রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বেরধারণা রচনামূলক প্রশ্নোত্তর(PDFফ্রি)

রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বেরধারণা রচনামূলক প্রশ্নোত্তর(PDFফ্রি),  ৪র্থ অধ্যায় এর অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর,সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও রচনামূলক প্রশ্নোত্তর, সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বেরধারণা রচনামূলক প্রশ্নোত্তর(PDFফ্রি)

অনার্স প্রথম বর্ষ
বিষয়ঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি
অধ্যায় ৪ : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের ধারণা
বিষয় কোডঃ ২১১৯০৯

গ-বিভাগঃ রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

০১. রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের সংজ্ঞা দাও। রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি আলোচনা কর।
অথবা, রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান বলতে কী বুঝ? রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর ।

উত্তরঃ ভূমিকা : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের ধারণা প্রাচীন কাল হতে চলে আসছে। রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানেরই একটি শাখা। সমাজবিজ্ঞানের সহায়তা ছাড়া রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব নয়।

সমাজতত্ত্বের মূল বিষয় হলো ক্ষমতা। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বেরও মূল আলোচ্য বিষয় ক্ষমতা। যা সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর প্রভাবিত হয়। সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।

রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের সংজ্ঞা : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব এমন একটি সমাজবিজ্ঞান যা সরকার ও সমাজের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক সৃষ্টি করতে সহায়তা করে এবং সামাজিক পটভূমিতে ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করে।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা :

থিওডর ক্যাপলাউ (Theodor Caplow) তার ‘Elementary Sociology’ শীর্ষক গ্রন্থে বলেন, “শ্রেণি কাঠামো এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার মধ্যকার সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে যা আলোচনা করে তাকে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান বলে ।”

ডব্লিউ. সি. মিশেল ( W. C. Mitchels) এ প্রসঙ্গে বলেন, “রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানীগণ যা করেন বা করেছেন বলে দাবি করেন তাই রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান । ”

টি. বি. বটমোর (T. B. Bottomore) বলেন, Political sociology is concerned with power in it’s social context.” এরিক এ. নর্ডলিঙ্গার (Eric A. Nordlinger) তার ”Political Sociology’ গ্রন্থে বলেছেন “সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রপঞ্জের পারস্পরিক সম্পর্কের অধ্যয়ন হচ্ছে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান।”

গিয়োভান্নি সাত্তরি (Giovanni Sartori) রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে সর্বোত্তম সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন “রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান এমন একটি আন্তঃবিষয়ক মিশ্রণ যা সামাজিক ও রাজনৈতিক চলকগুলোর মধ্যে সমন্বয়সাধনের চেষ্টা করে।”

স্যামুয়েল কোনিগ (Samuel Koenig) এর ভাষায় সমাজ, “রাষ্ট্র, সামাজিক কাঠামো ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনাই হলো রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান।”

ডি. কে বিশ্বাস (D. K. Biswas) এর মতে, “যা মূলত সমাজ ও রাজনীতির মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে তাই রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান।”

ড. আর. পি. জিনিগাম (Dr. R. P. Janegam) তার ‘Political Sociology’গ্রন্থে বলেন, “The heart and soul of political sociology সধু নব said to lid in the capture and exercise of power in political contexts a gains the social back ground”

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান মূলত এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের ক্ষমতা, দ্বন্দ্বের উৎস ও ভিত্তিকে জানা ও ব্যবস্থাপনাকে বুঝায় । রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো সামাজিক ক্ষমতা। যার উপর ভিত্তি করে সামাজিক পটভূমি তৈরি হয়। সুতরাং বলা যায় যে, রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান সমাজ, রাষ্ট্র, সামাজিক কাঠামো ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে ।

রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি : রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান বা সমাজতত্ত্ব সমাজ বিজ্ঞানের একটি আধুনিক ও অগ্রসরমান শাখা যার নিজস্ব ও স্বতন্ত্র প্রকৃতি রয়েছে। নিম্নে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি আলোচনা করা হলো—

১. সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব একটি আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, যা রাজনীতির সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দিয়ে থাকে। সমাজতত্ত্ব সমাজ বা সমাজ জীবনকে মুখ্য বিষয় ধরে রাষ্ট্রকে সমাজব্যবস্থার বৃহত্তম অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে এবং রাজনৈতিক বিষয়াদির সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে থাকে।

২. ক্ষমতার কাঠামো বিশ্লেষণ রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের মূল আলোচনার বিষয় হলো সামাজিক পটভূমিতে ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা । সমাজের অভ্যন্তরে যেসব ক্ষতার চর্চা করা হয়। তার বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করা। তাই রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব সামাজিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার কাঠামোকে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে।

৩. সমাজের প্রেক্ষাপটে রাজনীতির অধ্যয়ন রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব সমাজের প্রেক্ষাপটে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে। তবে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের আলোচনার বিষয় রাজনীতি হলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকে ।

৪. পরিবর্তনশীলতা : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব একটি পরিবর্তনশীল সমাজবিজ্ঞান । সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজনৈতিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় ।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক আধিপত্য বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হলেও তার। প্রভাব বর্তমানে ভাঙন ধরছে। বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদের বিপরীতে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটেছে। সুতরাং বলা যায় যে, রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান একটি পরিবর্তনশীল সমাজবিজ্ঞান ।

৫. ব্যাখার গভীরতা সমাজ ও রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহের যেসব ব্যাখ্যা রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব প্রদান করে তা গভীরভাবে প্রদান করে থাকে। একটি দেশের সমাজ রাজনীতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক কার্যাবলির ওপর যেসব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে তার গভীরে প্রবেশ করে ব্যাখ্যা দেয় ।

৬. কার্যকর মাধ্যম রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী মাধ্যম। সমাজের অভ্যন্তরে যেসব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হয় তা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করতে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সমাজবদ্ধ মানুষের চিন্তা চেতনা নানাবিধ কার্যকলাপ ও বিশ্বাস প্রভৃতি বিষয়ে সরকারের সাথে আলোচনা করতে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব একটি কার্যকরী মাধ্যম।

৭. তথ্যনির্ভর আলোচনা : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব একটি তথ্য নির্ভরশীল বিজ্ঞান। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আধুনিক রাষ্ট্র, সমাজ এবং রাজনৈতিক রূপরেখা প্রণয়ন করে।

৮. বহুরূপিতা : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব শুধু রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে না, বরং এর মধ্যে বহু বিষয়ের আলোচনা করা হয়। সরকার ও শাসিতের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সূত্র আবিষ্কার করে। তাছাড়া উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ, সামাজিক স্তর বিন্যাস প্রভৃতি বিষয়ও আলোচনা করা হয়। সুতরাং বলা হয় যে, রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বে বহুরূপ দেখা যায়।

৯. তুলনামূলক বিশ্লেষণ : রাজনৈতিক বিষয়াবলির তুলনামূলক বিশ্লেষণে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এতে সরকারের বিভিন্ন ধরনের ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় সংগঠন এবং পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংগঠন নিয়েও তুলনামূলক আলোচনা করে।

১০. অরাজনৈতিক বিষয়াবলির বিজ্ঞান : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব রাজনৈতিক বিষয়াদি ছাড়াও অরাজনৈতিক বিষয়াবলিও আলোচনা করে। যেমন— মানুষ কীভাবে তাদের রাজনৈতিক জীবন চর্চা করে। সুতরাং বলা হয় যে, রাজনীতির সাথে সাথে অরাজনৈতিক বিষয়াদির আলোচনার ক্ষেত্রে তার অবদান অনেক।

১১. মৌলিক আলোচনার বিষয় : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের মৌলিক আলোচনার বিষয় হলো সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের রাজনৈতিক জীবন। যেহেতু রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব গড়ে উঠেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের সমন্বয়ে সেহেতু মানুষের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করা তার মৌলিক নিয়ম।

১২. বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা : রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের যেসব বিষয় আলোচনা করা হয় তা বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়। যেমন- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ইত্যাদি। মোট কথায় বলা যায় যে, রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব হলো এমন একটি বিজ্ঞান।

যা সামাজিক পটভূমিতে ক্ষমতা, সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, অরাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ের আলোচনা করে । তাছাড়া বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাস, জীবন প্রণালি প্রভৃতি বিষয়ের আলোচনা করা হয় রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বে। যা ছিল রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের মূল ও মৌলিক প্রকৃতি ।

উপসংহারঃ উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব একটি গতিশীল বিজ্ঞান, যা আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম একটি নবীন শাখা, যা তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অগ্রসর হচ্ছে তাই এর প্রকৃতি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবুও বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের বিভন্ন সংজ্ঞাসমূহ হতে বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে এর প্রকৃতি নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়

৪.০২. রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব আলোচনা কর ।
অথবা, রাজনৈতিক সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর।

উত্তরঃ ভূমিকা রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠিত হয় সমাজের সেই সকল মনোভাব, আবেগ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে নিয়ে যা রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজনীতিও পরিবর্তন হয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব/প্রয়োজনীয়তা : রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনীতির একটি অন্যতম মৌলিক দিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সাধারণ সংস্কৃতির সে অংশ যা রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণের বিশ্বাস, অনুভূতি, আদর্শ ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জ্ঞানদান করে। এ প্রেক্ষাপট নিম্নে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব / প্রয়োজনীতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

১. জাতীয় ঐক্য বৃদ্ধি : রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় ঐক্য ও সংহতি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও ব্যক্তির আবেগ বৃদ্ধি করা সম্ভব। জাতীয় সংহতি ও জাতীয় আদর্শ সমুন্নত করতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।

২. রাজনৈতিক কাঠামোর ক্ষেত্রে : সমাজের প্রত্যেক স্তরে যেমন এক একটি কাঠামো গড়ে ওঠে তেমনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গড়ে ওঠে রাজনৈতিক কাঠামো। আর এ রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমেই রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে যেসব উপাদান বেশি স্থায়িত্ব লাভ করে সেসবের একটা মিশ্র রূপকে বুঝায়। রাজনৈতিক কাঠামো ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ।

৩. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ : রাজনীতিতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের শাসক ও অন্যান্য নীতিনির্ধারক নির্বাচিত করতে জনগণকে সাহায্য করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি। নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে জনগণ তাদের দাবি ও অধিকারগুলো পেশ করে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবদান অপরিসীম।

৪. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ : রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব অত্যাধিক। সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি শিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়।

আর রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ হচ্ছে সে প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের মানুষ ক্রমশ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে । আর এ রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৫. জ্ঞানের পরিপূর্ণতায় : রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্বাস, অনুভূতি, আদেশ ইত্যাদি সম্পর্কে জনগণের জ্ঞানের বিস্তৃতি ঘটে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান রয়েছে যেগুলো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞানলাভ করা যায় এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি দ্বারা ।

৬. রাজনৈতিক শৃঙ্খলা আনয়ন : রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনীতিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। সামাজিক ব্যবস্থায়ও শৃঙ্খলা খুব গুরুত্বপূর্ণ, রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে শুধু মানুষের ওপরই বর্তায় না, বরং সমগ্র রাষ্ট্রের ওপর এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। তাই রাজনৈতিক শৃঙ্খলা আনয়নে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিহার্য।

৭. রাজনৈতিক উদাসীনতা : বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ বিভিন্ন কারণে রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করে না। রাজনীতি থেকে এ ধরনের বিরত থাকাকে বলা হয় রাজনৈতিক উদাসীনতা। এর মধ্যে অন্যতম কতিপয় কারণ হলো তৎকালীন হতাশা বা নিরাশা, অনীহা, বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি। আর রাজনৈতিক সংস্কৃতি এ দিকটিও আলোচনা করে।

৮. জাতীয়তাবাদ বৃদ্ধি : রাজনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম একটি দিক হচ্ছে জাতীয়তাবাদ বৃদ্ধি। জাতীয়তাবাদকে রাজনৈতিক উন্নয়নের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি জাতীয়তাবাদ বৃদ্ধি ও ঐক্যবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ।

৯. গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা : রাজনীতির অন্যতম একটি দিক গণতন্ত্র। যার মূলে রয়েছে জনগণ। রাজনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চর্চা করতে হবে। আর এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি যথেষ্ট অবদান রাখে।

১০. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা : রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা অধিক। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হলো রাজনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। কেননা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে সমস্যার সৃষ্টি করে না বরং সমগ্র দেশেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।

১১. আধুনিকীকরণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে : রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবদান অপরিসীম। বিদ্যমান আর্থসামাজিক বিন্যাসের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকে উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করার জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব খুবই বেশি ।

১২. রাজনৈতিক গুণাবলি বৃদ্ধি : রাজনৈতিক সংস্কৃতি রাজনৈতিক গুণাবলি বৃদ্ধিতে সহয়তা করে। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তির আচার আচরণ, মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যা সমগ্র ব্যবস্থা, বহুমুখী মিথস্ক্রিয়া ইত্যাদিকে প্রভাবিত করে। সুতরাং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক গুণাবলি সৃষ্টিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিশেষ ভূমিকা রাখে ।

১৩. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ : রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, আধুনিকীকরণের বেগ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচি, পারস্পরিক অসহযোগিতা, রাজনৈতিক অসচেতনতা প্রভৃতির কারণে রাজনৈতিক মনোভাবের অবক্ষয় ঘটে থাকে। এ রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধকল্পে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রাজনৈতিক উন্নয়নে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশবাসীর বা জাতির রাজনৈতিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রতীয়মান হয় মানুষের সামাজিক জীবনে সামাজিক সংস্কৃতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অনুরূপভাবে মানুষের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে অ্যালমন্ড ও পাওয়েল বলেন, “As people’s attitudes affect what they will do, a nation’s political culture affects the conduct of its citizens and leaders throughout the political system.”

৪.০৩. রাজনৈতিক সংস্কৃতির শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর ।
অথবা, রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকারভেদ লেখ ।

উত্তরঃ ভূমিকা : রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে এমন কতকগুলো রাজনৈতিক মনোভাব, বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিকে বুঝায় যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার রাজনৈতিক জীবনকে উন্নত করতে পারে । সমাজস্থ ব্যক্তি বর্গের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির শ্রেণিবিভাজন করা সম্ভব।

সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণের রাজনৈতিক সংজ্ঞা থেকেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকার নির্ধারণ করা যায়। তবে বিজ্ঞানী অ্যালমন্ড ও ভাবার সংজ্ঞা থেকে তিনটি শ্রেণি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় ।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকারভেদ : ঞযব ঈরারপ ঈঁষঃঁৎব’ শীর্ষক গ্রন্থে এ. অ. অষসড়হফ ধহফ ঝ. ঠধৎনধ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির তুলনামূলক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন শ্রেণির রাজনৈতিক সংস্কৃতির উল্লেখ করেছেন। এ তিন শ্রেণির রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো—

১. সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি;
২. অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও
৩. নিষ্ক্রিয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ।

অধ্যাপক Alan R. Ball Zvi ‘Modern Politics and Government’ শীর্ষক গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে বলেন, “Political cultures can be classified according to whether members of society take an active role in the political process and expect benefits from governments activity or whether there is a passive relationship in which individuals know very little about government activity and do not expect to share in the decision making process..” নিম্নে ৩ প্রকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিবরণ দেওয়া হলো—

১. সংকীর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি : রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম ও প্রধান প্রকার হলো সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে এবং সনাতন সমাজব্যবস্থায় রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে ব্যক্তিবর্গের মধ্যে চেতনা ও আগ্রহের অভাব ব্যাপক দেখা যায় যাকে বলা হয় সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

বিদ্যমান সমাজব্যবস্থায় জনসাধারণ রাজনৈতিক জীবনধারা এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রবল অনীহা পরিলক্ষিত হয়। যার ফলে সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে ডেভিস ও লুইস বলেন, “It exists in simple traditional societies in which there is very little specialization and where factors fulfill a combination of political, economic and religions roles simulate only.”

বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনসাধারণের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। প্রসঙ্গত বলা দরকার, যে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে এখনো এমন অঞ্চল রয়েছে যারা রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রবল অনীহা প্রকাশ করে। সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসানের জন্য শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রসারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য

২. অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি : রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম একটি প্রকার হলো অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংকীর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরেই এর অবস্থান অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রত্যেক নাগরিক রাজনীতি বিষয়ে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তি মাত্রই দেশের একজন রাজনৈতিক সদস্য হিসেবে বিবেচিত। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তির অংশগ্রহণ ও মূল্যায়ন এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অত্যন্ত গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে ডেভিস ও লুইস বলেন, “Evaluation and criticism of the system exist at all levels and it is generally accepted as discernible that political activity should be under the close scrutiny of individuals and groups with in society.”

তবে এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তিবর্গের মনোভাব অনুকূল হতে পারে। আবার প্রতিকূলও হতে পারে। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী বা বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংরক্ষণের ব্যাপারে সক্রিয় হতে পারে আবার অনুরূপভাবে আমূল পরিবর্তনের ব্যাপারে উদ্যেগী হতে পারে।

৩. নিষ্ক্রিয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি রাজনৈতিক সংস্কৃতির সর্বশেষ প্রকার হলো নিষ্ক্রিয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি। নিষ্ক্রিয় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে জনগণের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বিদ্যমান রাজনৈতিক সমাজব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রমের ওপর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জনগণ সম্পূর্ণ সচেতন ।

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনগণ সচেতন থাকা সত্ত্বেও তারা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কোন চেষ্টা করে না বরং সরকারের অধিকাংশ সিদ্ধান্তকেই বিনা প্রতিরোধে কর্তৃত্ব সম্পন্ন বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে উক্ত প্রবণতার জন্য এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নিষ্ক্রিয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে। অধ্যাপক জোহারি বলেন, “It exists where there is a high frequency of orientation to the system as a whole and to its specifically outset aspects.”

রাজনৈতিক সংস্কৃতির শ্রেণিবিভাজন সম্পর্কিত উপরিউক্ত তাত্ত্বিক বিচারবিশ্লেষণ সত্ত্বেও এ কথা বলা দরকার যে কোনো দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেই কোনো বিশেষ শ্রেণির রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিশুদ্ধভাবে বর্তমান থাকে না।

প্রত্যেক রাজনৈতিক সংস্কৃতিই হলো মিশ্র সংস্কৃতি। সমজাতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেই দেখা যায় না। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক অ্যালান আর. বল বলেন, ”

In most societies they will be found in mixed form and the degree of emphasis the particular values and attitudes receive will provide the key to the over all cultural pattern.”

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সাধারণ সংস্কৃতির মৌলিক রূপ, যা কতকগুলো রাজনৈতিক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টি।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার প্রকার জানা যায়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণালাভ করতে হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকার সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

৪.০৪. নির্বাচকমণ্ডলী কী? আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা আলোচনা কর।
অথবা, আধুনিক রাষ্ট্রে নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

উত্তরঃ ভূমিকা : প্রাচীন কালে গ্রিক বা রোমে নগররাষ্ট্রগুলো পরিচালিত হতো সর্বসাধারণের মতামতের ওপর ভিত্তি করে। নগররাষ্ট্রের আয়তন ছোট এবং জনসংখ্যা ছিল কম, তাই একত্রে কোনো একস্থানে মিলিত হয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করতো।

বর্তমানে রাষ্ট্রের আকার, আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার দরুন তা আর সম্ভব হয় না। ফলে নির্বাচকমণ্ডলীর আবির্ভাব হয়। বর্তমানে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

নির্বাচকমণ্ডলী : বর্তমানে যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকার, আয়তন ও জনসংখ্যা বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জনগণ একত্রে মিলিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি পূর্বেরমতো নির্ধারণ করতে পারে না। ফলে জন্ম নিয়েছে প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা। প্রতিনিধির মাধ্যমে নাগরিকগণ পরোক্ষভাবে দেশের শাসনকার্য পরিচালনায় অংশ নেয়।

রাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকগণ ভোট প্রদানে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। বিভিন্ন রাষ্ট্রে ভোটদানের বয়স বিভিন্ন রকম বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে ভোটদানের বয়স ১৮ বছর। অবশ্য পাগল, উন্মাদ ও দেউলিয়া হলে ভোটাধিকার থাকে না।

ভোট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আবার প্রকাশ্য বা গোপন হতে পারে বর্তমানে ব্যালট দ্বারা গোপন ভোট সর্বত্র প্রচলিত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সব নাগরিকের সমষ্টিতে গঠিত মণ্ডলীকে মূলত এই নির্বাচকমণ্ডলী বলে ।

নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা বা কার্যাবলি : একটি রাষ্ট্রে নির্বাচকমণ্ডলী নানাবিধ কাজ করে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। নিম্নে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা বা কার্যাবলি উল্লেখ করা হলো-

১. প্রতিনিধি নির্বাচন : নির্বাচকমণ্ডলীর প্রথম এবং প্রধানতম কাজ রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করা। এ জন্য নির্বাচকমণ্ডলী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করে। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের প্রধানও নির্বাচকমণ্ডলীর দ্বারা নির্বাচিত হন । এছাড়াও স্থানীয় পরিষদগুলোর সদস্যবৃন্দও নির্বাচকমণ্ডলীর দ্বারা নির্বাচিত হন।

২. সরকারি কাজের ওপর দৃষ্টি : নির্বাচকমণ্ডলী সরকারের কাজের প্রতি কড়া নজর রাখে। নির্বাচিত প্রতিনিধি বা দেশের সরকার শাসন পরিচালনায় সীমালংঘন করলে নির্বাচকমণ্ডলী তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে । আবার জনমত গঠনের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

৩. আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ : প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনে নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করে থাকে। তবে গণভোট, গণউদ্যোগ, পদচ্যুতি ইত্যাদিতে নির্বাচকমণ্ডলী প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিতে পারে। যেমন— সুইজারল্যান্ডে গণভোট, গণউদ্যোগ, পদচ্যুতি প্রভৃতিতে নির্বাচকমণ্ডলী সরাসরি অংশ নিতে পারে ।

৪. জনমতের মাধ্যম : নির্বাচকমণ্ডলী জনমত গঠনের প্রধান মাধ্যম। বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে নির্বাচকমণ্ডলীর অভিমত, নীরবতা ও সোচ্চার কণ্ঠ জনমতকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে এবং সে প্রভাব দেশের সরকার ও সমগ্র শাসনকে নাড়া দেয়।

৫. সংবিধান সংশোধন : কোনো রাষ্ট্রই নির্বাচকমণ্ডলীর রায় না জেনে সরকার শাসনতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করতে পারে না। তাই বলা যায়, পরোক্ষভাবে হলেও নির্বাচকমণ্ডলী শাসনতন্ত্রের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

৬. রাজনৈতিক দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ : বর্তমান যুগে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য জন্মলাভ করেছে রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বকে স্বীকার না করে গণতন্ত্রের কথা ভাবা যায় না। কিন্তু এই রাজনৈতিক দলকে সঠিক পথে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নির্বাচকমণ্ডলী। কারণ নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলসমূহকে নির্বাচকমণ্ডলীর দরবারে হাজির হতেই হয়। মূলত বলা যায়, নির্বাচকমণ্ডলী সরকারের কাজের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখে।

সরকার যেন স্বৈরাচারী না হয় সেদিকে নজর রাখতে হয় নির্বাচকমণ্ডলীকে । সরকারের স্বৈরাচারিতাকে রোধ করতে পারে একমাত্র নির্বাচকমণ্ডলী। এ জন্য দেখা যায় যে, দেশের নির্বাচকমণ্ডলী যত শিক্ষিত এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন সে দেশের সরকার ততটা স্বাচ্ছন্দে শাসনকার্য পরিচালনা করে। তাই নির্বাচকমণ্ডলীকে সরকার কোনোদিনই এড়িয়ে বা পাশ কাটিয়ে চলতে পারে না ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আজকের যুগে নির্বাচকমণ্ডলী রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পরিণত হয়েছে। মূলত আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি প্রণয়ন করাই হচ্ছে নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।

রাষ্ট্রে নির্বাচকমণ্ডলী নিষ্ক্রিয় নয় বরং সক্রিয় হিসেবে দলের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবকে দূর করে। তাই রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনা ও উন্নতির পথে অগ্রসর করতে নির্বাচকমণ্ডলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

৪.০৫. আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা আলোচনা কর।
অথবা, গণতন্ত্র চর্চায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা আলোচনা কর।

উত্তরঃ ভূমিকাঃ আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। গণতান্ত্রিক সরকারের সফলতা নির্ভর করে রাজনৈতিক দলের সুষ্ঠু সংগঠনের ওপর।

বর্তমানে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের অর্থ দলীয় সরকার, কারণ জনপ্রতিনিধিগণ সরকারি দলের মাধ্যমে কাজ করে। রাজনৈতিক দল জনসাধারণকে সংহত করে, একতাবদ্ধ করে এবং ঐক্যনীতি স্থাপন করে তাদের মধ্যে ব্যাপক কর্মসূচির ভিত্তিতে মিলনসূত্র রচনা করে । তাই বলা যায়, আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব অপরিহার্য ।

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা : আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. জনমত গঠন : রাজনৈতিক দল জনমত গঠন করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। গণতন্ত্র জনমত দ্বারা পরিচালিত হয়। তাছাড়া, জনমত দ্বারাই গণতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত। জনমত গঠনে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বক্তৃতা, বিবৃতি, জনসভা এবং নির্বাচনি প্রচার অভিযানের মাধ্যমে দলের কর্মীবৃন্দ জনসাধারণের সামনে দলের কর্মসূচি ও বক্তব্য তুলে ধরে।

২. রাজনৈতিক সচেতনতা দান : গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল জনমত গঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সচেতনতা দানে বিশেষ সহায়তা ও বিশ্লেষণ করে সুষ্ঠু জনমত গঠন করতে সক্ষম হয়। এতে জনসাধারণের রাজনৈতিক চেতনাও বৃদ্ধি পায়। এ সম্পর্কে লাওয়েল বলেন, “জনমতকে সবার সামনে উপস্থাপন করে জনগণের রায় গ্রহণের উপযুক্ত কর্মসূচি প্রণয়ন করা রাজনৈতিক দলের অন্যতম লক্ষ্য।”

৩. সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন : রাজনৈতিক দল সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এ সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে সংযোগ ও যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে জনসাধারণ সরকারের কার্যনীতি সম্বন্ধে জানতে পারে এবং জনসাধারণ কি চায় অথবা কি আশা করে তা সরকারকে দৃষ্টিতে আনতে সাহায্য করে এরূপ জানাজানি ও যোগাযোগের ফলে সুষ্ঠু কার্যনীতি রচিত হয় এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার বন্ধন গড়ে ওঠে।

৪. সরকার গঠন ও পরিচালনা : এটি সরকার গঠন ও পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক গণতন্ত্র প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা । কিন্তু প্ৰ প্রতিনিধিগণ রাজনৈতিক দলের দ্বারা সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সরকার গঠিত ও পরিচালিত হয়ে থাকে ।

৫. স্বেচ্ছাচার প্রতিরোধ এবং বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালন রাজনৈতিক দল স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে এবং বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালন করে। গণতন্ত্রে এক বা একাধিক দল সরকার গঠন করে এবং অন্যান্য দল স্বতন্ত্রভাবে অথবা জোটভুক্ত হয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে ক্ষমতাসীন দল স্বৈরাচারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না ।

৬. নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যম রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে দলীয় কর্মীবৃন্দ সংগঠিত হয় এবং বহুমুখী কার্যক্রমে নেতৃত্ব দান করার সুযোগ লাভ করে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুষ্ঠু হয় সঠিক নেতৃত্বের স্পর্শে। এ দিক থেকেও বলা যায়, রাজনৈতিক দল নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যম বটে।

৭. সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় উপযোগী : সংসদীয় শাসনব্যবস্থা দল ব্যবস্থা দল প্রথা ছাড়া সফল হতে পারে না। এরকম শাসনব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে বিধায় মন্ত্রিসভার পিছনে পার্লামেন্টের অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন থাকে ।

এর ফলে সরকার নীতিনির্ধারণ ও শাসনকার্য পরিচালনার ব্যাপারে দৃঢ়তার সাথে অগ্রসর হতে পারে। এ কারণে বলা যায় যে, সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে দলীয় শাসনব্যবস্থা দরকার।

৮. সরকারের গণতান্ত্রিক চরিত্র বজায় থাকে : দলীয় ব্যবস্থা সরকারের গণতান্ত্রিক স্বরূপ সংরক্ষণ করে। বৃহদায়তনবিশিষ্ট গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দল ব্যবস্থা অপরিহার্য অঙ্গরূপ। লর্ড ব্রাইস সংগত কারণেই লিখেছেন যে, “রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য এবং প্রত্যেক বৃহৎ স্বাধীন রাষ্ট্রেই তাদের অস্তিত্ব বিরাজমান।”

৯. সহজে সমস্যা নির্বাচন : বর্তমানে বিজ্ঞানের অভাবনীয় আবিষ্কারের ফলে বৃহদায়তন ও জনবহুল রাষ্ট্রগুলোতে অসংখ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করতে হয় সংগঠিত জনগণের পক্ষে কোন সমস্যাগুলো আশু সমাধান করা প্রয়োজন, তা অনুধাবন করা সহজ হয় না। সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল সমস্যা নির্বাচনের এ গুরুদায়িত্ব পালন করে জনগণকে অবহিত করে থাকে।

১০. সমস্যা সমাধান : কালের বিবর্তনে সামাজিক ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের সমস্যারও সৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো বাছাই করে সাথে সাথে সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে সূচিন্তিত নীতি ও কর্মপন্থার নির্দেশ দেয়।

প্রত্যেক দল নিজ দলীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য পন্থা পদ্ধতি এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা জনগণের কাছে উপস্থাপন করে। এতে জনগণের পক্ষে বিভিন্ন দলের নীতি ও কর্মপন্থার মধ্যে তুলনা করে সর্বশ্রেষ্ঠ কর্মপন্থা উদ্ভাবন সম্ভব হয়।

১১. সরকারের স্থায়িত্ব : সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় সরকারের স্থায়িত্ব বজায় রাখার ব্যাপারেও দলীয় ব্যবস্থার গুরুত্ব লক্ষ করা যায়। দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে। এর ফলে সরকারের পিছনে সর্বদা সংসদের অধিকাংশ সদস্যদের সমর্থন বজায় থাকে যার কারণে স্থায়িত্বের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা থাকে বেশি।

১২. গণতন্ত্রের স্বরূপ রক্ষা করা : দল ব্যবস্থা বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার স্বরূপ বজায় রাখে। গণতন্ত্রের আদর্শ বজায় রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব অপরিহার্য। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন দলীয় শাসনে পরিণত হয়েছে। তাই দল ব্যবস্থা গণতন্ত্রের প্রাণস্বরূপ। দল ব্যবস্থা ছাড়া প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ গণতন্ত্র ও দল ব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতন্ত্র অচল বলে প্রতিপন্ন হয়।

সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার গতি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। রাজনৈতিক দলই গণতন্ত্রের দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। তাই গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করার অবকাশ নাই।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন
গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বেরধারণা রচনামূলক প্রশ্নোত্তর(PDFফ্রি)

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *