রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি লক: রচনামুলক প্রশ্নোত্তর (ফ্রি PDF)

রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি লক: রচনামুলক প্রশ্নোত্তর (ফ্রি PDF) ও রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি লক: রচনামুলক প্রশ্নোত্তর (ফ্রি PDF) সহ শিক্ষমূলক সকল বিষয় পাবে এখান থেকে: অধ্যায় ৫.৭ : লক (ফ্রি PDF) রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি লক: রচনামুলক প্রশ্নোত্তর, এর অতিসংক্ষিপ্ত, প্রশ্নোত্তর,সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও

রচনামূলক প্রশ্নোত্তর, সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি লক: রচনামুলক প্রশ্নোত্তর (ফ্রি PDF)

বাকী অংশ পড়তে ক্লিক করুণ

অনার্স প্রথম বর্ষ
বিষয়ঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি
অধ্যায় ৫.৭ : লক
বিষয় কোডঃ ২১১৯০৯

গ-বিভাগঃ রচনামুলক প্রশ্নোত্তর

০১. রাষ্ট্রদর্শনে জন লকের অবদান আলোচনা কর ।
অথবা, রাষ্ট্রচিন্তায় জন লকের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর ।

উত্তর : ভূমিকা : সপ্তদশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন জন লক। যার হাত ধরে আধুনিক গণতন্ত্রের জন্ম লাভ করে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ “Two Treatises on Civil Government” গ্রন্থে তার রাজনৈতিক দর্শনের পরিচয় পাওয়া যায়।

এ গ্রন্থে তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাবলি বিষয়গুলোকে এক বাস্তবমুখী রূপদান করেছে। তার রাজনৈতিক দর্শনে ফুটে উঠেছে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, সাংবিধানিকতা, ধর্মীয় সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক চেতনা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ প্রভৃতি বিষয়গুলো।

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় জন লকের অবদান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জন লকের রাষ্ট্রদর্শনের অবদান অপরিসীম কেননা তার হাত ধরেই গণতন্ত্র নামক শাসনব্যবস্থার জন্ম হয় নিম্নে রাষ্ট্রদর্শনে তার অবদান আলোচনা করা হলো-

১. যুক্তিবাদী দার্শনিক : জন লক ছিলেন একজন যুক্তবাদী দার্শনিক। তিনি মনে করতেন এ পৃথিবীর সমগ্র কিছু এবং তার বিভিন্ন সংগঠন মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ তাদের কল্যাণে সৃষ্টি হয়নি।

ব্যক্তিজীবনে কল্যাণ আনয়ন এবং সমস্যা সমাধানে যুক্তি বা চিন্তার কোনো বিকল্প নেই। যুক্তির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে তিনি বিশ্বাস করতেন। তার Two Treatises on Civil Government” গ্রন্থে অসংখ্য যুক্তির মাধ্যমে মানুষের কল্যাণকর শাসনের রূপরেখা তুলে ধরেন।

২. প্রাকৃতিক অধিকার তত্ত্ব : জন লকের রাষ্ট্রদর্শনের অন্যতম দিক হলো প্রাকৃতিক অধিকার তত্ত্ব (Doctrin of Natural Rights). তিনি প্রাকৃতিক অধিকার তত্ত্বের মাধ্যমে মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারকে মানুষের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র অধিকার বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উচিত এসব অধিকার নিশ্চিত করা কেননা এসব অধিকার জীবনের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

৩. দায়িত্বশীল শাসনের প্রবক্তা : জন লক দায়িত্বশীল শাসনের প্রবক্তা ছিলেন । তিনি মনে করতেন সরকার জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তাদের জানমালের জিম্মাদার হবে ।

আর সরকার এ কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়ী থাকবে । যদি তারা এ কাজ পালনে ব্যর্থ হয় তবে জনগণ সরকারের উৎখাত ঘটাতে পারবে। লক তার এ তত্ত্বের মাধ্যমে মূলত স্বৈরাচারী সরকারের পতন এবং গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন ।

৪. সংসদীয় গণতন্ত্রের জনক : জন লক ছিলেন আধুনিক সংসদীয় গণতন্ত্রের জনক। তিনি বিশ্বাস করতেন, সরকারের ক্ষমতার মূলভিত্তি হচ্ছে জনগণের সমর্থন ও গণসম্মতি।

যে সরকারে জনগণের সমর্থন নেই তাকে তিনি স্বৈরাচারী সরকার বলে আখ্যায়িত করেন । এছাড়াও তিনি আইন বিভাগকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেন। তার মতে, “প্রত্যেকটি কমনওয়েলথের মধ্যে আইন বিভাগের ক্ষমতাই সর্বোচ্চ।” এভাবে তিনি সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।

৫. সম্পত্তি তত্ত্ব : জন লক যেসব তত্ত্বের কথা বলেছেন তার মধ্যে ‘সম্পত্তি তত্ত্ব’ বা ‘ঞযবড়ৎু ড়ভ চৎড়ঢ়বৎঃু’ অন্যতম তিনি জনগণের সম্পত্তি লাভের অধিকারকে প্রাকৃতিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “সম্পত্তি লাভের মাধ্যমে পরিচিতি প্রসারিত হয়।”

এ সম্পর্কে অধ্যাপক গেটেল বলেন, Property came first and was the most important Locke believed that the right of property include the right of a man to his person and this was the bans of his life and liberty.”

৬. সাম্যবাদের প্রবর্তক : জন লক ছিলেন সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারিগর। স্বাধীনতা এবং অধিকার হতে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। অনেকে তাকে উদারতাবাদের আত্মা বলেও আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সব মানুষের সমতায় বিশ্বাস করতেন। যার কারণে তাকে সাম্যবাদের প্রবক্তা হিসেবে মনে করা হয়।

৭. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: ইংরেজ দার্শনিক জন লকই ক্ষমতা স্বতস্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা তিনি বিশ্বাস করতেন সরকারের তিন ধরনের কাজের জন্য তিন ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষের দরকার।

কিন্তু একই মানুষের মধ্যে এ ত্রিবিদ যোগ্যতা পরিলক্ষিত হয় না। তিনি মনে করতেন, যদি একই ব্যক্তির ওপর আইন প্রণয়ন ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে মানুষ তার চারিত্রিক দুর্বলতার কারণে এ ক্ষমতাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে।

৮. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ : ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন জন লক। ব্যক্তিজীবনে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বিধান ও নিরাপত্তা, স্বাধীনতা প্রভৃতি বিষয় নিশ্চিত করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই তার যাবতীয় চিন্তা বা কাজ পরিচালিত হয়েছে। আর এসব কারণেই তিনি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

৯. ধর্মীয় সহনশীলতা : ধর্মীয় সহনশীলতা তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। লকের মতে ধর্মীয় ব্যাপারে রাষ্ট্রের কোনোকিছু করার নেই। তিনি মনে করতেন,

ঈশ্বরের উপাসনা পরকালের পরিত্রাণের উপায়মাত্র এবং সেজন্যই এটি রাষ্ট্রের এখতিয়ার বহির্ভূত গির্জার মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয় পরিচালিত হবে এবং রাষ্ট্র গির্জা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এভাবে তিনি এক ধরনের ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেছেন যা আধুনিক গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

১০. সরকার গঠনের গুরুত্ব : জন লক জনগণের নিরাপত্তা লাভের স্বার্থে সরকার গঠনে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সরকার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বদা সচেতন থাকবে এবং নিরাপত্তা বিধানের নিশ্চয়তা প্রদান করবে। আর এ সরকার পরিচালিত হবে মানুষের তৈরি নির্ধারিত আইন দ্বারা। এভাবে তিনি সরকার গঠনে গুরুত্বারোপ করেন।

১১. সম্মতি তত্ত্ব : জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে সরকার গঠিত হবে। যে সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন নেই, সে সরকারের আনুগত্য করা বৈধ নয়। কেননা সে সরকার হয় রাজতান্ত্রিক না হয় স্বৈরাচারী সরকার, তারা জনগণের নির্বাচিত সরকার নয় । এজন্য তিনি গণসম্মতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সরকারের সমর্থন করেন এবং অন্যান্য পদ্ধতির বিরোধিতা করেন।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জন লকের রাষ্ট্রদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম এবং তার রাষ্ট্রদর্শন পরবর্তী যুগের বহু দার্শনিক ও রাজনৈতিক ঘটনাকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করছে।

রুশো, মন্টেস্কু প্রমুখ ছিলেন তার ভাবশিষ্য। অধ্যাপক গেটেলের মতে, “The influence of Locke on later writers was extensive” French Hugents and the Dutch adopted many of his doctrines. Mentesquieu made Locke’s separation of powers the main idea in his work. Locke theories were developed by Rousseau.” এভাবে জন লক তার কর্মের মাধ্যমে পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন ।

০২. জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদটি আলোচনা কর ।
অথবা, জন লকের সামাজিক চুক্তি ধারণাটি বর্ণনা কর ।

উত্তর : ভূমিকা : জন লক ছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী দার্শনিক। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ”Two Treatises on Civil Government’ গ্রন্থে মূলত লকের দর্শনের সামগ্রিক বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।

আর এ গ্রন্থেই তার সামাজিক চুক্তির সারগর্ভ আলোচনা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃতির রাজ্যে যদিও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল এবং প্রকৃতির আইন মেনে চলতো, তবুও প্রাকৃতিক আইন ভঙ্গের কারণে শাস্তি দেওয়ার কেউ ছিল না এবং আইন ব্যাখ্যা করার মতোও কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না।

জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ : ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জন লক তার বিখ্যাত গ্রন্থ Two Treatises on Civil Government” এ চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করেন, যা দার্শনিক জগতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। লকের সামাজিক চুক্তি বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের এর কারণ ও প্রকৃতির রাজ্য ((State of Nature) সম্পর্কে জানতে হবে।

জন লকের প্রকৃতির রাজ্য : লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ আলোচনায় প্রকৃতির রাজ্যের আলোচনা অপরিহার্য। জন লকের মতে প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ ছিল স্বাধীন ও প্রকৃতির আইন দ্বারা মানুষ পরিচালিত হতো।

লকের ভাষায়, “প্রকৃতির রাজ্য হচ্ছে শান্তি, শুভেচ্ছা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষার রাজ্য।” এখানে মানুষ স্বাধীনভাবে সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারত।

সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতা থাকলেও কতকগুলো অসুবিধা তাদের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতো। যেমন- প্রকৃতির রাজ্যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তি দেওয়ার মতো কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না।

এমতাবস্থায় মানুষ এসব সমস্যা দূর করার জন্যই সামাজিক চুক্তিতে আবদ্ধ হলো। লকের মতে, “I easily grant that civil government is the proper remedy for the inconvenience of the state of nature.”

সামাজিক চুক্তির কারণসমূহ : জন লক মনে করেন, প্রকৃতির রাজ্যে সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ রাষ্ট্র গঠনে আগ্রহী হয় এবং সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে তা গঠন করে। জন লকের মতে, প্রধানত তিনটি কারণে সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং কারণসমূহ নিম্নরূপ :

১. নিরপেক্ষ বিচারকের অভাব: প্রকৃতির রাজ্যে যেকোনো বিবাদের বিচারকের দায়িত্ব নিজেরাই পালন করতো। বিচারকগণ নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য ন্যায়বিচারকে উপেক্ষা করতো। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ বা তৃতীয় পক্ষের দরকার ছিল। কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে এ ধরনের নিরপেক্ষ বিচারক ছিল অনুপস্থিত যা তাদের সামাজিক চুক্তিতে আসতে সহায়তা করে ।

২. আইনের অস্পষ্টতা : প্রকৃতির রাজ্যে আইন ছিল অস্পষ্ট। প্রাকৃতিক আইন সুস্পষ্ট ও যুক্তি দ্বারা পরিচালিত না হওয়ায় এ আইন ছিল অস্পষ্ট। আইনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় মানুষ নিজের মতো করে আইনের ব্যাখ্যা করতেন।

৩. ন্যায়বিচারের অভাব : প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার ছিল না। যার কারণে মানুষ নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারত না। মানুষ তার ইচ্ছামতো বিচার করতো আর স্বার্থসিদ্ধি করতো। এর ফলে প্রকৃতির রাজ্যে ন্যায়বিচারের অভাবজনিত কারণে চুক্তির মাধ্যমে সমাজ গঠন করতে বাধ্য হয়।

৪. সামাজিক চুক্তির প্রকৃতি : জন লকের মতে, দুটি চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতির রাজ্য থেকে আধুনিক সমাজব্যবস্থায় প্রবেশ করে।

প্রথমত : প্রথম চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে এক ধরনের চুক্তি করে। যার মাধ্যমে এতদিন প্রকৃতির রাজ্যে প্রাকৃতিক আইনের ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নের যে অধিকার তারা ভোগ করতো তা এখন থেকে রাষ্ট্র বা সম্প্রদায়ের নিকট হস্তান্তর করে। এভাবে রাষ্ট্র নামক সংগঠনের জন্ম হয় ।

দ্বিতীয়ত : চুক্তি অনুযায়ী রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ। তারা তাদের নিরাপত্তাও সমাজের কল্যাণের জন্য একটি শাসনতান্ত্রিক কর্তৃপক্ষ গঠন করে উক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্পণ করে। আর এ কর্তৃপক্ষ যদি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তবে তাকে জনগণ উৎখাত করতে পারবে।

চুক্তির ফলাফল : প্রকৃতির রাজ্যে সবরকম সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিছু অসুবিধা থাকার কারণে সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাজ গঠনে বাধ্য হয়। নিম্নে এ চুক্তির ফলে যে ফলাফল পরিলক্ষিত হয় তা তুলে ধরা হলো-

১. আইনের অস্পষ্টতা দূর হয়ে সুস্পষ্ট আইন প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তৃতীয় পক্ষ বিচারক নিযুক্ত হয়।
৩. বিবাদে কোনো সবল যাতে দুর্বলকে অত্যাচার করতে না। পারে এবং সবাই যাতে ন্যায়বিচার লাভ করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয় । এভাবে সবার মতামত নিয়ে একটি সমাজ গঠন করা হলো যা প্রকৃতির রাজ্যে অনুপস্থিত ছিল ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের মাঝে বৈচিত্রতার কারণে এক ধরনের সমস্যা তৈরি হয় তা সমাধানের জন্যই মানুষ সামাজিক চুক্তিতে আবদ্ধ।

তার এ চুক্তির মাধ্যমে সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনব্যবস্থার জন্ম হয়। তাতে সংখ্যালঘুদেরও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। লকের মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষ স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের দাবিদার যা তার সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে পরিপূর্ণতা পায় ।

০৩. জন লকের সম্পত্তি সংক্রান্ত মতবাদটি আলোচনা কর।
অথবা, জন লকের সম্পত্তি তত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : ”Father of Modern Democracy’ অর্থাৎ আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জনক বলে খ্যাত সপ্তদশ শতাব্দীর অন্যতম দার্শনিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার জন লকের অন্যতম তত্ত্ব হলো

‘সম্পত্তি তত্ত্ব’ বা ”Theory of Property” জন লকের রাষ্ট্রদর্শনে এ সম্পত্তি তত্ত্বের গুরুত্ব অপরিসীম যা রাষ্ট্রচিন্তার জগতে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে।

যাই হোক, জন লকের এ সম্পত্তি তত্ত্বটি তার সমসাময়িক সমাজকে প্রভাবিত করার ফলে এ সম্পত্তি তত্ত্বে মধ্যযুগীয় সামাজিক অবস্থার বা রাষ্ট্রের চিত্র ফুটে ওঠে।

জন লকের সম্পত্তি সংক্রান্ত মতবাদ: ইংরেজ দার্শনিক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং আলোকিত যুগের অর্থনীতিবিদদের অন্যতম জন লকের ‘সম্পত্তি তত্ত্ব’ হলো রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জন লকের এ সম্পত্তি তত্ত্বটি রাষ্ট্রচিন্তার জগতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

জন লক মনে করেন, প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ সম্পত্তির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারত না বলেই রাষ্ট্রের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করে । তাদের মাঝে এ ধারণা ছিল যে রাষ্ট্র ও সরকার নিজেদের সম্পত্তিকে বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারবে।

আর এ কারণেই প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই রাষ্ট্র নামক কাঠামো গঠন করেন। এ সম্পর্কে লক বলেন, “The reason why man inter into the society is the preservation of their property.” অর্থাৎ, মানুষের রাষ্ট্রীয় সমাজব্যবস্থায় প্রবেশের মূল লক্ষ্যই ছিল সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ।

জন লকের মতে, রাষ্ট্রের মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত যেসব প্রাকৃতিক অধিকার ভোগ করতো সেগুলোর মধ্যে সম্পত্তির অধিকারই প্রধান। যার জন্য প্রকৃতি রাজ্য পরিত্যাগপূর্বক একটি রাজনৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অবধারিত হয়ে পড়ে।

ফলে প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ নিজেদের সম্পত্তির অধিকার রক্ষার জন্যই রাষ্ট্র গঠন করে। সম্পত্তি তত্ত্বের প্রভাব আলোচনা করার পূর্বে এ তত্ত্বের বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হলো যা পরবর্তীকালে তত্ত্বের প্রভাব সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা স্পষ্ট করতে সহায়ক।

১. সম্পত্তি তত্ত্বের সংজ্ঞা : জন লক তার “Two Treatises on Civil Government” নামক গ্রন্থে আলোড়িত ও সম্পত্তি, তত্ত্বের সম্পত্তি শব্দটি দ্বিবিধ অর্থে ব্যবহার করেছেন। মূলত, সম্পত্তি বলতে মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও বৈষয়িক সম্পদকে বুঝিয়েছেন

যা সংকীর্ণ অর্থে শুধু বৈষয়িক সম্পদকে বুঝিয়েছেন সম্পত্তি শব্দটি জন লক দ্বিবিধ অর্থে ব্যবহার করলেও তিনি শব্দটি ব্যাপক অর্থেই ব্যবহার করেছেন। ফলে তার এ সম্পত্তি তত্ত্বটি নিছক অর্থনৈতিক মতবাদ না হয়ে তা মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও পার্থিব সুখশান্তির সমগ্র বিষয়ে পরিব্যপ্ত হয়।

২. সম্পত্তি উদ্ভবের ধারণা : জন লক তার বিখ্যাত গ্রন্থ ”Two Treatises on Civil Government” এর ২৬ নং অনুচ্ছেদের আদিতে সম্পত্তি বলতে কিছু ছিল না বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রকৃতির সম্পত্তি ভান্ডার সবার জন্য ছিল উন্মুক্ত প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ তখন নিজেদের প্রয়োজন প্রকৃতির ভান্ডার থেকে সংগ্রহ করতো ।

যদিও এ ব্যবস্থা স্থায়িত্ব লাভ করতে পারেনি। এ সম্পর্কে অধ্যাপক স্যাবাইন ‘The right to private property arises because of labour a man extends, So to speak his own personality into the objects produced.” মূলত, প্রকৃতির রাজ্য থেকে যখনই মানুষ কোনো প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী আহরণের জন্য শ্রমশক্তি নিয়োগ করতে শিখল তখন থেকেই সম্পত্তির সৃষ্টি হয়।

৩. ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার : জন লকের মতে, ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারই হলো মানুষের ব্যক্তিগত প্রাকৃতিক অধিকার। প্রকৃতির রাজ্যের মানুষের সভ্য সমাজ বা রাষ্ট্র সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তিকে নিশ্চিত করার জন্য পারস্পরিক চুক্তির ফল। রাষ্ট্র মানুষের জীবন ব্যবস্থায় স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে থাকবে।

কেননা সম্পত্তি ভোগের অধিকার হলো মানুষের শাশ্বত, সর্বজনীন প্রাকৃতিক অধিকার বলে জন লক মত দেন। তিনি আরও বলেন, শ্রমই হলো সম্পত্তির স্রষ্টা। তাই শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত সম্পত্তিতে মানুষের অধিকার একান্তই ব্যক্তিগত এবং প্রাকৃতিক আইন অনুসারে যুক্তিসংগত।

৪. সম্পত্তির পরিমাণ ও সীমাবদ্ধতা : জন লক সম্পত্তিকে শ্রমের ফসল হিসেবে উল্লেখ করলেও সীমাহীন সম্পত্তি ভোগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা জারি করেছেন। তিনি বলেন, “সম্পত্তির পরিমাণ নির্ধারিত হয় প্রকৃতির যে আইন মানুষকে সম্পত্তির মালিকানা প্রদান করেছে তার মাধ্যমে।” তিনি বলেন, “সম্পত্তি অপচয় বা পুঞ্জীভূতকরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

যে সম্পত্তি কারো প্রয়োজনে আসে না বা উপকারে আসে না তার ওপর কারো অধিকার নেই। সম্পত্তির পরিমাণ সম্পর্কে অধ্যাপক স্যাবাইন (Prof. -Sabine) বলেন, “কোনো ব্যক্তির সম্পত্তিতে অর্থাৎ জীবন, স্বাধীনতা ও বিষয় সম্পত্তির ওপর সীমারেখা আরোপ করা যেতে পারে শুধু এর সমঅধিকার, অন্যের অনুরূপ বৈধ দাবিকে কার্যকর করার প্রয়োজনে।”

৫. লকের সম্পত্তি তত্ত্বের মূলতত্ত্ব : সাধারণত, শ্রমের মর্যাদা ও মূল্য নিরূপিত হয় তার উৎপাদিত বস্তুর মাধ্যমে। লকের মতে, শ্রমের মূল্য নির্ধারিত হয় উৎপাদিত বস্তুর মাধ্যমে। যেখানে উপযুক্ত শ্রমই বস্তুর ব্যবহারিক মূল্য বৃদ্ধি করতে সক্ষম। আধুনিক অর্থনীতিবিদগণ শ্রমের মূল্য বা শ্রমনীতির যে মৌলিক তত্ত্বের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তার মূল সূত্র লকের সম্পত্তির মূলতত্ত্বে নিহিত ছিল ।

পরবর্তীকালে জন লকের সম্পত্তি সংক্রান্ত মতবাদের প্রভাব :
জন লকের সম্পত্তি সম্পর্কিত মতবাদ সমাজ দর্শনে বিপুল প্রভাব বিস্তার করেছে। জন লকের আলোচনায় লক্ষ করা যায় যে, এ তত্ত্বটি তৎকালীন সমাজব্যবস্থাকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠে যা পরবর্তীকালেও এর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। নিম্নে জন লকের সম্পত্তি তত্ত্বের পরবর্তীকালীন প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. সম্পত্তি লাভের আকাঙ্ক্ষা : জন লক তার সম্পত্তি তত্ত্বে ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে স্বীকৃতি দেন। তিনি মনে করেন, শ্রম দ্বারা অর্জিত সম্পত্তি বৈধ, ব্যক্তি এ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে পারে। তার এ যুক্তির কারণে পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি ও হানাহানিতে রূপ নেয় ।

২. সম্পত্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি : প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ যেসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো তার মধ্যে অন্যতম ছিল সম্পত্তির অধিকার। তারপর মানুষ গ্রহণযোগ্য উপায়ে সম্পত্তি অধিকার ও ভোগ করতে পারত না।

যার কারণে তারা রাষ্ট্র নামক কাঠামো গঠন করে এবং যার অর্পিত দায়িত্ব হলো জনগণের সম্পত্তির নিশ্চয়তা বিধান করা। জন লকের মতে, “সম্পদ মানুষের পরিচয়কে প্রসারিত করে”।

অন্যদিকে, আধুনিক সমাজে অধিক সম্পত্তির প্রতি মানুষের এক ধরনের আগ্রহ বা লোভ দেখতে পাই এবং আধুনিক সরকার ব্যবস্থাও মানুষের জানমাল নিরাপত্তাদানে বদ্ধপরিকর। যেটি মানুষকে আরও বেশি সম্পত্তি লাভে সচেতন করে তুলেছে।

৩. সামাজিক শ্রেণিবিভাগ তৈরি : জন লক মনে করতেন, মানুষ শ্রমের মাধ্যমে সম্পত্তি লাভ করতে পারে এবং মালিকানা দাবি করতে পারে। এভাবে উৎপাদিত বস্তু দ্বারা শ্রমের মর্যাদা ও মূল্য নির্ধারিত হতো।

শ্রমের আলোকে সম্পত্তি লাভ হওয়ার কারণে সমাজে একশ্রেণির মানুষের সম্পত্তির পরিমাণ অধিক হারে বেড়ে যায়, আর অধিকাংশই নিম্নস্তরে থেকে যায় যা এক ধরনের সামাজিক শ্রেণি বৈষম্যের জন্ম দেয়।

৪. শ্রমের মর্যাদা দান : জন লক সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকারের মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদা দিয়েছেন। তার মতে, শ্রম দ্বারা অর্জিত হবে সম্পত্তি। লক আরও বলেন, প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের মাঝে সম্পত্তির অধিকার থাকলেও ইচ্ছামতো ব্যবহার করা

যেত না বরং ব্যক্তির শ্রমের দ্বারাই নির্ধারিত হবে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ। জন লকের এ ধারণা পরবর্তীতে সমাজতান্ত্রিক ধারণার প্রবর্তক কার্ল মার্কস গ্রহণ করে শ্রমের ভিত্তিতে সম্পদ ভোগের কথা বলেন ।

৫. সামাজিক বৈষম্যের সৃষ্টি : জন লক প্রদত্ত সম্পত্তি তত্ত্বের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদনের পরিমাণের ভিত্তিতে শ্রমের পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। তার এ নীতির কারণে পরবর্তীতে আমরা লক্ষ করি মালিকানা শ্রেণি শ্রমিকদের কম মজুরি

প্রদানের মাধ্যমে তাদের শোষণ করতো। আর এসব শ্রমিক শ্রেণি শত পরিশ্রম করেও তাদের জীবনের উন্নতি ঘটাতে পারত না । এভাবে লকের সম্পত্তি তত্ত্ব সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, জন লকের সম্পত্তি তত্ত্বের কিছু ত্রুটি ও সমালোচনা থাকলেও রাষ্ট্রীয় জীবনে এর প্রভাব অত্যধিক। তার এ তত্ত্বের মাধ্যমেই তাদের সম্পদ সম্পর্কে অধিক সচেতন ও ভোগ করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে।

জন লকের আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ সম্পত্তি তত্ত্বটি রাষ্ট্র বা সমাজ দর্শনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। এ তত্ত্বটি কেবল সাম্যবাদী ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেনি; বরং এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা করে।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন।  রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি লক: রচনামুলক প্রশ্নোত্তর (ফ্রি PDF)

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *