অধ্যায় ৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর(PDFফ্রি)

অধ্যায় ৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর(PDFফ্রি), অধ্যায়: ৩ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত সকল কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনার্স ১ম বর্ষের যেকোন বিভাগের সাজেশন পেতে জাগোরিকের সাথে থাকুন।

অধ্যায় ৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর(PDFফ্রি)

অনার্স প্রথম বর্ষ

বিষয়ঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি

অধ্যায় ৩ : আমলাতন্ত্র

বিষয় কোডঃ ২১১৯০৭

খ-বিভাগঃ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

০১ আমলাতন্ত্র কী? অথবা, আমলাতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও ।

উত্তর : ভূমিকা : বর্তমান বিশ্বে প্রায় প্রতিটি দেশেই আমলাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা যাতে সরকারি কর্মকর্তাগণ নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে নিয়ে রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো বা সিভিল সার্ভিসে এটি এক অপরিহার্য নিয়ামক, যা সকল ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রশাসনে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ।

আমলাতন্ত্র : আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Bureaucracy। এ শব্দের উৎপত্তি ফরাসি শব্দ থেকে। ফরাসি Bureau শব্দের অর্থ ডেস্ক, টেবিল, দফতর বা অফিস। আর গ্রিক Kratia শব্দের অর্থ শাসনব্যবস্থা, সরকার বা রাজনৈতিক শক্তি।

সুতরাং Bureaucracy বলতে দফতরভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে বুঝানো হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ‘জ্যাকুইস ক্লাদে ম্যারি ভিনসেন্ট দ্য গোউনে’ সর্বপ্রথম এ শব্দের প্রচলন করেন।

আমলারা হলেন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত স্থায়ী এমন সব কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা জনপ্রতিনিধি নন অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নন। অন্যভাবে বলা যায়, আমলাতন্ত্র এমন একটি বৃহদাকার সংগঠন যাতে আমলারা পরস্পর সংযুক্ত থেকে কার্যসম্পাদন করেন। আমলাদেরকে নীতিনির্ধারণ তৈরিকারক হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা : জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) এর মতে, “Bureaucracy is a system of administration characterised by expertness impartiality and the absence of humanity” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র এমন একটি প্রশাসন ব্যবস্থা যা দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, মানবিকতার অনুপস্থিতি ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ।

এইচ. জে. লাস্কি (H. J. Laski) বলেন, “Bureaucracy is a system of government, the control of which is so completely in the hands of the officials that their power jeopardizes the liberties of ordinary citizens.” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যার নিয়ন্ত্রণ সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে এমনভাবে থাকে যে তাদের ক্ষমতা সাধারণ নাগরিকদের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে।

অধ্যাপক গার্নারের (Prof. Garner) মতে, “Bureaucracy means the civil servants, the administrative functionaries who are professionally trained for the public service and who enjoy permanency of tenure, promotion within service partly by seniority and partly by merit.

” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র মানে সরকারি বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী যারা পেশাগতভাবে পাবলিক সার্ভিসের জন্য প্রশিক্ষিত এবং যারা কর্তব্যরত হয়ে স্থায়ী মেয়াদ ও পদোন্নতি ভোগ করে। এটি নির্ধারিত হয় আংশিকভাবে জ্যেষ্ঠতা বা যোগ্যতার ভিত্তিতে।

অধ্যাপক ফাইনার (Prof. Finer) বলেন, “Civil service bureaucracy is a professional body officials parmanent, paid and skilled.” অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি ।

অ্যালমন্ড ও পাওয়েল (Almond & Powell) বলেন, “আমলাতন্ত্র হলো এমন একটি বিস্তৃত সংগঠন যার মাধ্যমে আইন প্রণয়নকারীগণ নিজেদের সিদ্ধান্তকে স্থায়ী করার চেষ্টা করেন।”

পল এইচ. অ্যাপলবি (Paul H. Appleby) এর মতে, “অসংখ্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ও কঠিন শর্তে পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে একত্র হয়ে কাজ করাকে আমলাতন্ত্র বলে।”

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট রূপে প্রশাসনিক কর্ম সম্পাদনকারীদের একটি পদ্ধতিগত সংগঠন। আর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা- কর্মচারীরাই হলেন আমলা।

সরকারের সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণ তথা উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে প্রত্যেক সদস্য একটি যৌক্তিক ও প্রধান মানের ভিত্তিতে যতটা সম্ভব অবদান রাখার চেষ্টা করে।

০২. আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর । অথবা, আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে আমলাতন্ত্র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। বর্তমানে আমলাতন্ত্র একটি অপরিহার্য সংগঠন হিসেবে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, কারণ এটি রাষ্ট্রের অপরিহার্য চালিকাশক্তি।

শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এর বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। আমলাতন্ত্রের কতকগুলো অভ্রান্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেগুলো ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রসংক্রান্ত আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য : আমলাতন্ত্রের জনক ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) আমলাতন্ত্রের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। নিম্নে সেগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-

১. পদসোপান : পদসোপানের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন ও নিম্নতম কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের ব্যাপারে পরস্পর যুক্ত থাকেন। এ অবস্থায় প্রতিটি ব্যক্তিকে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট সর্বদা দায়বদ্ধ থাকতে হয়।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার নিম্নস্থ কর্মকর্তাকে কোনো একটি কাজের আদেশ দিয়ে থাকেন। পদসোপানের ফলে সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ইত্যাদি বজায় থাকে।

২. বিশেষীকরণ : প্রশাসনিক সকল কাজ সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য আলাদা আলাদা কর্মবিভাগ থাকে। যে যেই কাজে পারদর্শী তাকে সেই কাজে নিয়োগ ও পরবর্তীতে পদোন্নতি প্রদান করা হয় । বিশেষীকরণের ফলে কোনো কাজের পুনরাবৃত্তি বা সংঘর্ষ সহজেই পরিহার করা যায়।

৩. আইনগত কাঠামো : আমলাদের আচার আচরণ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেসব প্রশাসনিক কাজের জন্য রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকের অধিকার বিপন্ন হয়, সেসব কাজের পিছনে আইনগত অনুমোদন থাকতে হবে।

আমলারা ইচ্ছা করলেই নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না। আইনগত কাঠামোর অধীনে প্রশাসনিক আইন দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

৪. নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ : লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অনুসারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। নিয়োগের পরবর্তী ধাপ হলো প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তার কাজের জন্য দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

৫. নির্ধারিত বেতন : আমলারা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত থেকে যোগ্যতা অনুসারে নির্ধারিত বেতন পেয়ে থাকেন। প্রাচীন ও মধ্যযুগে আমলাদেরকে জিনিসপত্রের মাধ্যমে বেতন দেওয়া হতো।

কিন্তু বর্তমানে নির্ধারিত বেতনের পাশাপাশি নানারকম আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়। সরকারি কোষাগারে . আর্থিক সংকট দেখা দিলেও আমলাদের বেতন কখনও বন্ধ হয় না ।

৬. স্থায়িত্ব : আমলাগণ দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ভোগ করেন। তবে একথাও সঠিক যে, কোনো আমলা সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো কিছু পাওয়া গেলে তখন তাকে ছাটাই করা হতে পারে।

৭. লিখিত নির্দেশ : ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সকল প্রশাসনিক আইনকানুন লিপিবদ্ধ করে রাখা হয় লিখিত আইন প্রশাসনকে সাধারণ জনগণের নিকট দায়বদ্ধ করে তোলে। ভবিষ্যতে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইলে এটি তখন নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে ।

৮. নিরপেক্ষতা : আমলাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর নিরপেক্ষতা। দলীয় রাজনীতির সাথে আমলাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক লাস্কি বলেন, “আমলারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।”

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলোকে যথাযথভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হলে দেশের সাধারণ মানুষ তা থেকে অনেক বেশি উপকৃত হবে। সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা প্রয়োজন।

০৩. আমলাতন্ত্রের ত্রুটি কী কী? অথবা, আমলাতন্ত্রের সমস্যা সংক্ষেপে লেখ ।

উত্তর : ভূমিকা : আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, আমলাদের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতার ওপরে অনেকটা নির্ভরশীল। আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পেলেও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অনেকে মনে করেন আমলাতন্ত্র একটি নিষ্ক্রিয় ও নিরপেক্ষ যন্ত্র। তাই যন্ত্রের সাহয্যে মানবিক সমস্যার সমাধান করা অনেকাংশে সম্ভব নয়।

আমলাতন্ত্রের ত্রুটি : আমলাতন্ত্র আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। তবুও এর কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো-

১. যান্ত্রিকতা : ম্যাক্স ওয়েবার আমলাতন্ত্রকে একটি যান্ত্রিক মডেলের সাথে তুলনা করে দেখিয়েছেন এর রীতিনীতি ও কাঠামো সহজে পরিবর্তন করা যায় না। ফলে জনগণের সুযোগ সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমলারা শুধু নিয়মমাফিক কাজ সম্পাদন করেন ।

২. দুর্বল পদসোপান নীতি : আমলাগণ স্বেচ্ছায় কোনো কাজ সম্পন্ন কতে চান না যতক্ষণ না ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোনো আদেশ প্রদান করেন। ফলে আমলাগণ অনেক ক্ষেত্রে কোনো কাজই করেন না। আমলাতন্ত্রে শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ পালন করা হয় । এখানে কাজের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না ।

৩. লাল ফিতার দৌরাত্ম্য : পূর্বনজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করাকে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বলে। আমলাগণ বিভিন্ন বিধিবিধানের দোহাই দিয়ে দ্রুত কার্যসম্পাদনে বাধা সৃষ্টি করেন। এতে কার্যসম্পাদনের গতি কমে যায় এবং জনগণের হয়রানি বৃদ্ধি পায় ।

৪. অতিআনুষ্ঠানিকতা : আমলাতন্ত্রে অতিআনুষ্ঠানিকতা এর অন্যতম প্রধান ত্রুটি। বাস্তবে আনুষ্ঠানিকতা ভালো হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমলাতন্ত্র ও আমলা উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। অতিআনুষ্ঠানিকতার কারণে আমলাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিচার ক্ষমতা কমে যায় এবং কাজের প্রতি বিরক্ত ও অবহেলা তৈরি হয় ।

৫. ক্ষমতার প্রতি লালসা : আমলারা সর্বদা ক্ষমতা, পদমর্যাদা ও কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন উন্নত দেশসমূহে আমলারা রাজনীতিবিদদের অবহেলার দৃষ্টিতে দেখেন এবং তাদের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চান।

কেননা আমলারা নিজেদেরকে রাজনীতিবিদদের চেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিত ও উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলে মনে করেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা সরকারের ব্যর্থতার প্রতি অধৈর্য হয়ে পড়েন এবং রাজনীতিবিদদের সহায়তা করতে গড়িমসি করেন।

৬. দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতা : আমলারা হলেন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাই তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নন। সেজন্য তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করেন।

আমলারা দায়িত্ব পালনে কখনও কখনও চরম অবেহেলা ও উদাসীনতা প্রকাশ করেন। সরকারি কাজে এক বিভাগের আমলা অন্য বিভাগের আমলার ওপর ব্যর্থতার দায় চাপানোর চেষ্টা করেন ।

৭. রাজনীতির অপব্যবহার : প্রশাসনকে সর্বদা রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। অন্যথায় আমলারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নিয়োগ পদোন্নতি বা অপসারণ ইত্যাদি সবকিছুই রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হচ্ছে।

৮. অনমনীয়তা আমলারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। কেননা আমলাতন্ত্রে নমনীয়তার কোনো স্থান নেই। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনেক বেশি আইন দ্বারা আবদ্ধ হওয়ার কারণে আমলারা নিজ থেকে কোনো কাজ করতে পারেন না। অথচ সাধারণ জনগণের কথা চিন্তা করে চাহিদানুযায়ী আমলাতন্ত্রের নিয়মনীতিগুলো আরও নমনীয় ও গতিশীল হওয়া জরুরি।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। তবে আমলাতন্ত্রে বেশকিছু ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে, যা তাদের দ্রুত কার্যসম্পাদনে বাধা সৃষ্টি করে এবং জনগণের প্রতি উদাসীন করে তোলে। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে একে পরিহার না করে; বরং এর ত্রুটিগুলো সংস্কার করে একে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করা যায়।

০৪. আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর। অথবা, আমলাতন্ত্রকে কেন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়?

উত্তর : ভূমিকা : আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। আইন প্রণয়ন, বিচারকার্য সম্পাদন, প্রশাসন পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নসহ আরও নানাবিধ কাজ আমলারা করে থাকে।

এত দায়িত্ব পালন করার কারণে তারা নিজেদেরকে উন্নত শ্রেণির অধিকারী হিসেবে ভাবতে শুরু করে। ফলে ক্ষমতার প্রতি লালসা, জনগণের দাবির প্রতি উদাসীনতা ও অসহনশীল মনোভাব তাদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়।

আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা : বর্তমানে আমলাদের আচার আচরণের মধ্যে কিছু দোষত্রুটি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেসব ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. ক্ষমতার প্রতি লালসা : আমলারা নিজেদের পদমর্যাদা, পদোন্নতি ও কর্তৃত্ব বজায় রাখতে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। তারা সহজে অন্যের কাছে স্বীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না। ক্ষমতা ধরে রাখার মাধ্যমে তারা প্রশাসনিক অনেক বাড়তি সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে।

২. জনগণের প্রতি উদাসীনতা : যেহেতু আমলারা নির্বাচিত নয়, সেহেতু জনগণের দাবির প্রতি তাদের খেয়াল না দিলেও চলে। তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা জনগণের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে না। ফলে তারা জনগণের দাবির প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করে। সুতরাং জনগণের নিকট আমলাদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন ।

৩. দায়িত্বহীনতা : আমলাতন্ত্র মূলত আইন দ্বারা আবদ্ধ ও কঠোর একটি ব্যবস্থা। আমলারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশের অপেক্ষায় থাকে। অন্যথায় তারা কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে না। তাই একে নমনীয় ও সহজবোধ্য করতে হবে এবং সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

৪. দীর্ঘসূত্রতা আমলারা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতির গণ্ডির বাইরে যেতে আগ্রহী নন। ফলে কর্মে দীর্ঘসূত্রতা প্রকট আকার ধারণ করে। তাই আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব হলে কর্মে দীর্ঘসূত্রতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হবে। আমলাদেরকে প্রশাসনিক মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়া জরুরি।

৫. গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান : আমলারা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের সুযোগ সুবিধার জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিপক্ষে অবস্থান করে এবং দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে চায়। এজন্য আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

৬. অসহনশীল মনোভাব : আমলারা জনগণের নিকট প্রত্যক্ষভাবে দায়ী নয়। তাই জনগণের প্রতি অসহনশীল মনোভাব প্রকাশ করে। তারা নিজেদেরকে জনগণের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষিত ও শৌখিন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করে তাই তাদের মধ্যে ঔপনিবেশিক মানসিকতা বিরাজ করে।

৭. স্বতন্ত্র শ্রেণিবোধ : আমলাতন্ত্রের আরও একটি বড় ত্রুটি হলো আমলারা নিজেদেরকে অন্যদের তুলনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদেরকে সবজান্তা ও স্বীয় পদকে বিরাট কিছু মনে করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ মানতেও দ্বিধাবোধ করে। তখন এসব আমলাদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি হয়ে পড়ে।

৮. অবৈধ হস্তক্ষেপ : রাজনীতিতে আমলাদের অবৈধ হস্তক্ষেপ ঠেকাতে হলে তাদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। কেননা তারা নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়নে জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রীদের ওপর প্রভাব খাটাতে চায়।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আমলাতন্ত্র সরকারের একটি অন্যতম সংগঠন যার মাধ্যমে সরকার তার দৈনন্দিন রুটিনমাফিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।

আমলাতন্ত্রের তথাকথিত বাড়াবাড়ি রোধপূর্বক জনস্বার্থে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কাজেই সুষ্ঠু প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমলাতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন
গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ফ্রি পিডিএফ ফাইল এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। অধ্যায় ৩:আমলাতন্ত্র লোকপ্রশাসন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর(PDFফ্রি)

Check Also

PDF অনার্স প্লেটোপাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

PDF অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও অনার্স প্লেটো:পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা, পর্ব – ১ ( প্রাচীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *