অনার্স: সেন্ট অগাস্টিন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (PDF ফ্রি)

অনার্স: সেন্ট অগাস্টিন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (PDF ফ্রি) ও অনার্স: সেন্ট অগাস্টিন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (PDF ফ্রি) সহ শিক্ষমূলক সকল বিষয় পাবে এখান থেকে: অধ্যায় ৫.২ : এরিস্টটল, এর অতিসংক্ষিপ্ত, প্রশ্নোত্তর,সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও রচনামূলক প্রশ্নোত্তর, সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

অনার্স: সেন্ট অগাস্টিন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (PDF ফ্রি)

অনার্স প্রথম বর্ষ
বিষয়ঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি
অধ্যায় ৫.৩ : সেন্ট অগাস্টিন
বিষয় কোডঃ ২১১৯০৯

খ-বিভাগঃ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

০১. মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে ধারণা দাও ।
অথবা, মধ্যযুগের রাষ্ট্রদর্শন সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ভূমিকা : রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগ একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যুগ। সাধারণত সময় ও ঘটনাপ্রবাহকে স্বতন্ত্র যুগ দিয়ে বিভাজন করা না গেলেও আলোচনার সুবিধার্থে পণ্ডিতরা রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন।

গ্রিক নগররাষ্ট্রের পতনের পর থেকে রোমান সাম্রাজ্যের উত্থান এবং পরবর্তীকালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদর্শনে মধ্যযুগের সূচনা ঘটে।

মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা : রাষ্ট্রচিন্তায় মধ্যযুগের ইতিহাস প্রায় হাজার বছরের ভাঙাগড়ার ইতিহাস। মধ্যযুগের বিভিন্ন মনীষী, রাষ্ট্র সম্পর্কে যে মতবাদ প্রদান করেছেন তাকে মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এ যুগে মানুষের চিন্তাভাবনা, জীবনরূপ খ্রিস্টীয় গির্জাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে। ধর্মীয় চিন্তাভাবনা রাষ্ট্রীয় জীবনের সব দিক নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। ফলে রাষ্ট্রচিন্তার স্বাধীন, সুস্থ ও নিরপেক্ষ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। নিম্নে মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

১. ধর্মীয় প্রভাব : মধ্যযুগের মানুষের মধ্যে যুক্তির চেয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসই প্রবলভাবে কাজ করতো। এ যুগের চিন্তাধারা খ্রিস্টধর্মের নীতি দ্বারা এমনভাবে পরিচালিত হতো যে, যেকোনো ব্যক্তি চার্চের সদস্য না হয়ে রাষ্ট্রের সদস্য হতে পারতো না।

এ সম্পর্কে অধ্যাপক স্যাবাইন বলেন, “মধ্যযুগের আকর্ষণ ছিল ধার্মিকতার প্রতি, খ্রিস্টীয় মতবাদের প্রতি যা মূলত পাপমোচনের মতবাদ, দর্শন বা রাজনীতি বিষয়ে নয়।”

২. গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ : এ যুগে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্ৰ করে গির্জার প্রধান পোপ এবং রাষ্ট্রের প্রধান রাজার মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে । খ্রিস্টধর্মের যাজকগণ নিজেদের রাজনীতিতে জড়িয়ে ফেলে।

ফলে সম্রাটগণ পোপদেরকে নিজেদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবতে শুরু করে। এ থেকেই মধ্যযুগের রাজনীতি, ধর্ম ও রাষ্ট্র ক্ষমতার কর্তৃত্ব ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও আইনের উৎস ও ব্যাখ্যা নিয়েও উভয়ের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

৩. পোপতন্ত্রের প্রাধান্য : মধ্যযুগের প্রথমদিকে পোপ তার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিউ টেস্টামেন্ট অপেক্ষা ওল্ড টেস্টামেন্টকে অধিকতর উপযোগী বলে প্রচার করায় পুরোহিত তন্ত্র বা যাজকতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

কেননা, ওল্ড টেস্টামেন্টের শিক্ষা অনুযায়ী, আইন হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার অভিব্যক্তি এবং রাজা ও কর্মচারীদের ক্ষমতা সীমিত, পোপের ক্ষমতা মুখ্য। ফলে পোপতন্ত্র ও রাজাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে ।

৪. দ্বৈত শাসনব্যবস্থা : মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। পোপ ও যাজকগণ রাষ্ট্র ও গির্জাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও অখণ্ড ব্যবস্থা বলে অভিহিত করলেও বাস্তবে সে সময় দ্বৈত শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

৫. গির্জার প্রভাব হ্রাস : মধ্যযুগের প্রথমদিকে গির্জার প্রভাব বৃদ্ধি পেতে থাকলেও এ যুগের শেষভাগে এর প্রভাব পর্যায়ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে। পোপ ও ধর্মযাজকগণ যখন এক পর্যায়ে বিলাসিতার স্রোতে গা ভাসিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই গির্জার প্রভাব হ্রাস পেতে শুরু করে এবং রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, সমগ্র মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা ধর্মকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। সে সময় মানুষের সব আচরণের মুখ্য নিয়ন্ত্রক ছিল ধর্ম। এখানে রাজনীতিকে কখনোই একটি পৃথক বিষয় বলে মনে করা হয়নি।

তাই অধ্যাপক ডব্লিউ. এ. ডানিং (W. A. Dunning)) এ সম্পর্কে যথার্থই বলেন যে, “মধ্যযুগ ছিল অরাজনৈতিক। এ যুগের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং মতবাদ ধর্মীয় বিশ্বাসের গঠন ও প্রকৃতি দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল।”

০২. রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগের শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ কর ।
অথবা, রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগের ব্যাপ্তিকাল সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর : ভূমিকা : রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগ অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ যুগ হিসেবে বিবেচিত। এ যুগের ইতিহাস হাজার বছরের ভাঙাগড়ার ইতিহাস। গ্রিক নগররাষ্ট্রের পতনের পর থেকে রোমান সাম্রাজ্যের উত্থান এবং পরবর্তীকালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদর্শনে মধ্যযুগের আবির্ভাব ঘটে।

অশিক্ষা, কুশিক্ষা, ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস এবং অজ্ঞতা সমাজব্যবস্থাকে গ্রাস করে ফেলে। এ যুগ সম্পর্কে অধ্যাপক ডব্লিউ.এ. ডানিং (W.A. Dunning) বলেন, “The middle age was unpolitical, its aspirations and ideals centered about the form and content of religious belief

রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগের শ্রেণিবিভাগ : সাধারণত সময় ও ঘটনাপ্রবাহকে একটি স্বতন্ত্র যুগ দিয়ে বিভাজন করা যায় না। তারপরেও প্রাথমিক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও পণ্ডিতরা আলোচনার সুবিধার্থে রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসকে রাজনৈতিক ধ্যানধারণার বিকাশের ভিত্তিতে বিভিন্ন যুগে বিভক্ত করেছেন।

রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে এরকম তিনটি যুগের অস্তিত্ব সর্বজনস্বীকৃত । এ তিনটি যুগ হলো— ১. প্রাচীন যুগ, ২. মধ্যযুগ ও ৩. আধুনিক যুগ। প্রাচীন গ্রিসে সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটলের আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে প্রাচীন যুগের সূত্রপাত ।

তবে ঠিক কোন সময়ে প্রাচীন যুগের শেষ এবং মধ্যযুগের শুরু তা নিয়ে দার্শনিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাধারণত ৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিম্নে মধ্যযুগের ব্যাপ্তিকাল নিয়ে বিভিন্ন দার্শনিকের অভিমত ব্যক্ত করা হলো-

অধিকাংশ দার্শনিক মনে করেন যে, দুর্র্ধষ টিউটন জাতির আক্রমণের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর পরই মধ্যযুগের সূচনা এবং পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত মধ্যযুগের বিস্তৃতিকাল অর্থাৎ গির্জার গোড়া পত্তনের সময় থেকে শুরু করে আধুনিক

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক ম্যাকিয়াভেলির আগমনের পূর্ব পর্যন্ত সময়কে রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগ বলে এ শ্রেণির দার্শনিকগণ জোরালো মত প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সি. এইচ. ম্যাক ইলওয়েন (C. H. Me Ilwain) তার ”The Growth of Political Thought in The West’ গ্রন্থে মধ্যযুগকে দুভাবে বিভক্ত করেছেন যথা :

ক. প্রাচীন মধ্যযুগ : প্রাচীন মধ্যযুগ বলতে ষষ্ঠ শতাব্দী হতে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালকে বুঝায় যখন রোম সাম্রাজ্যের ওপর গির্জার পূর্ণ কর্তৃত্ব বজায় ছিল। মধ্যযুগের প্রথম ভাগে চার্চের ক্ষমতা এতটাই ব্যাপক ছিল যে, তারা শুধু আধ্যাত্মিক ব্যাপারেই নয়, পার্থিব ব্যাপারেও একচ্ছত্র আধিপত্য দাবি করতো।

এজন্য মধ্যযুগের প্রথম দিককে চার্চের স্বর্ণযুগ বলেও অভিহিত করা হয় সেন্ট এমব্রোস, সেন্ট অগাস্টিন, সেন্ট টমাস একুইনাস, পোপ গ্রেগরি প্রমুখ ছিলেন এ যুগের বিশিষ্ট দার্শনিক ।

খ. পরবর্তী মধ্যযুগ: মধ্যযুগের পরবর্তী ব্যাপ্তিকাল ছিল চতুর্দশ শতাব্দী হতে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত যখন রাষ্ট্রের ওপর গির্জার কর্তৃত্ব চলছিল। প্রাচীন মধ্যযুগের পরবর্তী মধ্যযুগে যেসব দার্শনিক চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন তারা হলেন এলিঘিয়েরি দান্তে, মার্সিলিও অব পাদুয়া, উইলিয়াম অব ওকাম প্রমুখ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মধ্যযুগের ব্যাপ্তিকাল নিয়ে বিভিন্ন দার্শনিক ও পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণত টিউটনদের হাতে রোমান সাম্রজ্যের পতনের পর পরই এ যুগের সূচনা হয়।

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক ম্যাকিয়াভেলির আগমনের মধ্য দিয়ে মধ্যযুগের অবসান ঘটে। এ যুগে খ্রিস্টধর্মের আধিপত্যের কারণে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে ধর্মীয় চেতনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে এ যুগের রাজনীতি গির্জার খেয়ালখুশিতে পরিচালিত হয়।

০৩. মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।
অথবা, রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ কর।

উত্তর : ভূমিকা রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগ এক বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে। তবে ৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগ বলে অভিহিত করা হয়।

কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, ষষ্ঠ শতকে টিউটন উপজাতিদের হাতে পাশ্চাত্য রোম সাম্রাজ্যের পতনের সময় থেকে মধ্যযুগের সূচনা এবং ষোল শতকে জাতীয় রাষ্ট্রের উদ্ভব হওয়া পর্যন্ত সময়কে মধ্যযুগ বলে অভিহিত করা হয়।

মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্যসমূহ মধ্যযুগের বিভিন্ন মনীষী রাষ্ট্রচিন্তার সম্পর্কে যে মতবাদ প্রদান করেছেন তাকে মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা বলে অভিহিত করা হয়।

নিম্নে মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো-

১. বিশ্বজনীনতা : মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিশ্বজনীনতাবাদ। খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাবের আগেই রোমের বিশ্বসাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তৎকালীন সমগ্র সভ্যজগৎ এর আওতাভুক্ত হয়।

রোমনরা বিশ্বাস করতেন যে তাদের সাম্রাজ্য সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়েরই ফল কাজেই তা সর্বজনীন ও শাশ্বত । বস্তুত রোম সাম্রাজ্যের মাধ্যমেই গির্জা একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

২. খ্রিস্টধর্ম ও রাজনীতি : মধ্যযুগে খ্রিস্টধর্মের অসীম প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত ছিল। রোমান শাসকরা জনগণের ওপর যে আধিপত্য বিস্তার করেছিল তা বিলুপ্ত হওয়ায় খ্রিস্টধর্ম সেই স্থান দখল করে। মধ্যযুগে ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে মিলন সাধিত হয়েছিল এবং তার প্রভাব সুদীর্ঘকাল ধরে চলছিল।

৩. সামন্তবাদ : মধ্যযুগে গির্জা ও রাজার মধ্যে বিরোধ যখন চরম আকার ধারণ করে এবং প্রত্যেকে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার প্রচেষ্টা চালায় ঠিক সে সময়ে সামন্তবাদের আবির্ভাব ঘটে।

এ সময় রাজশক্তির দুর্বলতায় সামন্ত প্রভুরা ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে এবং স্ব-স্ব এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। প্রকৃতপক্ষে মধ্যযুগে শাসক বলতে সামন্ত প্রভুদের বুঝানো হতো। যা মধ্যযুগের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৪. গির্জার প্রভাব হ্রাস-বৃদ্ধি : গির্জার প্রভাব হ্রাস-বৃদ্ধি মধ্যযুগের আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মধ্যযুগে গির্জার অনুসারীরা জনগণকে সৎ ও সাধারণ জীবনযাপনের পরামর্শ দিতেন।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা নিজেরাই সরল ও সৎ জীবন প্রণালি ত্যাগ করে বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে জনগণ তাদের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে এতে গির্জার প্রভাব হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে ।

৫. অরাজনৈতিক : সমগ্র মধ্যযুগ ছিল রাজনৈতিক চিন্তার এক অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ। এ যুগে মুক্তচিন্তার যেমন অভাব পরিলক্ষিত হয় তেমনি পরিলক্ষিত হয়, অশিক্ষা, অসভ্যতা ও ধর্মীয় কুসংস্কার।

অধ্যাপক স্যবাইনের মতে, মধ্যযুগের আকর্ষণ ছিল ধার্মিকতার প্রতি, খ্রিস্টীয় মতবাদের প্রতি যা মূলত পাপমোচনের মতবাদ, দর্শন বা রাজনীতি বিষয়ক নয় ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, রাষ্ট্র ও গির্জার মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সবচেয়ে স্মরণীয় ও নাটকীয় ঘটনার যুগ হলো মধ্যযুগ। এ যুগে রাজা ও পোপের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে রাজার সাফল্য আসে এবং পোপের সম্মান হ্রাস পায়।

মূলত রোমান আইনশাস্ত্রের প্রচারের কথা বাদ দিলে গ্রিক নগররাষ্ট্রের পতনের পর থেকে আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্রের অভ্যুদয় পর্যন্ত দর্শন ছিল অরাজনৈতিক।

বিশ্বজনীনতাবাদের প্রচার, স্টোয়িক ধ্যানধারণার প্রভাব, দুই তরবারি তত্ত্ব প্রভৃতি কারণে অনেকে মধ্যযুগকে অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ বলে আখ্যায়িত করেছেন ।

০৪. গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণ কী? সংক্ষেপে আলোচনা কর।
অথবা, পোপ ও সম্রাটের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ভূমিকা : মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব। বস্তুতপক্ষে মধ্যযুগের সিংহভাগ জুড়েই ছিল দ্বন্দ্ব বা বিরোধ।

এক কথায় মধ্যযুগে গির্জা বনাম রাষ্ট্র তথা পোপ বনাম সম্রাট কেউ কারো অধীনে থাকতে চায়নি এবং প্রত্যেকে নিজস্ব সাম্রাজ্য বিস্তারে সচেষ্ট ছিল । যার কারণে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছিল।

গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণ : মধ্যযুগের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব। পোপের দাবি ছিল রাজা তার অধীনে থাকবে অনুরূপভাবে রাজার দাবি পোপ তার অধীনে থাকবে।

এমতাবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনায় পোপের কর্তৃত্ব থাকবে না রাজার প্রাধান্য থাকবে তা নিয়ে মধ্যযুগে দীর্ঘকাল ধরে সংঘর্ষ চলছিল। নিম্নে মধ্যযুগের গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. পথভ্রষ্টতা : মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তায় ধর্ম ও রাজনীতি কোনোটিই তার নিজ নিজ পথে পরিচালিত হয়নি। সম্রাট রাজকার্যে অবহেলা করে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হতো ।

গির্জার মোহন্তরা জনগণকে সৎ ও সাধারণ জীবনযাপনের পরামর্শ দিলেও নিজেরাই অসৎ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। পুরোহিতগণ এরূপ জীবনযাপনের জন্য জনগণের ওপর বিভিন্ন রকম কূটকৌশল প্রয়োগ করতো। ফলে সম্রাট যাজকদের প্রতি রুষ্ট হন । যা গির্জা ও রাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণে পরিণত হয় ।

২. গির্জার সম্পত্তি লাভ : বর্বর টিউটনদের আক্রমণের ফলে মধ্যযুগে রাজশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এসময় গির্জার পুরোহিতগণ সামন্তপ্রভুদের সাথে মিলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাগবাটোয়ারা ও । লুটতরাজে নেমে পড়ে। গির্জার পুরোহিতদের এরূপ সমৃদ্ধি অর্জনের বিষয়টি রাজারা সহজে মেনে নিতে পারেনি। ফলে উভয়ের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে।

৩. জনসচেতনতার অভাব : গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ হিসেবে সমসাময়িক কালের জনগণের অসচেতনতাকে দায়ী করা হয়। ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও নিরপেক্ষতা প্রভৃতি কারণে তখনকার জনগণ রাজনীতি সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ ছিল। এ সুযোগে রাষ্ট্র ও গির্জা উভয়ই নিজ নিজ স্বার্থ, হাসিলে বিরোধপূর্ণ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

৪. গির্জার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ : রাষ্ট্র ও গির্জার মধ্যে দ্বন্দ্বের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো গির্জার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ । এতে সম্রাট পোপদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তাদের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য আগ্রহী হন ।

৫. গির্জাকে স্বতন্ত্র করার ইচ্ছা : পোপ ও মোহান্তরা নিজেদেরকে অনেক মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক বলে মনে করতেন । তাই রাজশক্তির অধীনে থাকাকে তারা অবমাননাকর বলে ভাবতেন।

এরূপ মানসিকতা থেকে পোপ ও মোহান্তদের মধ্যে জেগে ওঠে গির্জাকে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ইচ্ছা। ফলে রাজা তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এতে শুরু হয় পোপ ও সম্রাটের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ।

৬. গির্জার ক্ষমতা হ্রাস : মধ্যযুগের প্রথমদিকে গির্জার ক্ষমতা অপ্রতিহত থাকলেও সামন্ততন্ত্রের প্রভাব ক্ষুণ্ন হওয়ার সাথে সাথে গির্জার শক্তি হ্রাস পেতে থাকে এবং রাজার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পায়।

এ সুযোগে রাজা তার কর্তৃত্ব সুসংহত করতে এবং গির্জার ক্ষমতা সংকুচিত করতে সচেষ্ট হলে রাজার সাথে গির্জার দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, গির্জা ও রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব বিরোধের মূল কারণ ছিল রাজা বা চার্চ কেউই তাদের অবস্থাতে সন্তুষ্ট ছিল না। মূলত গির্জা ও রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ছিল দুই তরবারি তত্ত্বের মূলকথা।

যার এক তরবারি থাকত রাজার হাতে যিনি পার্থিব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং অন্য তরবারি নিয়ন্ত্রণ করতেন গির্জা বা পোপ যিনি আধ্যাত্মিক জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ দুই তরবারির ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে শুরু হয় গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ।

০৫. “মধ্যযুগ ছিল মূলত অরাজনৈতিক যুগ।”— উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
অথবা, মধ্যযুগকে কেন অন্ধকার যুগ বলা হয়?— সংক্ষেপে লেখ ।

উত্তর : ভূমিকা : রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে সমগ্র মধ্যযুগ ছিল রাজনৈতিক চিন্তার জন্য এক অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ। এ যুগে মুক্তচিন্তার যেমন অভাব পরিলক্ষিত হয় তেমনি পরিলক্ষিত হয় অশিক্ষা, অসভ্যতা, বর্বরতা এবং ধর্মীয় কুসংস্কার।

এ সম্পর্কে অধ্যাপক ডব্লিউ.এ.ডানিং (W. A. Danning) বলেন, “The middle age was unpolitical, its aspirations and ideals centered about the form and content of religious belief.” অর্থাৎ, মধ্যযুগ ছিল অরাজনৈতিক, এ যুগের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং মতাদর্শ ছিল ধর্মীয় বিশ্বাসের রূপ ও প্রকৃতি দ্বারা পরিবেষ্টিত।

“মধ্যযুগ ছিল মূলত অরাজনৈতিক”- উক্তিটির ব্যাখ্যা : রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে সমগ্র মধ্যযুগ মূলত ধর্মকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। যার কারণে মধ্যযুগকে অরাজনৈতিক যুগ বলে অভিহিত করা হয়। এছাড়াও মধ্যযুগকে যেসব কারণে অরাজনৈতিক ও অসৃজনশীল বলে অভিহিত করা হয় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. ধর্মীয় বিশ্বাসে নির্ভরশীল : সমগ্র মধ্যযুগ ছিল ধর্মীয় বিশ্বাসের যুগ। যুক্তির চেয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসই ছিল মানুষের মুখ্য নিয়ন্ত্রক । এ সম্পর্কে অধ্যাপক স্যাবাইন বলেন, মধ্যযুগের আকর্ষণ ছিল ধার্মিকতার প্রতি, খ্রিস্টীয় মতবাদের প্রতি যা মূলত পাপ মোচনের মতবাদ। দর্শন বা রাজনীতি বিষয়ক নয়। তাই রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে মধ্যযুগ ছিল মূলত অরাজনৈতিক ও অসৃজনশীল ।

২. খ্রিস্টধর্মের প্রাধান্য : মধ্যযুগে খ্রিস্টধর্মের প্রভাব এত প্রকট ছিল যে, মানুষকে শুধুমাত্র বাইবেল নির্দেশিত পথে চলতে বাধ্য করা হতো। যার ফলে মানুষ ধর্মীয় গণ্ডির বাইরে চিন্তার অবকাশ পায়নি।

অধ্যাপক ডানিং এর মতে, “রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে মধ্যযুগের ইতিহাসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইউরোপে রোমান সাম্রাজ্যের বাইরেও খ্রিস্টধর্মের প্রতিষ্ঠা এবং গির্জার অগ্রগতি সাধন । ”

৩. টিউটন জাতির আক্রমণ : রোমানদের পরাজয়ের পর বর্বর জার্মান বা টিউটন উপজাতি মধ্যযুগে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে । দৈহিক দিক দিয়ে দুর্র্ধষ। টিউটনদের তেজ ও বিক্রম যদিও অতুলনীয় ছিল, তবুও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক যোগ্যতার মাপকাঠিতে রোমানদের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য ছিল । যার কারণে মধ্যযুগে সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা বিকশিত হতে পারেনি ।

৪. রাজনীতি বিষয়ক পুস্তকের স্বল্পতা : রাজনীতি বিষয়ক পুস্তকের স্বল্পতা মধ্যযুগের রাজনৈতিক চেতনা বিকাশে অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। এ সময় দু একটি রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশিত হলেও তা ছিল প্রাচীন গ্রন্থগুলোরই পুনরাবৃত্তি।

৫. রাষ্ট্রতত্ত্বের: অনুপস্থিতি দর্শন বা রাষ্ট্রতত্ত্ব সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই মধ্যযুগীয় চিন্তাধারায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বস্তুত মধ্যযুগীয় রাজনৈতিক বিষয়াদি ছিল গির্জা, রোমান সাম্রাজ্য, সামন্তবাদ এবং জাতীয়তাবাদীদের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলস্বরূপ। তাই রাজনৈতিক দর্শন ধর্মীয় ধ্যানধারণা এবং সর্বজনীন ধারণার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেনি।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মধ্যযুগের প্রথম ভাগে রাষ্ট্রচিন্তা কেবল ধর্মীয় চিন্তাচেতনার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। এমনকি এ যুগের দ্বিতীয়ার্ধেও রাষ্ট্রচিন্তা সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় প্রভাবের বাইরে ছিল না।

অর্থাৎ পার্থিব জগৎ ও রাজনৈতিক বিষয়াদির ব্যাপারে মধ্যযুগ কখনোই মাথা ঘামায়নি। ফলে সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের উত্থান, ধর্মীয় কুসংস্কার, গোঁড়ামি, ক্ষমতা লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি কারণে মধ্যযুগকে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও অরাজনৈতিক বলে আখ্যায়িত করা হয় ।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন।  অনার্স: সেন্ট অগাস্টিন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (PDF ফ্রি)

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *