না। তাই কবি সুফিয়া কামাল ও অনিতা স্বজন বিয়োগে মনের আনন্দে কবিতা লিখতে পারছেন না।
উপরের অনুচ্ছেদে দেখা যায়, সারাজীবন নানা উৎসব উপলক্ষে কবিতা লিখে আসলেও এবার বসন্ত উপলক্ষে কবিতা লিখতে পারছে না অনিতা।

অনিতার কাছে সবার প্রত্যাশা সে যেন বসন্তকে বরণ করে একটা কবিতা লিখে। কিন্তু আনন্দের যেন অবসান হয়ে গেছে অনিতার জীবনে। তার মন বিষাদগ্রস্ত তাই সে আনন্দের কবিতা লিখতে পারছে না।

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির সাথে তুলনীয় অনিতার অবস্থা। এ কবিতার কবি তার প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিতে আচ্ছন্ন। থেকে থেকে কেবল স্বামীকে হারানোর বেদনায় ভারাক্রান্ত তার মন। তাই ভক্তের বারংবার অনুরোধ সত্তে¡ও কবিতা লিখতে পারছেন না কবি। তার মনে হচ্ছে, প্রকৃতিকে বরণ করে নেবার মতো আনন্দ তার মনে নেই।

সুতরাং, ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির সাথে তুলনায় বলা যায়, কবি যেমন তার স্বামীকে হারানোর বেদনার আচ্ছন্নতা কাটিয়ে বসন্ত বরণের কবিতা লিখতে পারছেন না, তেমনি অনিতাও প্রিয়জন হারানোর কষ্ট ভুলে আনন্দের কবিতা রচনা করতে পারছে না।

 

ঘ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার উলি­খিত পঙ্ক্তিতে কবি মনের বিষণœতা প্রকাশ পেয়েছে।

আলোচ্য অংশটুকুর শাব্দিক অর্থ হলো, কবি প্রশ্ন করছে, সকলের অলক্ষে সমুদ্র বেয়ে তার নৌকা এসেছে কিনা, আর তার জন্য আগমনী গান বেজেছে কিনা! এখানে বসন্তের আগমনের কথা বলা হয়েছে।

প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে নিজস্ব নিয়মে, সাড়া জাগিয়ে নয়। কবির কাছে বসন্তের আগমন বার্তা ধরা পড়ে নি। তাই কবিভক্ত তার উন্মনার কারণ জিজ্ঞেস করলে কবি উদাস মনেই প্রশ্ন করে বসন্তের আগমন সম্পর্কে। প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও সে বসন্ত কবির মনকে ছুঁতে পারে নি। তাই কবি আনমনা।

উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, অনিতা বিশেষ বিশেষ দিবসকে সামনে রেখে কবিতা লিখত। কলেজের ম্যাগাজিনের প্রতি সংখ্যায় তার কবিতা বের হতো। কিন্তু বসন্ত উপলক্ষ্যে তাকে কবিতা লিখতে বললে সে কোনো আনন্দের কবিতা লিখতে পারছে না, কেবলই তার কলম দিয়ে ঝরে পরে দুঃখের বাণী।

দুঃখ ভারাক্রান্ত মন চেয়ে থাকে আকাশ পানে। তার প্রিয়জনের স্মৃতি তাকে কাতর করে তুলে। আর এজন্যই প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও তা অনিতার মনকে ছুঁতে পারেনি। তাই বলা যায়, অনিতা আর কবির বিয়োগ ব্যথা একই সুতোয় গাঁথা।

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

শুধু তাকে এবং তাকেই ভালোবেসেছিল আরতি। কিন্তু ছয়মাস হলো সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় সে। তার স্মৃতিগুলো কুড়ে কুড়ে খায় আরতিকে। এদিকে বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। ছেলে ভালো, দেখতে সুদর্শন, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। পরিবারের সকলে এ ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছে এবং সকলে চায় আরতি এর সাথে মাঝে মাঝে বেড়াতে যাক।
আজ পহেলা ফাল্গুন। তবু বর আদ্রির অনুরোধ ফেলতে পারে না আরতি। রাস্তায় বের হয়ে দেখে চারিদিকে কত উৎসব! কিন্তু আরতি পারছে না সহজ হতে। আদ্রির কাছে বিষয়টি ধরা পড়ল। সে বলল, “অভিমান করেছ? চুপ করে আছ কেন? এমন দিনে তুমি চুপ থাকলে পুরো বসন্তই যে বৃথা হয়ে যাবে।” আরতি মৃদু হেসে উত্তর দেয় “না, বৃথা যাবে কেন! গাছে গাছে ফুলতো ঠিকই ফুটেছে, বসন্তকে বরে নেয়ার জন্য চারদিকে কত আয়োজন। প্রকৃতি কারো জন্য অপেক্ষায় থাকে না, সে চলে নিজের গতিতে।”
ক. ‘পুষ্পারতি’ শব্দটির অর্থ কী?
খ. কবি অভিমান করেছেন কি-না এ প্রশ্ন করার কারণ কী?
গ. “প্রকৃতি কারো জন্য অপেক্ষায় থাকে না, সে চলে নিজের গতিতে”: ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় এ ভাবের কী দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠেছে?
ঘ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রকৃতির সৌন্দর্য ও কবির মনের অবস্থার মধ্যে কোনটি প্রধান হয়ে উঠেছে বলে তুমি মনে কর?

৪ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘পুষ্পারতি’ শব্দটির অর্থ হলো ফুলের বন্দনা বা নিবেদন।

 

খ. কবি বসন্ত উপলক্ষে কোনো কবিতা না লেখার কারণে তাকে এ প্রশ্ন করা হয়েছে।

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে স্বভাবসিদ্ধ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না কবি। নেই তার পুষ্পসাজ কিংবা রচনা করছেন না কোনো কবিতা। বসন্তের প্রতি কবির ঔদাসীন্যের কারণ জিজ্ঞেস করলে কবি উত্তরে বলেন যে, প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন তার বন্দনাগীত রচনার অপেক্ষা করে নি।

তিনি বন্দনাগীত রচনা না করলেও ইতোমধ্যে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটেছে এবং যথানিয়মেই ঘটেছে। বসন্তকে ফাল্গুন গাছে গাছে ফুল ফুটিয়ে, পুষ্পমুকুলের গন্ধে বাতাস মুখরিত করে বরণ করে নিয়েছে।

কবিমনের দুঃখের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বসন্ত তার আগমনকে বিলম্বিত করে নি, যথানিয়মে সে এসেছে। তাই কবি নির্লিপ্ত থাকলেও তাতে বসন্তের কিছু আসে-যায় না। বসন্তের এই উদাসীনতা কবিকে আহত করেছে কি-না এখন সে প্রশ্নই দেখা দিয়েছে। না-হলে তিনি হয়তো বসন্তকে বরণ করে কোনো কবিতা লিখতেন।

 

গ. বসন্তে কবিমন বিষণœ। তাই সে কোনো কবিতা লিখে নি। কিন্তু প্রকৃতি তার আপন গতিতে চলে। উদ্দীপকে উলি­খিত লাইনে প্রকৃতির সে ধর্মের কথা বলা হয়েছে।
সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সে তার গতিতে বয়ে যায়। প্রকৃতির নিয়ম মেনে শীতের পরে বসন্ত আসে। তাতে কার মনে কী অনুভূতি হলো সেটা বিবেচ্য নয়।

কেউ কেউ হয়তো কোনো দুঃসহ স্মৃতির কারণে প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। কিন্তু তাতে প্রকৃতির কিছু আসে-যায় না। প্রকৃতির চলার স্বতন্ত্র পথ রয়েছে। প্রকৃতি সেই পথে চলে, সেই নিয়মে আবর্তিত হয়। শত বাধা দিলেও প্রকৃতি শুনবে না। কারো কোনো মান অভিমান প্রকৃতির কাছে বিবেচ্য নয়।

এই ভাবটির বেশ কিছু দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠেছে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায়। এখানে দেখা যায় কবি বসন্তের আগমনে কোনো পুলক অনুভব করছেন না, বসন্তকে বরণ করে নেয়ার জন্য তার কোনো প্রস্তুতি নেই।

কিন্তু নানা পুষ্প, পত্রে, মঞ্জুরীতে প্রকৃতি ঠিকই বরণ করে নিয়েছে বসন্তকে। কবির মন শীতের শোক ভুলতে না পারলেও প্রকৃতি ঠিকই শীতকে ভুলে বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে। সুতরাং, বলা যায়, প্রকৃতি কারো জন্য অপেক্ষায় থাকে না, সে চলে নিজের গতিতে।

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF
HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF

ঘ. ‘তাহাড়েই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির মনের বিষণœতাই প্রধান হয়ে উঠেছে।

প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের আগেই কবির প্রিয়তম স্বামী চলে গেছে অনন্ত পারাপারে, পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে। ফলে প্রকৃতিতে বসন্তের আবির্ভাবের পূর্বেই কবির মনকে গ্রাস করছে শীতের স্থায়ী রিক্ততা। তাই বসন্তের সাড়ম্বর আবির্ভাব কবিকে ভাবোচ্ছ¡াসে আপ্লুত করতে পারে নি।

বসন্ত এসেছে ঠিকই, কিন্তু মাঘের পুষ্পশূন্য রিক্ততার কথা কবি আদৌ ভুলতে পারেন নি। প্রকৃতপক্ষে শীতের নিঃস্বতার মাঝে কবি তার নিঃসঙ্গ জীবনের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন।

কুহেলি উত্তরী তলে চলে যাওয়া মাঘের বিষণœতা আর অনন্ত পরপারে চলে যাওয়া তার প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা একই সুতোয় গাঁথা। তাইতো তিনি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন। মাঘের সন্ন্যাসীরূপী শীতের অপসৃয়মান মূর্তিটি কবির ভাষাকে স্তব্ধ করেছে, তাঁকে করেছে রক্তাক্ত।

কবির এই হাহাকারের পাশাপাশি প্রকৃতিতে বসন্ত আগমনকালের সৌন্দর্য-বর্ণনা বিবেচনা করলে কবির হাহাকার বেশি করে আঘাত করে পাঠক হৃদয়ে। প্রকৃতির বসন্ত-সজ্জার আনন্দ নয়, বরং কবির রিক্ততাই পাঠক হৃদয়কে অধিক আপ্লুত করে। তাই বলা যায়, আলোচ্য কবিতায় বসন্ত প্রকৃতির সৌন্দর্যের চেয়ে কবির মনের রিক্ত হাহাকারই প্রধান হয়ে উঠেছে।

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

সৃষ্টির বিয়ে হয়েছে পাঁচদিন হলো। এটা তার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম যেবার বিয়ে করেছিল তখন ছিল শীতকাল। এখন বর্ষাকাল। আকাশে মেঘ। সৃষ্টি তাকিয়ে আছে জানালার বাইরে, দৃষ্টি তার কোথায় নিবন্ধ জানে না। তার স্বামী এসে পাশে দাঁড়ায়। এমন সময় বৃষ্টি ঝরতে থাকে। স্বামী আনন্দে চিৎকার করে, “দেখো কী সুন্দর বৃষ্টি!” সৃষ্টি প্রত্যুত্তরে শুধু মৃদু হাসে। আরোও জোরে বৃষ্টি নামে। স্বামী হাত ধরে টানে, চলো ভিজি দুজনে। কিন্তু সৃষ্টি নীরব, নিথর। স্বামী তার ভাবটি বুঝতে পেরে বলে, “সৃষ্টি, তোমার এই উপেক্ষা আর আমার সহ্য হচ্ছে না। আমায় ব্যথা দিয়ে কী সুখ তুমি পাও?” সৃষ্টি আর থাকতে পারে না। স্বামীর কাছে হাত জোড় করে বলে, “ওগো, আমি যে কিছুতেই ভুলতে পারছি না, শুধু তাহারেই পড়ে মনে।”
ক. ‘উত্তরী’ শব্দের অর্থ কী?
খ. কবি কাকে কেন মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন?
গ. “তাহারেই পড়ে মনে”- উক্তিটি কবির সাথে কীভাবে অনুচ্ছেদের সৃষ্টিকে তুলনীয় করে তুলেছে?
ঘ. প্রিয়জনের বিরহে মানুষ শূন্যতা অনুভব করে কেন? ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার আলোকে আলোচনা কর।

৫ নং প্রশ্নের উত্তর

 

ক. ‘উত্তরী’ শব্দটি উত্তরীয় শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। ‘উত্তরীয়’ অর্থ চাদর।

 

খ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল শীত ঋতুকে মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন।

ষড়ঋতুর এই দেশে পৌষ মাঘ এ দু’মাস শীতকাল। মাঘের শেষ দিকে শীতের বিদায় ঘণ্টা বেজে ওঠে। এ সময় প্রকৃতি কুয়াশার চাদর জড়িয়ে শীতের তীব্রতায় মুছড়ে পড়ে। গাছপালা পাতাশূন্য হয়ে পড়লে প্রকৃতিকে সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসীর মতো মনে হয়।

প্রকৃত সন্ন্যাসীর যেমন রিক্ততা, নিঃস্বতা, ধন-সম্পদ হীনতার অবস্থা থাকে, তেমনি শীতকালের প্রকৃতিও রিক্ত, নিঃস্ব এবং আবরণহীন। প্রকৃতির এই অলংকারবিহীন রূপের কারণেই কবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন।

 

গ. কবি জীবনের প্রাণপুরুষের বিয়োগের প্রেক্ষাপটে যেভাবে কবিতাটি লিখেছেন ঠিক সেভাবেই অনুচ্ছেদের সৃষ্টির জীবনের প্রথম স্বামী বিদায়ের বিরহ ফুটে উঠেছে।
কবি তাঁর প্রয়াত প্রিয়জনকে ভুলতে পারছেন না। কবির ব্যক্তিজীবনে সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে।

তার ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণœতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার হাহাকারে। কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তাকে। এই হাহাকারই ফুটে ওঠেছে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তিতে।

ঠিক একই ধরনের অনুভূতি উপরের অনুচ্ছেদের সৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। বর্ষার প্রেমাতাল প্রকৃতির টান আর তার দ্বিতীয় স্বামীর আহŸানও তাকে উদ্বেলিত করতে পারছে না। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে তাকিয়ে তার কেবলই মনে পড়ে মৃত প্রথম স্বামীর কথা। সে বৃষ্টিকে তার কেবলই হৃদয়ের কান্না মনে হয়।

তার কাছে প্রেমসিক্ত প্রকৃতির কোনো আবেদন নেই। ভীষণ শূন্যতায় তার হৃদয়টা যেন পূর্ণ হয়ে আছে। সুতরাং, বলা যায়, ‘তাহারেই পড়ে মনে’- উক্তিটি কবির অনুভূতিকে অনুচ্ছেদের সৃষ্টির অনুভূতির সাথে একাত্ম করে তুলেছে।

 

HSC | ঐকতান | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | PDF Download

HSC | ঐকতান | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বহু নির্বাচনি প্রশ্নসমুহ | PDF

HSC | ঐকতান | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর | PDF

HSC | ঐকতান | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-৫ | PDF

HSC | ঐকতান | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ৬-১০ | PDF

 

ঘ. মানুষ একা বাস করতে পারে না। বেঁচে থাকতে হলে কাউকে না কাউকে সুখ-দুঃখের সাথী করে নিতে হয়। দীর্ঘদিন বসবাসে সেই সঙ্গীটি অনেক সময় মানুষের সত্তার সাথে মিশে যায়।

তাই যখন সঙ্গীটি হারিয়ে যায় বা ছেড়ে চলে যায়, তখন মানুষ আপন সত্তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুভব করে না তাই তার মধ্যে দেখা দেয় শূন্যতা। নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে হয় তার।

কোনো মানুষের সাথে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে পরস্পরের মধ্যে গড়ে উঠে মধুর সম্পর্ক। আর সে সম্পর্ক যদি হয় স্বামী-স্ত্রীর, তাহলে তা কখনই ভোলা যায় না। তাই কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে ছেড়ে পরোলোক গমন করে তাহলে তার স্ত্রীকে চরম শূন্যতায় ভুগতে হয়। কবির ক্ষেত্রে ঠিক তাই হয়েছে।

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি তার প্রথম স্বামীকে কোনো ভাবেই মন থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না। কবির কবিতা লেখার উৎসাহদাতা, সুখ-দুঃখের সার্বক্ষণিক সঙ্গীর স্মৃতিগুলো কবিকে বার বার ডাকছে। প্রেরণাদায়ী স্বামীর অকাল মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে এসেছে প্রচণ্ড শূন্যতা।

তাই প্রকৃতি জুড়ে বসন্ত উৎসব শুরু হলেও কবি সে উৎসবে শামিল হতে পারছেন না। বসন্তের আগমনকে নিশ্চিত করতেই বিদায় নিতে হয়েছে শীত ঋতুকে। শীতের এই রিক্ত ও নিঃস্ব বিদায়ের সঙ্গে কবি তার প্রিয়তমের বিদায়ের এক গভীর তাৎপর্য ও মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাই তার মন জুড়ে কেবল শীতের রিক্ততা ও বিষণœতার ছবি।

সুতরাং, প্রিয়জনের মৃত্যুবিরহে কবি পরম শূন্যতা অনুভব করছেন। প্রকৃতিতে বসন্ত, আনন্দ-উৎসব বহমান কিন্তু কবির মন শূন্যতায় পূর্ণ। প্রিয়জনের বিরহে সবকিছু তার কাছে শূন্য মনে হচ্ছে।

 

PDF Download

 

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো লেখা

বিদ্রোহী কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম | এইচএসসি বাংলা ১ম পত্র সমাধান
HSC বাংলা প্রথম পত্র

বিদ্রোহী কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম | এইচএসসি বাংলা ১ম পত্র সমাধান

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (PDF) Answer
HSC বাংলা প্রথম পত্র

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (PDF) Answer

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর | PDF
HSC বাংলা প্রথম পত্র

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর | PDF

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | বহু নির্বাচনি প্রশ্ন ১০১-২২৫ | PDF
HSC বাংলা প্রথম পত্র

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | বহু নির্বাচনি প্রশ্ন ১০১-২২৫ | PDF

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | বহু নির্বাচনি প্রশ্ন ১-১০০ | PDF
HSC বাংলা প্রথম পত্র

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | বহু নির্বাচনি প্রশ্ন ১-১০০ | PDF

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সুফিয়া কামাল | PDF Download
HSC বাংলা প্রথম পত্র

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সুফিয়া কামাল | PDF Download

Next Post
HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সুফিয়া কামাল | PDF Download

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | সুফিয়া কামাল | PDF Download

সাদকাতুল ফিতরের বিধি বিধান

সাদকাতুল ফিতরের বিধি বিধান

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | বহু নির্বাচনি প্রশ্ন ১-১০০ | PDF

HSC | তাহারেই পড়ে মনে | বহু নির্বাচনি প্রশ্ন ১-১০০ | PDF

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয় লেখাগুলো

No Content Available

অন্যান্য বিভাগ থেকে

Class 5 | English | Short Question | Question Type 10 | Part 1 | PDF

Class 5 | English | Short Question | Question Type 10 | Part 1 | PDF

Lighthouse-Virginia Woolf Brief Questions with Answers

Lighthouse-Virginia Woolf Brief Questions with Answers

বাংলাদেশের মোড় ঘোরানো ১৪টি আলোচিত ঘটনা

বাংলাদেশের মোড় ঘোরানো ১৪টি আলোচিত ঘটনা

SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ১ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর PDF

SSC | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | অধ্যায় ১ | সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর | PDF

  • আমাদের সম্পর্কে
  • গোপনীয় নীতি
  • জাগোরিকে লিখুন
  • বিজ্ঞাপন
  • যোগাযোগ করুন
  • শর্তাবলী
Call us: +1 234 JEG THEME

© ২০২৪ জাগোরিক - সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

No Result
View All Result
  • একাডেমিক
    • সকল শ্রেণির বই
    • প্রথম শ্রেণী
    • দ্বিতীয় শ্রেনী
    • তৃতীয় শ্রেণী
    • চতুর্থ শ্রেণি
    • পঞ্চম শ্রেণি
    • ষষ্ঠ শ্রেণি
    • সপ্তম শ্রেণি
      • সপ্তম শ্রেণি: ইংরেজি
      • সপ্তম শ্রেণি: বাংলা ২য়
      • সপ্তম শ্রেণি: ডিজিটাল প্রযুক্তি
    • অষ্টম শ্রেণী
    • বিদেশে পড়াশোনা
      • স্কলারশিপ
      • আমেরিকা
      • ফিনল্যান্ড উচ্চ শিক্ষা
      • ভারত
      • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং
    • বিসিএস পরীক্ষা
  • এসএসসি
  • এইচএসসি
  • অনার্স
  • মাস্টার্স
  • স্কিল
    • এসইও
    • ওয়েব ডিজাইন
    • কোডিং শিখুন
    • অনলাইনে ইনকাম
    • ফ্রিল্যান্সিং শিখুন
  • স্বাস্থ্যবার্তা
    • ঔষধের নাম
    • স্বাস্থ্য
    • ত্বকের যত্ন
    • নারী স্বাস্থ্য
    • বিউটি টিপস
    • মা ও শিশু
  • আইন
  • চাকরি
  • অন্যান্য
    • আবেদন পত্র
    • জাগোরিক স্পেশাল
    • উপবৃত্তি
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • জানা-অজানা
    • সপ্তম শ্রেণি: ইংরেজি
    • তথ্য প্রযুক্তি
    • ইংরেজি শিখুন
    • লতা-পাতা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • কুইজ
    • আমার প্রতিষ্ঠান
    • গেস্ট ব্লগিং
  • দোয়া
  • শিক্ষা সংবাদ

© ২০২৪ জাগোরিক - সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In