রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি, প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর PDF

রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি, প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর PDF: অধ্যায় ৫.১ : প্লেটো, এর অতিসংক্ষিপ্ত, প্রশ্নোত্তর,সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও রচনামূলক প্রশ্নোত্তর, সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি, প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর PDF

অনার্স প্রথম বর্ষ
বিষয়ঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি
অধ্যায় ৫.১ : প্লেটো
বিষয় কোডঃ ২১১৯০৯

গ-বিভাগঃ রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি, প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর PDF

০৫. প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র গণতন্ত্র বা কল্পনাবিলাসী কি না? আলোচনা কর।
অথবা, দার্শনিক প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র কি শুধুই কল্পনাপ্রসূত ছিল? ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : ভূমিকা : গ্রিক নগররাষ্ট্র ব্যবস্থায় এক ক্রান্তিলগ্নে সমৃদ্ধ নগররাষ্ট্র এথেন্স যখন বিপর্যস্ত, প্লেটো তখন তার বিখ্যাত গ্রন্থ ”The Republic’ রচনা করেন।

এ গ্রন্থে প্লেটো গ্রিসের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পরিহার করে একটি উত্তম রাষ্ট্রের রূপরেখা প্রণয়ন করেন প্লেটোর মতে, উন্নত জীবন হচ্ছে আদর্শ রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। এক্ষেত্রে তিনি তার শিক্ষাগুরু সক্রেটিসের মূলনীতি ”Virture is knowledge’ দ্বারা প্রভাবিত হন। তবে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রকে আবার গণতন্ত্রের পরিপন্থি এবং কল্পনাবিলাসী বলে অভিহিত করা হয়।

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র কল্পনাবিলাসী/গণতন্ত্র বিরোধী কি না : প্লেটোর আদর্শরাষ্ট্র কল্পনাবিলাসী বা গণতন্ত্রবিরোধী কি না তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. কল্পনাবিলাসী : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রকে অনেকে কল্পনাবিলাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অধ্যাপক ডানিং উক্ত আদর্শ রাষ্ট্রকে “নিছক রোমাঞ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে স্বর্গরাজ্যের কথা উল্লেখ করেছেন তা বাস্তবে অসম্ভব।

২. গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি : প্লেটোর মতে, গণতন্ত্র হলো সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্টতম শাসনব্যবস্থা। এখানে যোগ্যতার কোনো মূল্য নেই। তিনি মনে করতেন অজ্ঞতা ও অযোগ্যতা গণতন্ত্রের জন্য অভিশাপস্বরূপ ।

৩. রাজনৈতিক অধিকার : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে অস্বীকার করে জনগণকে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। এটি কোনো আদর্শ রাষ্ট্রের কাম্য হতে পারে না।

৪. দার্শনিক রাজা : প্লেটো প্রদত্ত আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনার ভাগ্য সম্পূর্ণরূপে দার্শনিক রাজার ওপর নির্ভরশীল। তিনি দার্শনিক রাজাকে ক্ষমতাশালী করে একচেটিয়া ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন ।

৫. সংবিধানের অনুপস্থিতি : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনায়, কোনো সংবিধান প্রাধান্য পায়নি। তিনি দার্শনিক রাজার শাসনকে জনগণের একমাত্র কল্যাণকর দিক হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “শাসক যদি হয় ন্যায়পরায়ণ আইন তখন নিষ্প্রয়োজন আর শাসক যদি হয় দুর্নীতিপরায়ণ আইন সেখানে নিরর্থক।”

৬. অভিজাততান্ত্রিক রাষ্ট্র : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র মূলত অভিজাততান্ত্রিক। অবশ্য আদর্শ রাষ্ট্র বুদ্ধি বা মেধার আভিজাত্য, দার্শনিক রাজা অভিজাত সম্প্রদায়ের মাধ্যমে শাসিত। এখানে তৃতীয় শ্রেণির লোকেরা শিক্ষার অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

৭. অরাজক শাসনব্যবস্থা : গণতন্ত্রের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে প্লেটো গণতন্ত্রকে অরাজক শাসন ব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন। প্লেটো বলেন “গণতন্ত্র হচ্ছে অদ্ভুত রকমের এক অরাজক শাসনব্যবস্থা যেখানে সমান ও অসমান সকলেই সমান।”

৮. স্বৈরতন্ত্রের অনুসারী : প্লেটো প্রদত্ত আদর্শ রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে দার্শনিক রাজা। তিনি দার্শনিক রাজার আদেশ নির্দেশকে আইন বলে অভিহিত করেছেন। প্লেটো শাসক শ্রেণির ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতা প্রদানের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করেছেন ।

৯. শ্রেণিবৈষম্য : প্লেটো বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা শ্রেণিবৈষম্য দোষে দুষ্ট। প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিলেন সমাজের সকল প্রকার বিরোধ দূর করে এক ঐক্যবদ্ধ শ্রেণিবৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশায়। কিন্তু তিনি আদর্শ রাষ্ট্র কাঠামোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন।

১০. মানবপ্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রে দার্শনিক রাজার সম্পত্তির অধিকার ও বিবাহকে নিষিদ্ধ করেন। তিনি অভিভাবক শ্রেণির জন্য রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিশেষ আইনের মাধ্যমে যৌনমিলনের ব্যবস্থার কথা বলেন যা মানুষের প্রকৃতি প্রদত্ত স্বাভাবিক নিয়মের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ প্রদর্শন করে ।

১১. ব্যক্তিত্ব খর্ব : প্লেটো বলেন, “রাষ্ট্রের জন্য ব্যক্তি, ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্র নয়।” তিনি মনে করেন, ন্যায়নীতিতে বিশ্বাসী মানুষকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার ফলে ব্যক্তিত্ব খর্ব হয়।

১২. উৎপাদক শ্রেণিকে অবহেলা : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের উৎপাদক শ্রেণিকে সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। আদর্শ রাষ্ট্রে প্লেটো রাষ্ট্রের বৃহৎ এই শ্রেণিকে কোনো সামাজিক মর্যাদা না দিয়ে শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তুর উৎপাদনকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের মতবাদ কিছুটা কাল্পনিক ও অসামঞ্জস্য হওয়া সত্ত্বেও একথা দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, তার আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা বর্তমান কালের রাষ্ট্রচিন্তায় গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে।

আধুনিক কালের ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি প্লেটোর রাষ্ট্রদর্শনের অবদান । যদিও প্লেটো নিজেই স্বীকার করেছেন তার এ আদর্শ রাষ্ট্র কেবল স্বর্গরাজ্যেই পাওয়া সম্ভব তথাপি তার এই ধারণা অন্যায়, অবিচার ও শাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

০৬. প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ‘শিক্ষাব্যবস্থা’ সম্পর্কে আলোচনা কর।
অথবা, দার্শনিক প্লেটো বর্ণিত শিক্ষাব্যবস্থার বর্ণনা দাও ।

উত্তর : ভূমিকা : প্লেটোর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের মূলভিত্তি হলো তার শিক্ষাব্যবস্থা। মানব প্রকৃতি গঠন এবং সংঘবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের সহায়ক হিসেবে বিশ্বনন্দিত গ্রিক দার্শনিক প্লেটো শিক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাকেন্দ্র একাডেমিতে বসে যেসব গ্রন্থ রচনা করেন তার মধ্যে ‘দ্যা রিপাবলিক’ অন্যতম। তিনি তার গ্রন্থে প্রজ্ঞাবান দার্শনিক গড়ে তোলার জন্য এক মহান ও যুগান্তকারী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

প্লেটো তার “ঞযব জবঢ়ঁনষরপ’ গ্রন্থে শিক্ষা নিয়ে এতোটা ব্যাপক ও বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেছেন যে, মহামনীষী রূশো একে শিক্ষাবিষয়ক গ্রন্থ বলে অভিহিত করেছেন ।

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনায় শিক্ষাকে এতটা গুরুত্ব দিয়েছেন যে, তিনি শিক্ষার মাধ্যমে আদর্শ রাষ্ট্রের অভিভাবক বেছে নিয়েছেন এবং উৎপাদক শ্রেণির জন্য তাদের কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করে ন্যায়ধর্মের আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্রের নাগরিকরা যদি শিক্ষিত হয় তবে তারা অতি সহজেই সকল সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে এবং সুদৃঢ়চিত্তে যেকোনো অবস্থার মোকাবিলা করতে সমর্থ হবে।

তাই তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেছেন, “রাষ্ট্র প্রথমত ও মূলত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।” তেমনি মানবকূলের মধ্যে দার্শনিক প্রভুরাই সর্বশ্রেষ্ঠ।” আর দার্শনিক প্রভু গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষা। শিক্ষার মাধ্যমেই নাগরিকের চারিত্রিক গুণাবলির সম্যক পরিস্ফুটন, রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও সংহতি স্থাপিত হয়।

শিক্ষার উদ্দেশ্য প্লেটো শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাষ্ট্র গঠন। তিনি ব্যক্তিকে তার পরিপূর্ণ সত্তায় বিকশিত করা ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তার নির্ধারিত ভূমিকা পালনে উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

তিনি মনে করেন, একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই দার্শনিক রাজার সন্ধান পাওয়া সম্ভব। প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর : মানবজীবনের বয়সের

স্তরভেদে প্লেটো তার শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রধান দুটি স্তরে বিভক্ত করেন। যথা : ক. প্রাথমিক শিক্ষা এবং খ. উচ্চতর শিক্ষা ।
নিম্নে এগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

ক. প্রাথমিক শিক্ষা (Primary Education) : প্লেটোর মতে, মানুষ তার জীবনের প্রথম স্তরে থাকে কল্পনাপ্রবণ, ভাবপ্রবণ ও সৌন্দর্যপ্রিয়। তার মতে, প্রাথমিক শিক্ষার বয়স হবে শৈশব থেকে ২০ বছর পর্যন্ত প্লেটো প্রাথমিক শিক্ষাকে আবার তিনটি উপবিভাগে বিভক্ত করেন যথা :

১. প্রথম ভাগ : শিশুর অপরিণত মানসিক বৃত্তিগুলো বিকশিত করার জন্য প্লেটো সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের সময়সীমা হলো শৈশব থেকে ছয় বছর পর্যন্ত।

২. দ্বিতীয় ভাগ : প্লেটো প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষার দ্বিতীয় ভাগের সময়সীমা হলো ৬ থেকে ১৮ বছর। এসময়ে প্রাথমিক গণিত, সংগীত ও সাহিত্য শিক্ষা দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে শিশুরা আত্মসংযম, শৃংখলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করবে।

৩. তৃতীয় ভাগ : প্লেটো ১৮-২০ এই দু বছর শরীরচর্চা ও সামারিক শিক্ষায় অতিবাহিত করার পরামর্শ প্রদান করেন । তার মতে, এ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো দেহকে সুস্থ সবল ও সুসংগঠিত করে গড়ে তোলা ।

নির্বাচনি পরীক্ষা : প্রাথমিক শিক্ষার সমাপনীতে একটি বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় যারা উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে কেবলমাত্র তারাই উচ্চ শিক্ষার জন্য মনোনীত হবে।

খ. উচ্চতর শিক্ষা (Higher Education) : প্লেটো উচ্চ শিক্ষার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে । তবে এ সময়ের শিক্ষাকে বয়সানুসারে প্লেটো তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন নিম্নে এগুলো আলোচনা করা হলো-

১. প্রথম স্তর (২০-৩০ বছর) : ২০ থেকে ৩০ বছর অর্থাৎ এ ১০ বছর প্রথম স্তরের বিস্তৃতি। প্লেটোর মতে, এ স্তরে শিক্ষার্থীকে উচ্চতর গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং সংগীত শিক্ষা প্রদান করা হবে। অতঃপর ৩০ বছর সময়ে একটা নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে যারা কৃতকার্য হবেন তারা পরবর্তী শিক্ষা লাভের সুযোগ গ্রহণ করবে এবং অকৃতকার্যরা সরকারের অধঃস্তন পদে নিযুক্ত হবেন ।

২. দ্বিতীয় স্তর (৩০-৩৫ বছর) : ৩০-৩৫ বছর সময়কে উচ্চশিক্ষার ২য় স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ স্তরে শিক্ষার্থীকে উচ্চতর দর্শন অধিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা শেখানো হবে। এর আগে উচ্চতর দর্শন শিক্ষা দেওয়া হবে না। কারণ দার্শনিক জ্ঞান অর্জনে এ সময়কালই উত্তম সময়। এদের মধ্য থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করা হয় । যারা ভবিষ্যৎ দার্শনিক শাসকরূপে আবির্ভূত হয় ।

৩. তৃতীয় স্তর (৩৫–৫০) : ৩৫ থেকে ৫০ বছর এই ১৫ বছর সময়কে উচ্চ শিক্ষার তৃতীয় স্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীগণ ব্যবহারিক ও বাস্তব শিক্ষা গ্রহণ করবে। এ সময়কে শিক্ষানবিশ কালও বলা যায়। এ সময়ে সরকারি বিভিন্ন কাজের সাথে সংযুক্ত হয়ে অভিজ্ঞতাপ্রসূত ও বাস্তব শিক্ষা অর্জন করতে হবে। এবং দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হবে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্লেটো অভিভাবক শ্রেণির জন্য সমগ্র জীবনব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তবে এ শিক্ষাব্যবস্থা হবে সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত।

সুতরাং বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে যারা পরম জ্ঞানলাভ করবে তাদের মধ্য থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উত্তম ব্যক্তি মনোনীত হবেন। মনোনীত দার্শনিকগণ তাদের অর্জিত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সুশাসন কায়েম করবে। এর ফলে দার্শনিক রাজার শাসন কায়েম হবে এবং প্লেটো বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি, প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর PDF

০৭. প্লেটোর শিক্ষা পরিকল্পনার পরিচয় দাও। এটি কি বর্তমানেও গ্রহণযোগ্য?
অথবা, প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার বর্ণনা কর। আধুনিককালে এর প্রযোজ্যতা ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : ভূমিকা : প্লেটোর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের মূলভিত্তি হলো তার শিক্ষাব্যবস্থা। মানব প্রকৃতি গঠন এবং সংঘবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের সহায়ক হিসেবে বিশ্বনন্দিত গ্রিক দার্শনিক প্লেটো শিক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাকেন্দ্র একাডেমিতে বসে যেসব গ্রন্থ রচনা করেন তার মধ্যে ‘দ্যা রিপাবলিক’ অন্যতম। তিনি তার গ্রন্থে প্রজ্ঞাবান দার্শনিক গড়ে তোলার জন্য এক মহান ও যুগান্তকারী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন । প্লেটো তার ‘ঞযব জবঢ়ঁনষরপ’ গ্রন্থে শিক্ষা নিয়ে এতোটা ব্যাপক ও বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেছেন যে, মনীষী রুশো একে শিক্ষাবিষয়ক গ্রন্থ বলে অভিহিত করেছেন ।

প্লেটোর শিক্ষাতত্ত্ব : গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনায় শিক্ষাকে এতটা গুরুত্ব দিয়েছেন যে, তিনি শিক্ষার মাধ্যমে আদর্শ রাষ্ট্রের অভিভাবক বেছে নিয়েছেন এবং উৎপাদক শ্রেণির জন্য তাদের কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করে ন্যায়ধর্মের আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন,

রাষ্ট্রের নাগরিকরা যদি শিক্ষিত হয় তবে তারা অতি সহজেই সকল সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে এবং দৃঢ়চিত্তে যেকোনো অবস্থার মোকাবিলা করতে সমর্থ হবে। তাই তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেছেন, “রাষ্ট্র প্রথমত ও মূলত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।”

তেমনি মানবকুলের মধ্যে দার্শনিক প্রভুরাই সর্বশ্রেষ্ঠ।” আর দার্শনিক প্রভু গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষা। শিক্ষার মাধ্যমেই নাগরিকের চারিত্রিক গুণাবলির সম্যক পরিস্ফুটন, রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও সংহতি স্থাপিত হয়।

প্লেটোর শিক্ষাতত্ত্বের বিভিন্ন স্তর : মানবজীবনের বয়সের স্তরভেদে প্লেটো তার শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রধান দুটি স্তরে বিভক্ত করেন । যথা : ক. প্রাথমিক শিক্ষা এবং খ. উচ্চতর শিক্ষা । নিম্নে এগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—

ক. প্রাথমিক শিক্ষা (Primary Education) : প্লেটোর মতে, মানুষ তার জীবনের প্রথম স্তরে থাকে কল্পনাপ্রবণ, ভাবপ্রবণ ও সৌন্দর্যপ্রিয়। তার মতে, প্রাথমিক শিক্ষার বয়স হবে শৈশব থেকে ২০ বছর পর্যন্ত প্লেটো প্ৰাথমিক শিক্ষাকে আবার তিনটি উপবিভাগে বিভক্ত করেন । যথা :

১. প্রথম ভাগ : শিশুর অপরিণত মানসিক বৃত্তিগুলো বিকশিত করার জন্য প্লেটো সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের সময়সীমা হলো শৈশব থেকে ছয় বছর পর্যন্ত।

২. দ্বিতীয় ভাগ : প্লেটো প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষার দ্বিতীয় ভাগের সময়সীমা হলো ৬ থেকে ১৮ বছর। এসময়ে প্রাথমিক গণিত, সংগীত ও সাহিত্য শিক্ষা দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে শিশুরা আত্মসংযম, শৃংখলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করবে।

৩. তৃতীয় ভাগ : প্লেটো ১৮-২০ এই দু বছর শরীরচর্চা ও সামারিক শিক্ষায় অতিবাহিত করার পরামর্শ প্রদান করেন। তার মতে, এ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো দেহকে সুস্থ সবল ও সুসংগঠিত করে গড়ে তোলা ।

খ. উচ্চতর শিক্ষা (Higher Education) : প্লেটো উচ্চ শিক্ষার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তবে এ সময়ের শিক্ষাকে বয়সানুসারে প্লেটো তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন নিম্নে এগুলো আলোচনা করা হলো—

১. প্রথম স্তর (২০–৩০ বছর) : ২০ থেকে ৩০ বছর অর্থাৎ এ ১০ বছর প্রথম স্তরের বিস্তৃতি। প্লেটোর মতে, এ স্তরে শিক্ষার্থীকে উচ্চতর গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং সংগীত শিক্ষা প্রদান করা হবে ।

২. দ্বিতীয় স্তর (৩০-৩৫ বছর) : ৩০-৩৫ বছর সময়কে উচ্চশিক্ষার ২য় স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ স্তরে শিক্ষার্থীকে উচ্চতর দর্শন অধিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা শেখানো হবে ।

৩. তৃতীয় স্তর (৩৫–৫০) : ৩৫ থেকে ৫০ বছর এই ১৫ বছর সময়কে উচ্চ শিক্ষার তৃতীয় স্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীগণ ব্যবহারিক ও বাস্তব শিক্ষা গ্রহণ করবে। এ সময়কে শিক্ষানবিশ কালও বলা যায়।

আধুনিক রাষ্ট্রে প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার প্রযোজ্যতা : সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য না হলেও আংশিক হলেও প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা বা প্রযোজ্যতা বর্তমানকালেও পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো—

১. রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা : প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা। প্লেটো বিশ্বাস করতেন “প্রত্যেক জ্ঞানের লক্ষ্য থাকবে সম্পূর্ণতাকে জয় করা।

তাই শিক্ষাব্যবস্থা সরকার নিয়ন্ত্রিত হওয়া আবশ্যক। তা না হলে শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য অর্জিত হবে না।” বর্তমানেও বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করছে। বিশেষ করে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে এই ব্যবস্থা অতিমাত্রায় লক্ষণীয়।

২. বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রে যে শিক্ষনীতির কথা উল্লেখ করেন তাতে সমাজের সকল স্তরে বিশেষ করে শিশুজীবন থেকে নাগরিকত্বের উচ্চ ধাপ পর্যন্ত শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছেন। যা আধুনিক শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবে অনেক দেশেই প্রচলিত। এমনকি বাংলাদেশেও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৩. সুনাগরিক গড়ে তোলা : প্লেটোর শিক্ষার মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ শাসক ও সুনাগরিক গড়ে তোলার মাধ্যমে আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আধুনিক বিশ্বের সকল দেশেরই সুনাগরিক গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

৪. নারীর অধিকার : প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থায় নারী ও পুরুষ উভয়ের সামাজিক অধিকার স্বীকৃত ছিল। আধুনিককালে লক্ষ করা যায় যে, নারী পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। অর্থাৎ প্লেটো প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে নারী শিক্ষার ওপর যে গুরুত্বারোপ করেন আধুনিককালেও তা লক্ষণীয় ।

৫. শিক্ষার স্তরায়ন : প্লেটো প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা মূলত দু ভাগে বিভক্ত ছিল। যথা : প্রাথমিক শিক্ষা এবং উচ্চতর শিক্ষা। যা আধুনিক বিশ্বের অনেক দেশেই অনুসৃত হয়েছে। বাংলাদেশেও এর গ্রহণযোগ্যতা পরিলক্ষিত হয়।

৬. প্রাথমিক স্তর প্লেটো: তার শিক্ষাব্যবস্থার প্রাথমিক স্তরে সংগীত, ব্যায়াম ও শরীরচর্চাকে গুরুত্ব দিয়েছেন বর্তমানকালেও প্রাথমিক শিক্ষায় অনুরূপ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

৭. শরীর চর্চা “সুন্দর ও সুগঠিত দেহ নির্মল মনের আবাসভূমি।” তাই প্লেটো শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক উন্নতির জন্য ব্যায়াম বা শরীর চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শরীর চর্চার মূল উদ্দেশ্য দেহকে সুস্থ ও সবল রাখা, যা আধুনিক বিশ্বের প্রত্যেক ব্যক্তিই পতিপালন করে থাকেন।

৮. সংগীত শিক্ষা : মানসিক উৎকর্ষের জন্য সংগীতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্লেটো বিখ্যাত কবিতা, কাব্যসমূহের পাঠ এবং এদের যথার্থ ব্যাখ্যা এবং বীণা বাজানোকে সংগীতের অন্তর্ভুক্ত করেন। আধুনিককালেও মানুষের মানসিক বিকাশ ও মননে সংগীত শিক্ষার প্রচলন রয়েছে।

৯. ধর্মনিরপেক্ষতা : প্লেটো শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে ধর্মবর্ণের .কোনো ভেদাভেদ ছিল না। তিনি রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলেন। বর্তমান কালের প্রতিটি দেশেই এই পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে।

১০. সদগুণই জ্ঞান : আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে প্লেটো উপলব্ধি করেছেন সদগুণই জ্ঞান। তিনি প্রজ্ঞাবান দার্শনিক গড়ে তোলার জন্য এক মহান ও যুগান্তকারী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তারই সূত্র ধরে বর্তমান সময়ে শিক্ষাকে আরও বেশি গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

১১. শিক্ষার উপকরণ : প্লেটো তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ঞযব জবঢ়ঁনষরপ’ এ শিক্ষার উপকরণ হিসেবে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বর্তমানকালেও তা প্রযোজ্য। যেমন— গণিত, সাহিত্য, সংগীত, শরীরচর্চা, জ্যোতিষশাস্ত্র প্রভৃতি ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্লেটো বর্ণিত শিক্ষাব্যবস্থা তৎকালীন গ্রিক নগররাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট সামঞ্জস্যতা রয়েছে।

মানবপ্রকৃতি গঠন এবং সুসংঘবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের সহায়ক হিসেবে তিনি শিক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। এককথায় প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থা এর মৌলিকত্বের জন্য কালোত্তীর্ণ হয়েছে এবং আধুনিককালেও তা সমাদৃত ও অনুসৃত হচ্ছে।

দার্শনিক প্লেটোর ন্যায় শিক্ষা সম্বন্ধে এত মৌলিক গবেষণা অন্য কোনো দার্শনিকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এজন্য আধুনিক কালে প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অত্যধিক ।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি, প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর PDF

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *