প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি PDF

প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি PDF: অধ্যায় ৫.১ : প্লেটো, এর অতিসংক্ষিপ্ত, প্রশ্নোত্তর,সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও রচনামূলক প্রশ্নোত্তর, সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি PDF

অনার্স প্রথম বর্ষ
বিষয়ঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি
অধ্যায় ৫.১ : প্লেটো
বিষয় কোডঃ ২১১৯০৯

গ-বিভাগঃ রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

০৮. প্লেটোর দার্শনিক রাজার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর ।
অথবা, প্লেটোর দার্শনিক রাজার গুণাবলিসমূহ উল্লেখ কর ।

উত্তর : ভূমিকা : গ্রিক রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে সে সকল রাষ্ট্রচিন্তাবিদ স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে প্লেটো অন্যতম। তিনি তার কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের গঠন বিশ্লেষণ করে দায়িত্ব শেষ করেনি; বরং এর শাসনভার কার ওপর ন্যস্ত করবেন সে ব্যপারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন।

এক্ষেত্রে প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের শাসনভার দার্শনিক রাজার হাতে তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, “যিনি সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী এবং যিনি বৈজ্ঞানিক প্রমাণসাপেক্ষে তার যুক্তি ও জ্ঞানকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম, তিনিই হলেন দার্শনিক রাজা।”

প্লেটোর দার্শনিক রাজার বৈশিষ্ট্যসমূহ : প্লেটো তার ‘দ্যা রিপাবলিক’ গ্রন্থে দার্শনিক রাজার প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য আলোচনা করতে গিয়ে কিছু গুণাবলির কথা বলেন। নিম্নে এগুলো আলোচনা করা হলো-

১. প্রজ্ঞাবান : প্লেটো বর্ণিত দার্শনিক রাজা হবেন সেই ব্যক্তি যিনি সর্বোত্তম জ্ঞানের অধিকারী ও প্রজ্ঞাবান। তিনি হবেন সত্যের উপাসক, ন্যায়ের পূজারি, সুন্দরের অনুসারী এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে সদা সর্বদা সচেষ্ট। প্লেটো মনে করতেন যতক্ষণ না রাষ্ট্রনায়ক সর্বোচ্চ জ্ঞান, প্রজ্ঞা দ্বারা সুশোভিত হবেন ততক্ষণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কল্যাণও অসম্ভব।

২. আইনের উৎস প্লেটোর মতে, দার্শনিক রাজা রাষ্ট্রের কল্যাণে যেসব কাজকর্ম করবেন এবং করার নির্দেশ দিবেন তা আইন বলে গণ্য হবে। এ আইন সমাজের সকলের মেনে চলা একান্ত কর্তব্য। এজন্যই প্লেটোর দার্শনিক রাজাকে আইনের উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।

৩. পরিবার বর্জিত : দার্শনিক রাজার কোনো পারিবারিক জীবন থাকবে না। তিনি কোনো স্থায়ী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন না। কেননা পারিবারিক মায়ামমতা তথা স্ত্রী সন্তানদের প্রতি মায়ামমতা ও ভালোবাসা দার্শনিক রাজাকে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। তাই তিনি পরিবারের বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে রাষ্ট্রের সর্বত্রই বিচরণ করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন ।

৪. যুক্তিবাদী : দার্শনিক রাজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যুক্তিবাদী চিন্তাচেতনা । প্লেটোর মতে, দার্শনিক রাজা শুধুমাত্র জ্ঞানীই হবেন না, তিনি যুক্তিবাদীও বটে। তার মতে, দার্শনিক রাজা বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে যৌক্তিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবেন।

৫. প্রখর মেধাশক্তিসম্পন্ন : প্লেটোর মতে, দার্শনিক রাজা শুধুমাত্র প্রজ্ঞাবান ও নন যুক্তিবাদীই নন তিনি প্রখর বোধশক্তি ও মেধাশক্তিসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তাই রাষ্ট্রীয় যেকোনো সংকটাপন্ন মুহূর্তে তিনি উক্ত সমস্যার বিচারবিশ্লেষণের মাধ্যমে তড়িৎ সিন্ধান্ত নিতে পারেন।

৬. কুসংস্কার থেকে মুক্ত : দার্শনিক রাজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি হলেন সকল প্রকার কুসংস্কার থেকে মুক্ত। কেননা দার্শনিকরা হলেন প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত । তাই তাদের মধ্যে কোনোরকম কুসংস্কার থাকবে না ।

৭. ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে : দার্শনিক রাজা যে নির্দেশ দিবেন তাই আইন এবং সকল নাগরিক তা মেনে চলতে বাধ্য। কেননা দার্শনিক শ্রেণি কখনো ভুল বা অন্যায় করতে পারে না। তিনি সকল প্রকার ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত।

৮. সুন্দরের পূজারি ও সত্যের অনুসারী : প্লেটোর দার্শনিক রাজা কখনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। তিনি হলেন ন্যায়বান শাসক এবং সুন্দর ও সত্যের একমাত্র উপাসক ।

৯. লোভলালসামুক্ত : প্লেটো তার দার্শনিক রাজাকে পারিবারিক ও সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। তার মতে, দার্শনিক রাজা সকল প্রকার লোভ লালসা থেকে মুক্ত থেকে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সততা ও নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করেন।

১০. নির্মল চরিত্রের অধিকারী : দার্শনিক রাজা হবেন নির্মল চরিত্রের অধিকারী। তার মধ্যে কোনো কলঙ্কের ছাপ থাকবে না । দার্শনিক রাজার চরিত্রে থাকবে সংগীতের অমিয় মূর্ছনা এবং স্বভাব হবে স্বর্গীয় দীপ্তির ভাস্কর।

১১. চরম ক্ষমতার অধিকারী : দার্শনিক রাজা তার প্রজ্ঞা বলে রাষ্ট্র শাসন করার ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করে থাকেন। তার কর্তৃত্ব কোনোকিছু দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না ।

১২. রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ কল্যাণ : প্লেটো বর্ণিত দার্শনিক রাজা ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষণিক নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য দার্শনিক রাজার শাসনকে অপরিহার্য বলে মনে করেন। তার মতে, দার্শনিক রাজা ছাড়া আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

এ লক্ষ্যে তিনি দার্শনিক রাজার উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা বলেন । তার দার্শনিক রাজার মধ্যে উত্তম রাজার সকল গুণ বিদ্যমান থাকায় আদর্শ রাষ্ট্রের শাসনভার তার হাতে অর্পণ করেন। প্লেটো বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত দার্শনিক রাজা হবেন না ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রগুলো অন্যায় থেকে পরিত্রাণ পাবে না।”

০৯. প্লেটোর সাম্যবাদ তত্ত্বটি আলোচনা কর।
অথবা, সমালোচনাসহ প্লেটোর সাম্যবাদ তত্ত্বটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ভূমিকা : পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা যার হাত ধরে সুসংবদ্ধ ও গতিশীলতা লাভ করে তিনি হলেন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো। প্লেটো তার বিখ্যাত গ্রন্থ ”The Republic’ এ আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেন তার মধ্যে ‘সাম্যবাদ’ অন্যতম।

‘সাম্যবাদ’ প্লেটোর রাজনৈতিক দর্শনের এক অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি মনে করেন সমাজে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত না হলে জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের কথা কল্পনাই করা যায় না ।

প্লেটোর সাম্যবাদ তত্ত্ব : প্লেটোর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের ধারক ও বাহক হলো দার্শনিক রাজা তথা অভিভাবক শ্রেণি আর এই অভিভাবক শ্রেণির মধ্যে যারা অধিকতর জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান তারা দেশ শাসনের ভার গ্রহণ করবে এবং সাহসীরা দেশকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে।

অভিভাবক শ্রেণির মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতা সত্ত্বেও প্লেটো তাদের কলুষিত হওয়ার সামান্যতম সুযোগ দিতে আগ্রহী নন। তাই শাসক শ্রেণিকে পারিবারিক মোহ, সম্পত্তির অধিকারসহ সকল প্রকার লোভ লালসা ও কামনাবাসনার ঊর্ধ্বে থেকে নিঃস্বার্থভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্লেটো তার সাম্যবাদের ধারণা উপস্থাপন করেন এককথায়,

শাসক শ্রেণির যথাযথ দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্লেটো অভিভাবক ও সৈন্যবাহিনীর জন্য পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিলোপের অভিমত ব্যক্ত করেন। এ ধারণাটিই প্লেটোর সাম্যবাদ হিসেবে পরিচিত। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার বলেন, “প্লেটো এক অভিনব সমাজের আবিষ্কার করেছে যেখানে শাসক পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা জলাঞ্জলি দিয়ে সাম্যবাদের কাছে নতি স্বীকার করে।’

প্লেটোর সাম্যবাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : প্লেটোর সাম্যবাদের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যই ধর্মের প্রতি আনুগত্যশীল থাকা। তাই প্লেটো তার দ্যা রিপাবলিক’ গ্রন্থে আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়ন ও ন্যায়ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য অভিভাবক শ্রেণির পার্থিব প্রবণতা ও স্বার্থান্বেষী মনোভাব পরিহার করে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি মনে করেন, একমাত্র সাম্যবাদের মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মকেন্দ্রিক চেতনা পরিবর্তিত হয়ে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক হতে পারে। প্লেটোর সাম্যবাদের প্রকারভেদ : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়ন এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হিসেবে অভিভাবক শ্রেণির জন্য দুই ধরনের সাম্যবাদের কথা উল্লেখ করেন । যথা : ক. ব্যক্তিগত সম্পত্তির উচ্ছেদ এবং খ. পারিবারিক প্রথার বিলোপ । নিম্নে এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

ক. ব্যক্তিগত সম্পত্তির উচ্ছেদ : সম্পত্তি সম্পর্কে প্লেটো এক অভিনব মতবাদ তুলে ধরেন, যা পূর্বেকার কোনো দার্শনিকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। সেটা তার সাম্যবাদ তত্ত্বে শাসক ও যোদ্ধা শ্রেণির ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপসাধন করেছেন।

তার মতে, আদর্শ রাষ্ট্রে অভিভাবক শ্রেণির কোনো অর্থসম্পদ, ধনসম্পত্তি, আয়ব্যয়, আসবাবপত্র বলতে কিছুই থাকবে না। তারা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ব্যারাকে থেকে সকল সুযোগ সুবিধা সমভাবে ভোগ করবে।

তিনি বলেন, “None should have any property of his own beyond what is absolutely necessary.” কারণ তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি মানুষকে স্বার্থান্বেষী এবং লোভী করে তোলে। মানুষ ব্যক্তিগত লোভলালসার বশবর্তী হয়ে দায়িত্ব কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তির প্রতি আসক্তি অভিভাবক শ্রেণিকে স্বার্থপর ও দুর্নীতিপরায়ণ করে।

তোলে। তাছাড়া একই ব্যক্তির হাতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত থাকলে অভিভাবক শ্রেণি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে। এজন্য প্লেটো তার সাম্যবাদ তত্ত্বে সর্বপ্রথম ব্যক্তিগত সম্পত্তির উচ্ছেদের কথা বলেন। তিনি ব্যক্তিকে তার প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেন।

খ. পারিবারিক প্রথার বিলোপ : প্লেটো তার সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠায় কেবল ব্যক্তিগত সম্পত্তির উচ্ছেদ করে ক্ষান্ত হননি তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তির পাশাপাশি পারিবারিক প্রথার বিলোপ সাধনের কথাও বলেন। তিনি মনে করেন, পরিবার তথা স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের প্রতি মায়ামমতা শাসক শ্রেণিকে স্বার্থপর করে তোলে।

এজন্য শাসক শ্রেণির কোনো পরিবার না থাকাই বাঞ্ছনীয়। প্লেটো অভিভাবক শ্রেণির শারীরিক চাহিদা পূরণের জন্য এক অভিনব পদ্ধতির কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে একটি উৎসবের আয়োজন করা হবে।

এ উৎসবে রাষ্ট্রের অভিভাবক শ্রেণির সবল ও সুস্থ নরনারীরা একত্র হবে এবং তারা পরস্পর যৌনক্রিয়ায় মিলিত হবে এবং তাদের, এ মিলনের ফলে যে সন্তানসন্ততির জন্ম লাভ করবে তারা সকল অভিভাবক শ্রেণির সন্তান তথা রাষ্ট্রীয় সন্তান হিসেবে বিবেচিত হবে।

সর্বোপরি এসব শিশুরা নারী-পুরুষ উভয়ই পারিবারিক সীমায় আবদ্ধ না থেকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে শিক্ষা গ্রহণ করবে, যা অত্যন্ত ব্যাপক ও তথ্যবহুল। এজন্য প্লেটো পরিবার প্রথা বিলোপের ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন

সমালোচনা : নিম্নে প্লেটোর সাম্যবাদের সমালোচনা উল্লেখ করা হলো-

১. অপূর্ণাঙ্গ মতবাদ : প্লেটোর সাম্যবাদ সমাজের সকল শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই প্লেটোর সাম্যবাদ একটি অসম্পূর্ণ মতবাদ হিসেবে বিবেচিত।

২. ব্যক্তিগত সম্পত্তির উচ্ছেদ : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় শুধুমাত্র অভিভাবক শ্রেণির সম্পত্তির উচ্ছেদের কথা বলেন । উৎপাদক শ্রেণি সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি । তাই প্লেটোর এই সাম্যবাদ সমালোচকদের দৃষ্টি এড়াতে পারেনি।

৩. পারিবারিক প্রথার উচ্ছেদ : প্লেটোর মতে, আদর্শ রাষ্ট্রের শাসক শ্রেণির কোনো পারিবারিক সম্পর্ক থাকবে না। মানুষের সহচর প্রবৃত্তিকে অস্বীকার করে। এজন্যই প্লেটোর ছাত্র এরিস্টটল এর বিরোধিতায় বলেন, “প্লেটো তার সাম্যবাদ আলোচনায় চিরাচরিত পারিবারিক প্রথা বিলোপের কথা বলেন, যা কখনোই কাম্য হতে পারে না।”

৪. ব্যক্তিস্বাধীনতাকে অস্বীকার : প্লেটো তার সাম্যবাদ তত্ত্বে দার্শনিক রাজার ওপর রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা অর্পণ করেছেন, যা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবিক অধিকারকে অস্বীকার করে।

৫. শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে সাম্যবাদের কথা উল্লেখ করেন তাতে সমাজের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর সাম্যবাদের আওতার বাইরে রেখে শ্রেণিবৈষম্যের সৃষ্টি করেছে।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্লেটো প্ৰদত্ত সাম্যবাদ তত্ত্ব এক সাধারণ ও সর্বাত্মকবাদী ধারণা। প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যে সাম্যবাদের কথা উল্লেখ করেন প্রায় আড়াই হাজার বছর পরও তার এই

সাম্যবাদী ধারণা আধুনিক সাম্যবাদী চিন্তাবিদদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। সুতরাং সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও প্লেটোর সাম্যবাদী ধারণা নাগরিকের জীবন ব্যবস্থা উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়ক ।

১০. প্লেটোর সাম্যবাদ ও আধুনিক সাম্যবাদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর ।
অথবা, প্লেটোর সাম্যবাদ ও আধুনিক সাম্যবাদের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যসমূহ আলোচনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় “ঞযব জবঢ়ঁনষরপ’ গ্রন্থে যেসব বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেন তাদের মধ্যে ‘সাম্যবাদ তত্ত্ব’ অন্যতম। তিনি সমাজ তথা রাষ্ট্রের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকল্পে সমাজের মানুষকে এমন একটি সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় আনতে চেয়েছেন যেখানে প্রতিটি মানুষ তার স্বাভাবিক যোগ্যতানুযায়ী কর্ম লাভের সুবিধা ভোগ করবে।

আর এটি বাস্তবায়ন করার জন্য প্লেটোর নির্দেশিত উৎপাদক শ্রেণিকে এর আওতাভুক্ত করা হয়নি। তবে আধুনিক সাম্যবাদ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করলে প্লেটোর সাম্যবাদের সঙ্গে বেশকিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

প্লেটোর সাম্যবাদ ও আধুনিক সাম্যবাদের তুলনামূলক আলোচনা : নিম্নে প্লেটোর সাম্যবাদ ও আধুনিক সাম্যবাদের মধ্যে তুলনামূলক (সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যসমূহ) আলোচনা করা হলো— সাদৃশ্যসমূহ : প্লেটোর সাম্যবাদ ও আধুনিক সাম্যবাদের মধ্যে সাদৃশ্য বা মিলসমূহ নিম্নরূপ :

১. ব্যক্তিগত সম্পত্তি : প্লেটোর সাম্যবাদ ও আধুনিক সাম্যবাদ উভয় ব্যবস্থাতেই ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপসাধনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার তথা সাম্য প্রতিষ্ঠায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

২. রাষ্ট্রীয় মালিকানা : প্লেটোর সাম্যবাদ ও আধুনিক সাম্যবাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য হলো রাষ্ট্রীয় মালিকানা। উভয় সাম্যবাদে উৎপাদন ব্যবস্থা ও সম্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানার কথা বলা হয়েছে।

৩. শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রের রূপরেখায় শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ন্যায়বিচারের কথা উল্লেখ করেন। আধুনিক সাম্যবাদীরাও শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

৪. আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় : প্লেটোর সাম্যবাদের মূল লক্ষ্য ছিল তার কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। আধুনিক সাম্যবাদ বা সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য হলো আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোর বিকাশ সাধন, যা উভয় রাষ্ট্রদর্শনের মূল লক্ষ্য।

৫. রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা : প্লেটোর সাম্যবাদ এবং আধুনিক সাম্যবাদ উভয় সাম্যবাদীরাই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন । আর এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থায় সার্বিক কল্যাণ নিহিত ।

৬. স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার : প্লেটোর সাম্যবাদ এবং আধুনিক সাম্যবাদ উভয়েই স্বার্থরক্ষার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এককথায় উভয় সাম্যবাদেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিক্ষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাকে হাতিয়ারস্বরূপ ব্যবহার করা হয়েছে।

৭. শ্রেণি সংগ্রাম : উভয় সাম্যবাদের মধ্যে পরোক্ষভাবে শ্রেণি সংগ্রামের ইঙ্গিত বিদ্যমান।

৮. ব্যক্তিস্বাধীনতার ক্ষেত্রে : প্লেটোর সাম্যবাদ এবং আধুনিক সাম্যবাদ উভয় সাম্যবাদের মধ্যেই ব্যক্তিস্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উভয় সাম্যবাদই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের ঘোরবিরোধী এবং রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একক শাসন ব্যবস্থার পক্ষপাতী।

৯. মানসিক বিকাশ : উভয় সাম্যবাদে মানুষের মধ্যে স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতাকে দূরীভূতকরণের মাধ্যমে মানবিক বিকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

১০. অসম প্রতিযোগিতা রোধ : প্লেটোর সাম্যবাদ এবং আধুনিক সাম্যবাদ উভয়ই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা রোধ করার পক্ষপাতী।

বৈসাদৃশ্যসমূহ : প্লেটোর সাম্যবাদ এবং আধুনিক সাম্যবাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য তথা পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ :

১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য : গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিভাবক শ্রেণির ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক বিলোপের মাধ্যমে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য যে প্রস্তাব পেশ করেন তাই হলো প্লেটোর সাম্যবাদ। পক্ষান্তরে, ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে উৎপাদন, ভোগ, বিনিয়োগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করাই আধুনিক সাম্যবাদ ।

২. সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে : প্লেটোর সাম্যবাদ শাসক শ্রেণির ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখানে উৎপাদক শ্রেণিকে সম্পত্তির অধিকার দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আধুনিক সাম্যবাদে ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ সাধন করে সম্পত্তিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

৩. পারিবারিক প্রথার ক্ষেত্রে : প্লেটোর সাম্যবাদে অভিভাবক শ্রেণির জন্য পারিবারিক জীবন ও বিবাহ প্রথাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু আধুনিক সাম্যবাদে পরিবার প্রথাকে উচ্ছেদের কথা বলা হয়নি । অর্থাৎ পরিবার প্রথাকে স্বীকার করা হয়েছে।

৪. রাষ্ট্রের উপাদান হিসেবে : প্লেটো মনে করতেন যে, সমাজবদ্ধ জীবনের জন্য রাষ্ট্র একটি অপরিহার্য উপাদান । তাই তিনি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকল্পে সাম্যবাদের কথা উল্লেখ করেন ।

কিন্তু আধুনিক সাম্যবাদী ধারণায় রাষ্ট্রকে শোষণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সমাজজীবনে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা হয়।

৫. উদ্দেশ্যগত পার্থক্য : প্লেটোর সাম্যবাদের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হলো শাসকের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং রাষ্ট্রীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আধুনিক সমাজের লক্ষ্য হলো শ্রেণি শোষণহীন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং সর্বহারাদের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা প্রদান করা।

৬. উৎপাদন ব্যবস্থা : প্লেটোর সাম্যবাদে উৎপাদক শ্রেণির ওপর উৎপাদনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এবং উৎপাদক শ্রেণির উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে যোদ্ধা ও অভিভাবক শ্রেণির মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর কথা বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে, আধুনিক সাম্যবাদী ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উৎপাদনের পরিবর্তে সামগ্রিক তথা রাষ্ট্রীয় উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

৭. উৎপত্তিগত দিক থেকে উৎপত্তিগত দিক থেকে প্লেটোর সাম্যবাদ তৎকালীন গ্রিক সমাজের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত। পক্ষান্তরে, আধুনিক সাম্যবাদ বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার নিরিখে উপস্থাপিত হয়েছে।

৮. শাসন ক্ষমতা : প্লেটো তার সাম্যবাদে দার্শনিক রাজার হাতে শাসন ক্ষমতা অর্পণের পক্ষে মত দেন। পক্ষান্তরে, আধুনিক সাম্যবাদে উৎপাদক শ্রেণির হাতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদানের পক্ষে মত দেওয়া হয়।

৯. সন্তানের মালিকানা : প্লেটো তার সাম্যবাদ তত্ত্বের অভিভাবক শ্রেণির জন্য রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিশেষ দিনে যৌনমিলনের ব্যবস্থা করেন। এই মিলনের ফলে যে সন্তান গর্ভে আসবে তা রাষ্ট্রের সম্পদ বলে বিবেচিত হবে। এতে সন্তানের কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকবে না। পক্ষান্তরে, আধুনিক সাম্যবাদী সমাজে স্ত্রী ও সন্তানের মালিকানা স্বীকৃত ।

১০. রাষ্ট্রীয় ঐক্য : প্লেটোর সাম্যবাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আধুনিক সাম্যবাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

১১. মর্যাদার ক্ষেত্রে : প্লেটোর সাম্যবাদ তত্ত্ব অনুসারে রাষ্ট্রীয় চূড়ান্ত শক্তি হচ্ছে দার্শনিক রাজা এবং জ্ঞানই হচ্ছে মর্যাদার ভিত্তি। আর আধুনিক সাম্যবাদে শ্রমিকই হচ্ছে সবকিছুর মানদণ্ড এবং শ্রমিক শ্রেণিরাই হচ্ছে চরম শক্তির উৎস ।

১২. ভিত্তিগত দিক : প্লেটোর সাম্যবাদ হলো একটি কাল্পনিক মতবাদ। তাই এটি বাস্তবে রূপায়িত করা অসম্ভব। কিন্তু আধুনিক সাম্যবাদ ঐতিহাসিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত।

১৩. গুরুত্বারোপের ক্ষেত্রে : প্লেটো তার সাম্যবাদে অর্থনীতি অপেক্ষা রাজনীতির ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেন। পক্ষান্তরে, আধুনিক সাম্যবাদে অর্থনৈতিক গুরুত্বই বেশি প্রাধান্য পায় ।

১৪. আন্তর্জাাতিকতাবাদ : প্লেটোর সাম্যবাদ আন্তর্জাতিকতাবাদকে অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, আধুনিক সাম্যবাদ আন্তর্জাতিকতাবাদে বিশ্বাসী ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্লেটোর সাম্যবাদের মধ্যে মিল ও অমিল উভয়ই বিদ্যমান। তবে, প্লেটোর সাম্যবাদ আধুনিক সাম্যবাদ অপেক্ষায় ততটা পূর্ণাঙ্গ ও প্রায়োগিক নয়।

প্লেটো যে সাম্যবাদের কথা বলেন তা আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরানো। আর আধুনিক সাম্যবাদ বর্তমান সমাজব্যবস্থা ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে বিকাশ লাভ করেছে।

তাই উভয় দর্শনের মধ্যে মৌলিক ও গঠনগত দিক থেকে পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে একথা অনস্বীকার্য যে. আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উভয় সাম্যবাদের গুরুত্ব অপরিসীম।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন।  প্লেটো রচনামূলক প্রশ্নোত্তর রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি PDF

 

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *