স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

অনার্স প্রথম পর্ব
বিভাগ: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
বিষয় : মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১
বিষয় কোড: ২১১৫০১

গ-বিভাগঃ রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর

৯.০৮. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত প্রাথমিক প্রতিরোধের বিবরণ দাও।
অথবা, মুক্তিযুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রাথমিক প্রতিরোধ সম্পর্কে একটি নিবন্ধ রচনা কর।

উত্তরঃ ভূমিকা : বাঙালিদের ওপর গণহত্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার কথা ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষ প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে মেজর রফিক ও পরবর্তীকালে মেজর জিয়াউর রহমানের প্রতিরোধ উল্লেখযোগ্য। তবে সবার আগে প্রতিরোধ শুরু করেন মেজর শফিউল্লাহ।

এভাবে বিভিন্ন রেজিমেন্টে বাঙালি অফিসার যারা ছিলেন তাদের অনেকে স্বপক্ষ ত্যাগ করেন এবং তাদের কমান্ডের অধীনে বাঙালি সৈন্যদের নিয়ে প্রাথমিক প্রতিরোধ শুরু করেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত প্রাথমিক প্রতিরোধ : ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত প্রাথমিক প্রতিরোধের সূচনা হয়, যা ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন পর্যন্ত চলমান ছিল। নিম্নে মুক্তিযুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রাথমিক প্রতিরোধ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

১. সাধারণ মানুষের দুর্বার প্রতিরোধ : মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে প্রতিরোধ কার্যক্রম চালায়। যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত ১০৭ ব্রিগেডের পাকিস্তানি সেনাদল এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিন্তু যে পাকিস্তানি সেনাদল ঝিনাইদহ, ঈশ্বরদী ও বেনাপোল অভিমুখে যাত্রা করে, তারা যশোর থেকে ছয় মাইল অতিক্রম করার আগেই মারমুখী জনতার তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত ব্রিগেডের ২৭ বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যবাহিনী জনতার আক্রমণের ফলে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

২৫ বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা বেনাপোল-যশোর বিমানবন্দর এলাকায় আটকে পড়ে। যশোর বিমানবন্দর বিমান অবতরণের ক্ষেত্রে অযোগ্য হয়ে যায়।

এভাবে এ ব্রিগেডটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর জন্য ঢাকা সদর দপ্তরকে অনুরোধ করে । রাজশাহী উপশহরে অবস্থিত ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আক্রমণের মুখে পড়ে। পাকবাহিনীর ১১৭ ব্রিগেড আখাউড়ায় সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়।

২. জয়দেবপুরবাসীর প্রবল প্রতিরোধ : জয়দেবপুরে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিরোধ অনুষ্ঠিত হয়। জয়দেবপুরে অবস্থিত দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করার হীন উদ্দেশ্যে একদল পাকিস্তানি সৈন্যসহ ব্রিগেডিয়ার আহানজোট আরনাট জয়দেবপুরে আসেন। বেলা ১টা ত্রিশ মিনিটে ব্রিগেডিয়ার জয়দেবপুরে এসে পৌছেন।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের নিরস্ত্রকরণের বিষয়টি দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বাঙালি সৈন্যদের সচেতনতা ও প্রস্তুতি দেখে তাদের নিরস্ত্র করতে গেলে সংঘর্ষ হতে পারে এ ভয়ে ব্রিগেডিয়ার বাঙালি সৈন্য দর নিরস্ত্র করার সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ করেন। কিন্তু উত্তেজিত প্রায় পঞ্চাশ হাজার জনতা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে রেলক্রসিংয়ের ওপর শক্ত বেরিকেড তৈরি করে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

এসময় পাকিস্তানি বাহিনী গুলিবর্ষণ করলে বাঙালিরাও গুলি বর্ষণ করে। এটাই ছিল সাধারণ জনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ঘটনা।

৩. রাজারবাগে প্রতিরোধ ব্যূহ সৃষ্টি : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকবাহিনী সামরিক অভিযান শুরু করলে পিলখানায় অবস্থিত বাঙালি সৈন্যরা প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে। এ প্রতিরোধ যুদ্ধে বাঙালি সৈন্যরা অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে। পাকিস্তানিদের সাথে যুদ্ধে তারা অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেয়। আর অবশিষ্ট সৈন্যরা বুড়িগঙ্গা অতিক্রম করে জিনজিরায় অবস্থান গ্রহণ করে।

রাজারবাগে প্রায় ১০০ বাঙালি পুলিশ প্রতিরোধ গড়ে তোলে । কিন্তু পাকিস্তান বাহিনীর মেশিনগান, কামান ও ট্যাংকের সাথে জীবনমরণ লড়াই করে শেষ পর্যন্ত তারাও টিকতে পারেনি। মাত্র কয়েকজন বাঙালি পুলিশ ব্যতীত সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হয় ।

৪. কুমিল্লা অঞ্চলের প্রতিরোধ : কুমিল্লা অঞ্চলে এসে পাকবাহিনী সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি সেনাদল কুমিল্লা প্রবেশ করলে আকস্মিকভাবে তাদের ওপরে মুক্তিবাহিনী ভারী মেশিনগান ও মর্টারের গোলাবর্ষণ শুরু করে। একদিন দুপুরে ইপিআর সৈন্যরা কুমিল্লায় পাকিস্তানি বাহিনীকে অ্যামবুশ করে ।

ক্যাপ্টেন এম. এস. এ. ভূঁইয়া প্রথমদিকে এ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন। ১৫২ জন পাক সৈন্য কুমিল্লা সংঘর্ষে নিহত হয়। পরবর্তী দুদিন কুমিল্লায় প্রচণ্ড যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। পাকিস্তানি বাহিনী সম্পূর্ণভাবে হতবুদ্ধি ও দিশেহারা হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে শত্রু সৈন্যের বিপুল ক্ষতি সাধন করে কুমিল্লা যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে চলে যায়।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

৫. কালুরঘাট এলাকায় প্রতিরোধ : মুক্তিযোদ্ধারা চট্টগ্রাম শহর’ ছেড়ে কালুরঘাটে সমবেত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এখানে প্রতিরক্ষা ব্যারেজ রচনা করে। পাকিস্তানি বাহিনী ২৯ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের কালুরঘাট প্রতিরক্ষা অবস্থান আক্রমণ করে।

কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রতিহত করতে সমর্থ হয়। ৩১ মার্চ ৩ কমান্ডো ব্যাটালিয়ন কালুরঘাট আক্রমণ করে। যুদ্ধ কয়েকদিন ধরে বিরামহীনভাবে চলে । পাকবাহিনী কালুরঘাট ব্রিজ এলাকা দখলের জন্য মরণপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ভারতীয় এলাকায় গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে পরবর্তী পরিকল্পনা করতে থাকে ।

৬. কুষ্টিয়ায় প্রতিরোধ যুদ্ধ : পাকিস্তানি বাহিনী মেজর শোয়েবের নেতৃত্বে ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া আক্রমণ করে এবং ৫০০ জন বাঙালি পুলিশকে নিরস্ত্র করে। পাকিস্তানি সৈন্যরা কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে অবস্থান গ্রহণ করলে কয়েক হাজার ইপিআর সৈন্য, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যরা সংগঠিত হয়ে হানাদারদের আক্রমণ করে।

হাজার হাজার মানুষ বাঁশের লাঠি, দা, সড়কি নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেয়। জনগণ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ট্রাকভর্তি খাবার বহু দূরবর্তী গ্রাম থেকে পাঠাতে থাকে। ৩০ মার্চ মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর পাঁচটি অবস্থার ওপর যুগপৎ আক্রমণ চালায়। যুদ্ধে পাকবাহিনীকে পরাজিত করে। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে এ বিজয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

৭. রাজশাহীর প্রতিরোধকারীদের প্রতিরোধ : রাজশাহী পাকবাহিনী ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়ে। রাজশাহীতে ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট অবস্থিত ছিল। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ পুলিশ লাইনে হামলা চালিয়ে পাকবাহিনী বহু বাঙালিকে হত্যা করে।

ঢাকায় নির্বিচারে গণহত্যার খবর দাবানলের মতো রাজশাহীতে ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ ও ইপিআর রাজশাহী অভিমুখে অগ্রসর হয় এবং পাকিস্তানি অফিসারসহ ৪০ জন পলায়নপর পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়।

মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি অবস্থান আক্রমণ করে এবং রাজশাহী শহর করায়ত্ত করে। অন্য একটি পাকিস্তানি ব্যাটেলিয়ন রাজশাহী অভিমুখে অগ্রসর হয় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে।

উপসংহার: উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল তা প্রায় এক মাস স্থায়িত্ব লাভ করেছিল। এ পর্যায়ে সারা দেশে খন্ড খন্ড প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এ স্বতঃস্ফূর্ত যুদ্ধে বাঙালি সৈন্য, পুলিশ থেকে শুরু করে ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, তথা সাধারণ ..কেরা অংশগ্রহণ করে।

ফলে পাক সামরিক বাহিনী তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও কিছুটা প্রতিরোধের মুখোমুখি হয় এবং ভবিষ্যতে আরও কঠিন প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে পারে বলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ।

৯.০৯. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীর বিবরণ দাও।

উত্তরঃ ভূমিকা : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকহানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের আক্রমণ করলে বাঙালিরাও বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনী গঠন করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অর্থাৎ সর্বস্তরের মানুষই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আর এরা যার যার অবস্থান থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের বাহিনী গঠন করে। মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীগুলোর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনী : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীর সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিম্নে বর্ণিত হলো :

১. নিয়মিত সৈন্যবাহিনী : বাংলাদেশে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর সমন্বয়ে বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে এ বাহিনী গঠিত হয়। সৈন্যবলের ঘাটতি পূরণের জন্য আধাসামরিক বাহিনী (যেমন—পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ বা যুবকদের) পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৮টি ব্যাটালিয়নে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া সেক্টর ট্রুপস গড়ে তোলা হয়।

এসময় সেক্টরভিত্তিক সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০ জন। নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের সেক্টর- ট্রুপসে নেওয়া হয়। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ন নিয়ে ৩টি ব্রিগেড গঠন করা হয়। সরকারি পর্যায়ে এম.এফ. (মুক্তিফৌজ) নামে পরিচিত ছিল।

নিয়মিত বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮,৬০০ জন। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌবাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

২. অনিয়মিত সৈন্যবাহিনী : বাংলাদেশি যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

এ বাহিনী সরকারিভাবে গণবাহিনী বা এফ,এম (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা) নামে পরিচিত ছিল। এ বাহিনীর সদস্যদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পর একজন কমান্ডারের অধীনে তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হয়।

৩. কাদেরিয়া বাহিনী : ঢাকার অদূরে টাঙ্গাইল জেলায় এক দুঃসাহসী তরুণ আব্দুল কাদের সিদ্দিকী এ বাহিনী গড়ে তোলেন। তারই নাম অনুসারে এ বাহিনীর নামকরণ করা হয় কাদেরিয়া বাহিনী। কাদের সিদ্দিকী ১৭ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে তার এ বিশাল বাহিনী গড়ে তোলেন ।

কাদেরিয়া বাহিনী গেরিলা বাহিনী হলেও প্রচলিত গেরিলা পদ্ধতি ‘হিট অ্যান্ড রান’ অনুসরণ করেনি; বরং তার পরিবর্তে “হিট অ্যান্ড অ্যাডভান্স’ এ নীতি অনুসরণ করে ছোটবড় প্রায় সাড়ে তিনশরও বেশি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

তার অসামন্য দক্ষতা, সাহস ও সামরিক প্রতিভার জন্য তাকে টাইগার সিদ্দিকী নামে অভিহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশ সরকার বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে।

৪. হেমায়েত বাহিনী : মুক্তিযুদ্ধের সময় গোপালগঞ্জের বীর মুক্তিযুদ্ধা হেমায়েত উদ্দিনের নিজস্ব প্রচেষ্টায় গঠিত হয় হেমায়েত বাহিনী । হেমায়েত উদ্দিন পেশায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন হাবিলদার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে নিজ এলাকায় একটি মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলেন ।

এছাড়া কোটালিপাড়ার জহুরেরকান্দি হাই স্কুলে তিনি একটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলেন এবং তিনি মাসে প্রায় ৪,০০০ যুবককে প্রশিক্ষণ দান করেন। এ বাহিনীতে মোট মুক্তিযুদ্ধে ছিল ৫,০৫৪ জন।

এদের মধ্যে নিয়মিত বাহিনীর লোক ছিল ৩৪০ জন। মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত উদ্দিনের অসামান্য অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর সরকারিভাবে তাকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করেন ।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

৫. আকবর বাহিনী : মুক্তিযুদ্ধের সময় আকবর হোসেন ছিলেন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় আকবর হোসেন মাত্র ছয়টি রাইফেল ও সামান্য – কিছু গোলাবারুদ এবং কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেন এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে তিনি শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তোলেন।



আকবর হোসেনের প্রচেষ্টায় তৈরি বাহিনী তাই আকবর বাহিনী নামে পরিচিত। আকবর বাহিনীর উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হলো ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানা দখল, আলফাপুরের যুদ্ধ, খামারপাড়া যুদ্ধ, মাগুরা আনসার ক্যাম্প আক্রমণ ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর ৪১ জন বীরযোদ্ধা শাহাদাতবরণ করেন।

৬. মুজিব বাহিনী : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় মুক্তিবাহিনীর কর্তৃত্ব ব্যতিরেকেই মুজিব বাহিনী নামে একটি গেরিলা বাহিনী গড়ে ওঠে। শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ ছিলেন এ বাহিনীর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

অসহযোগ আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ কর্তৃক স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল এবং ২৩ মার্চ তারিখে এ পরিষদ কর্তৃক প্রতিরোধ দিবস উদযাপনের সময় রেসকোর্স ময়দানে প্রাক্তন সৈনিক ও ছাত্রদলের এক সম্মিলিত কুচকাওয়াজ এবং যুদ্ধের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগের এ কার্যক্রমের ফলে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল।

বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট বা মুজিব বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সম্ভবত এ কারণেই তা মুজিব বাহিনী নামে পরিচিত ছিল । মুজিব বাহিনী মূলত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিত ।

৭. গেরিলা যোদ্ধা বাহিনী : স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দলমত নির্বিশেষে সব বাহিনীর লক্ষ্য ছিল এক ও অভিন্ন, আর তা হলো বাংলার স্বাধীনতা অর্জন। বাংলাদেশের ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফ্ফর গ্রুপ), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মনি সিং) প্রভৃতির যৌথ উদ্যোগে সীমান্ত এলাকাগুলোতে বেশকিছু যুবশিবির ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল।

এসব শিবির থেকে কয়েক হাজার গেরিলা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমমনোভাবসম্পন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সমন্বয়ে গেরিলা দল গঠন করা হয়েছিল।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

৮. আঞ্চলিক বিভিন্ন বাহিনী : মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনেকে গেরিলা বাহিনী সৃষ্টি করেন। যেমন- আফসার ব্যাটালিয়ান (ভালুকা-ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), মহালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), রফিক মির্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ- (পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন) উল্লেখযোগ্য। এস্ত্র গেরিলা বাহিনী ছিল স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলার সংখ্যা ছিল লক্ষাধিক। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে ছিল এর কয়েকগুণ সদস্য।

আর মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দলমত নির্বিশেষে সব বাহিনীরই লক্ষ্য ছিল এক ও অভিন্ন, আর তা হালা বাংলার স্বাধীনতা অর্জন। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন বাহিনীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

৯.১০. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গুরুত্ব /তাৎপর্য /ভূমিকা ও অবদান আলোচনা কর ।
অথবা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

উত্তরঃ ভূমিকা : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন, পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট সবাইকে উজ্জীবিত করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক তাৎপর্য বহন করে। এ কেন্দ্র যেভাবে মানুষকে আশান্বিত করে তা ছিল অভূতপূর্ব।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত নানা অনুষ্ঠান মুক্তিযোদ্ধাদের মনে সাহস সঞ্চার করে এবং তারা প্রবল মনোবল নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গুরুত্ব : নিম্নে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো :

১. গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাসমূহ ও কর্মসূচি প্রচার : মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও কর্মসূচি প্রচারের ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এ কেন্দ্রেই সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা প্রচার করা হয়। এরপর পুনঃপুন ঘোষণা বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের ঘোষণাও এ কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে এরূপ ঘোষণা প্রচার অব্যাহত থাকে।

২. দৃঢ় প্রত্যয়ী করে তোলা : মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী, সমর্থনকারী, শরণার্থী সবাইকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র দারুণভাবে উজ্জীবিত রাখে। শুধু তাই নয়, সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মনোবল অক্ষুণ্ণ রাখতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিকরা কাজ করে ।

৩. ঐক্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা : মুক্তিযুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ব্যাপক অবদান রাখে । এ কাজটি ছিল সময়ের দাবি।

৪.জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ : মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অতন্দ্র প্রহরী সকল মুক্তিযোদ্ধাকে উৎসাহিত করতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

৫. বিনোদন দান : মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্য কোনো কেন্দ্র বা টিভি ছিল না। তাই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র জনগণ ও মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত লোকদের বিনোদনের ব্যবস্থা করেছে।

৬. বিজয়ের আশ্বাস প্রদান : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র জনগণকে সর্বদা আশার বাণী শুনিয়েছে। জনগণ তাই ইতিবাচক খবর শুনে আশায় বুক বেঁধেছে।

৭. যোদ্ধাদের নিত্যসঙ্গী : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধে ছিল বিভিন্ন ক্যাম্প, শিবির, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সরকার ও জনগণের সহযোদ্ধা। সেসময় যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং অবরুদ্ধ থাকার কারণে মানুষ ও যোদ্ধারা এ বেতার শুনতেন।

৮. সেক্টরের মর্যাদা অর্জন : মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১টি সেক্টরে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। কিন্তু স্বাধীন বাংলা বেতার যেভাবে মানুষকে আশান্বিত ও উজ্জীবিত করেছিল তা অভূতপূর্ব। তাই স্বাধীন বাংলা বেতারকে যদি মুক্তিযুদ্ধের ১২ নং সেক্টর’ বলা হয় তাহলে সত্যের অপলাপ হবে না।

৯. যোগাযোগ স্থাপন : সকলের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে এ কেন্দ্র ব্যাপক অবদান রাখে। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধ ইউনিয়নসমূহ ও শত্রুকবলিত এলাকার সাথে সংযোগ স্থাপন ।

১০. যুদ্ধে গতি সঞার : বেতার কর্মীদের ক্ষুরধার প্রচার মুক্তিযুদ্ধকে বিশেষ গতি দান করে। এর এক একটি শব্দ ইথার ভেদ করে বুলেট হয়ে বেরিয়েছে।

১১. উচ্চপদস্থদের মিলন কেন্দ্র: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সরকারি কর্মচারী ও সংস্কৃতি কর্মীদের মিলনের তীর্থে পরিণত হয়। শত শত কর্মী এর মাধ্যমে একত্রিত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৯ম-রচনামূলক)পর্বঃ৩ *

১২. আশা জাগানিয়া বক্তব্য প্রচার : মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে, বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বলছি’ এ জাতীয় কথা প্রচার সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

তাছাড়া এর মাধ্যমে কুরআনের অমীয় বাণী নাসরুম মিনাল্লাহে ওয়া ফাতহুন কারীম (আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী), জানমাল কুরবানি করে যুদ্ধে উৎসাহিতকরণ প্রভৃতি বক্তব্য দেওয়া হতো।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র দ্রুত বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এ বেতার কেন্দ্রের ক্ষুরধার প্রচার মুক্তিযুদ্ধের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে সর্বাত্মকভাবে।

বেতার কেন্দ্র দীর্ঘ নয় মাস ধরে অমিত তেজ, তেজস্বিনী ভাষা আর দৃপ্তকণ্ঠে জঙ্গি অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে বাংলার আপামর জনগণ ও এর অতন্দ্র প্রহরী মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা দিয়ে, শক্তি দিয়ে, সাহস দিয়ে, দিশেহারা মুক্তিকামী বাঙালিকে বিজয়ের সিংহদ্বারে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয় ।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন
গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

Check Also

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (১০ম-সংক্ষিপ্ত)

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (১০ম-সংক্ষিপ্ত)

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (১০ম-সংক্ষিপ্ত) প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *